চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চার বিশ্বকাপ আর ঘটনাবহুল এক ম্যারাডোনা

‘আমি জানতাম ১৯৭৮ বিশ্বকাপ খেলতে পারবো না। অনেক কেঁদেছিলাম। এরজন্য কোনদিনও সেজারে লুইস মেনোত্তিকে (আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কোচ) ক্ষমা করতে পারবো না, তবে আমি তাকে ঘৃণাও করি না। নিজেকে আমি নতুন করে প্রস্তুত করেছি, আর জাপানে সেটাই করে দেখিয়েছি।’

কথাগুলো অভিমান নিয়ে বলেছিলেন ১৮ বছর বয়সী ডিয়েগো ম্যারাডোনা। বিশ্বকাপটা সেবার ঘরের মাঠে ছিল। তবুও তাকে দলে নেননি সেজারে লুইস মেনোত্তি। অভিজ্ঞ এ কোচের চোখে ম্যারাডোনার দোষ ছিল একটাই, অভিজ্ঞতার অভাব!

বিজ্ঞাপন

দলে না নিলেও একটা কাজের কাজ ঠিকই করেছিলেন মেনোত্তি, সেবছরই চিঠি লিখে দিলেন বার্সেলোনাকে। তরুণ উঠতি তারকার প্রশংসা করে ম্যারাডোনাকে দলে নেয়ার জন্য বার্সাকে অনুরোধ করেন মেনোত্তি। সেই অনুরোধ বার্সা রক্ষা করে ১৯৮২ সালে, দলবদলের বিশ্বরেকর্ড ৫০ লাখ পাউন্ডে বোকা জুনিয়র্স থেকে কাতালোনিয়ায় আসেন ম্যারাডোনা।

বার্সায় আসার আগেই অবশ্য নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন ম্যারাডোনা। চ্যাম্পিয়নদের সেই আসরটা যদিও ভালো যায়নি। গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। তরুণ ম্যারাডোনার ভাগ্য ছিল আরও খারাপ। জিকো-সক্রেটিসদের ব্রাজিলের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফ্লাইং কিক মেরে দেখেন লাল কার্ড। ম্যাচে ৩-১ গোলে হেরে আসরে বিদায় ঘটে চ্যাম্পিয়নদের।

ব্রাজিলের বিপক্ষে সেই লাল কার্ড

১৯৮৪ সালে আবারও দলবদলের ইতালিয়ান রেকর্ড গড়ে নাপোলিতে যোগ দেন ম্যারাডোনা। তার হাতে তুলে দেয়া হয় নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্ব তাকে করে তোলে আরও পরিণত। যার সুফল আর্জেন্টিনা ঘরে তোলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ যেন দুহাতে দিয়েছে ম্যারাডোনাকে। নয়ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিতর্কিত সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল কেন রেফারির চোখে পড়বে না? অবশ্য পরের গোলেই নিজেকে বিশ্বসেরা বানিয়েছেন তিনি, করেছেন শতাব্দীর সেরা গোলটি।

বিজ্ঞাপন

সেমিতেও জোড়া গোল করেন ম্যারাডোনা, বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ওয়েস্ট জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে তুলে ধরে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।

১৯৯০ বিশ্বকাপটাও হয়তো ম্যারাডোনার পক্ষেই হাসত। যদি না বাম হাত দিতেন রেফারি! ক্যামেরুনের কাছে হেরে শুরু, তারপরও ফাইনালে পৌঁছে যায় চ্যাম্পিয়নরা।

আগের আসরের ফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানিকে শিরোপার মঞ্চে পায় আর্জেন্টাইনরা। ম্যাচের শেষ দিকে জার্মানিকে বিতর্কিত এক পেনাল্টি উপহার দেন রেফারি, ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনার কান্না আজও হয়ে আছে ট্র্যাজেডির অপর নাম।

১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপেও ছিলেন ম্যারাডোনা। ততদিনে শরীরে জাঁকিয়ে বসেছে ড্রাগ। বাতিস্তুতাদের মতো তরুণদের নিয়ে গ্রিসের বিপক্ষে শুরুটা ছিল দারুণ। পরের ম্যাচে নাইজেরিয়াকেও তারা হারায় ২-১ গোলে।

১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে

সেটাই ছিল ম্যারাডোনার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় মাঠ থেকেই উঠিয়ে নেয়া হয় তাকে। এরপর ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা পেয়ে আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরাই হয়নি খেলাটির ঈশ্বরখ্যাত জাদুকরের।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ, ডোপ টেস্টে পজিটিভ, তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে