চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চলতি অর্থ বছরে রপ্তানি আয় হবে ৪৬ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৩৭ রপ্তানিকারক পেলেন সিআইপি কার্ড

চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয় ৪৬ বা ৪৭ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে ব্যবসায়ীদের সিআইপি (কমার্শিয়াল ইমপর্টেন্ট পারসন) কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশের রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৬ বিলিয়নেরও বেশি। আর সেবাখাত নিয়ে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর পণ্য খাত থেকে ৩৯ বিলিয়ন ডলার আর সেবা খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে মোট ৪৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৫ মাসে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ২৩৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ইতিমধ্যে রপ্তানি হয়েছে ১৭ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ৫ মাসেই লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের ঠিক একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হিসেবে বলা যেতে পারে, চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয় ৪৫ বা ৪৬ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এছাড়া রপ্তানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন আর ২০৩০ সালের মধ্যে ১শ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।

তৈরি পোশাক নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০ বিলিয়ন ১৬ কোটি ডলার। এবার ৩২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এটা আশা করি অর্জন হবে। কারণ গত জুলাই, আগস্ট ও নভেম্বর এই ৩ মাসে প্রায় ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে পোশাক খাতে। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি হয়েছে ২১ বিলিয়ন ৩৩ কোটি ডলার। এবার আরো বেশি হবে।

বর্তমান সরকার ব্যবসা বান্ধব, জনবান্ধব ও শ্রমিক বান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সময় ২০০৯ সালে শ্রমিকদের মজুরি ছিল মাত্র ১৬শ টাকা। এরপর ২ হাজার ৩শ, তারপর ৫ হাজার ৩শ। আর এখন ৮ হাজার টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বুঝতে হবে কারখানা চালু থাকলে শ্রমিকরা কাজ করতে পারবে। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকরাও বেকার হয়ে যাবে। পণ্যের দাম বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশে গিয়েছি কিন্তু পণ্যের দাম বাড়ায় না ক্রেতারা। তারউপর রানা প্লাজা ধ্বসের পর কারখানাগুলোকে সংস্কার করতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে মালিকদের।

Advertisement

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ছিলাম। খুব কাছে থেকে দেখেছি, তিনি কতটা বিচক্ষণ ছিলেন। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি দেশকে কীভাবে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিলেন।’

“সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন যে, যদি বাংলার মাটি থাকে ও মানুষ থাকে তাহলে এই শ্মশান বাংলাকে আমি সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করবো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আপনি দেখে যেতে পারলেন না। আজ আপনার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন।”

নির্বাচন উপলক্ষ্যে তিনি বলেন, দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে স্বাধীনতার চেতনার মূল্যবোধের শক্তি। যাদের নেতৃত্বে দেশ সকল খাতে এগিয়ে যাচ্ছে। আর অন্যদিকে স্বাধীনতা বিরোধীরা। এখন আপনার বিবেক ও বিবেচনা দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

এফবিসিসিআইর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটা সঠিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের কারণে আজ ব্যবসাখাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

তিনি বলেন, দেশে কয়েকটি বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমরা বলতে চাই, ব্যবসায়ীরা কোয়ালিটি সম্পন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস চায়। কারণ পণ্য সেবা গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদনে কী পরিমাণ ক্ষতি হয় তা উৎপাদনকারীরাই ভাল জানে।

ব্যবসা খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হচ্ছে সেগুলোতে কিছু বিশেষ ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হবে। সেখানে অবশ্যই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে। এক দরজায় সব সেবা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা প্রসেসিং সহজ করতে হবে। তাহলে ব্যবসা খাত থেকে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে রপ্তানি বাণিজ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩৭ জন ব্যবসায়ীকে সিআইপি কার্ড দেয়া হয়। এছাড়া সিআইপি (বাণিজ্য) নির্বাচিত হয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ৪১ পরিচালক। যারা কার্ড পেয়েছেন তারা ২০১৬ সালে নির্বাচিত হয়েছেন।