চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চন্দ্রযান-২: সম্ভাব্য যে ত্রুটি হয়েছিলো মিশনে

চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ভারতের দ্বিতীয় মহাকাশ যান চন্দ্রযান-২।  ঠিক কী কারণে মহাকাশ যানটি যোগাযোগ হারালো সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তবে মহাকাশ যান চন্দ্রযান-২ এ কী ভুল ছিলো সে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন ওই সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা অধ্যাপক রোডডাম নরসিমহা।

সোমবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ জুলাই) শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করার পর চন্দ্রযান-২ স্যাটেলাইটটি ২০ আগস্ট চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে। ২ সেপ্টেম্বর মূল মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এর ল্যান্ডার। ‘বিক্রম’ নামের ল্যান্ডারটি অবতরণের উদ্দেশ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের সময় মধ্যরাতে ঠিকঠাকভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে নেমে আসতে শুরু করলেও ২.১ কিলোমিটার বাকি থাকতেই হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসরো বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানোর কথা ছিলো চন্দ্রযান-২ এর।

চন্দ্রযান-২ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেছিলো কিন্তু বিজ্ঞানীরাই যোগাযোগ স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক রোডডাম নরসিমহা।

মনিটরে চন্দ্রযানের চলার গতি পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক অধ্যাপক রোডডাম নরসিমহা বলেন: ‘চন্দ্রযানের চলার গতিই শুধুমাত্র মনিটরে স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিলো। চন্দ্রযানটি যখনই চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করে ঠিক তখনই চন্দ্রযানটির গতি থেমে যায়। এর ফলে মনিটরে স্ক্রিনে চন্দ্রযানটির চলার গতির প্রতিফলনের যে তথ্যগুলি পাঠাচ্ছিলো তা বন্ধ হয়ে যায়।’

‘চন্দ্রযান-২ এর অবতরণের দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ টেলিভিশনে সরাসরি দেখা হচ্ছিলো।  যখন থেকে কাউন্ট ডাউন শুরু হয় তখন চন্দ্রযানের গতি ছিলো প্রতি সেকেন্ডে ১৬৪০ মিটার। বিজ্ঞানীরা বলছে, প্রথম দুই ধাপ পর্যন্ত চন্দ্রযানের গতি ঠিকঠাক ছিলো। কিন্তু শেষ স্টেজে গিয়ে সমস্যায় পড়ে মহাকাশযানটি। ’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ল্যান্ডারের কেন্দ্রীয় ইঞ্জিনে সমস্যার কারণেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে চন্দ্রযান-২।

আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘অবতরণের সময় মহাকাশযানটি খুব দ্রুত গতিতে নামতে শুরু করে। ধারণা করা যায় চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করার সময় চন্দ্রযান-২ এর গতি বেগ ছিলো প্রতি সেকেন্ডে দুই মিটার। চাঁদের অভিকর্ষের ফলে চন্দ্রযানটিকে আরো বেশি দ্রুত গতিতে ফেলে দেয়। যার ফলে কেন্দ্রীয় ইঞ্জিনটি যেভাবে কাজ করার কথাছিলো তা করতে পারেনি এবং মহাকাশযানটি নিজেই থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ’

ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযান মিশনের প্রধান মেলস্বামী অন্নদুরাই বলেন: গতির অসংগতি নির্দেশ করে যে, চন্দ্রযানটি যখন চাঁদের দিকে ছুটে যাচ্ছিলো তখন ল্যান্ডরের মধ্যে ত্রুটি হয়েছিলো। তবে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে সঠিকভাবে বলা যাবে আসলে কী ঘটেছিলো। কিন্তু মনে হচ্ছে সেন্সর অথবা ধাক্কা খাওয়ার কারণেই চন্দ্রযানে ত্রুটি ঘটে থাকতে পারে।

নিউক্লিয়ার অ্যান্ড স্পেস পলিস ইনিসিয়েটিভ অব দ্যা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রধান ডা. রাজেশ্বরী রাজাগোপালান বলেন, ইঞ্জিনে ত্রুটিই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রধান কারণ হতে পারে। তবে আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, যখন চন্দ্রযানটি দ্রুত চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করছিলো তখন প্রচুর ধুলা উড়ছিলো যার ফলে মহাকাশযানটি নড়ে ওঠার কারণে ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

চন্দ্রযান-২ এর উদ্দেশ্য ছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো এবং পানির সন্ধান করা। ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারত এই চন্দ্র মিশনে নামে।

৫০০ মিটার ট্রাভেল করার ক্ষমতা সম্পূর্ণ একটি রোভার ছিলো চন্দ্রযানটিতে। যেটি ১৪ দিন পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম ছিলো। গবেষণার জন্য চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি ও তথ্য পৃথিবীতে পাঠাতে সক্ষম ছিলো রোভারটি।

Bellow Post-Green View