চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘গড়ে ১২ মিনিট প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারে বছরে দশ হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়’

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবসে ব্যাগ নিষেধাজ্ঞা আইন কার্যকর করার আহ্বান

বিশ্বব্যাপী আমরা প্রতি বছর ৫ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করে থাকি। একজন ব্যক্তির জন্য বছরে ৭০০ টিরও বেশি ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। গড়ে মাত্র ১২ মিনিট প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের ফলে বছরে দশ হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো)।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা এই ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রাস্টিক ব্যাগ মুক্ত জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে জানানো হয়,  বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ মিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা হয় যার অধিকাংশ ফেলে দেওয়া হয় এবং ১% এরও কম রিসাইকেল করা হয়। প্লাস্টিক ব্যাগ গড়ে ১২ মিনিটের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর দ্বারা বছরে দশ হাজার সামুদ্রিক প্রাণী মারা যায়।

‘বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর উৎপাদিত ১০% প্লাস্টিক সমুদ্রের এসে জমা হয়। যার ৭০% সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়, যেখানে এটি সম্ভবত কখনই হ্রাস পাবে না। সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এটি প্রতিরোধ  ক্ষমতা দমন, প্রজনন অপর্যাপ্ততা বা তীব্র বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। পলিথিনে মোড়ানো খাবার খাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যেরজন্যও ক্ষতিকারক, এটি স্পষ্টতই ক্যান্সার, চর্মরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার মাধ্যম।’

বিজ্ঞাপন

প্লাস্টিক ব্যাগের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে সেশন মডারেটর ও এসডোর মহাসচিব ডা. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “কোটি কোটি প্লাস্টিক ব্যাগ প্রতি বছর আর্বজনা হিসাবে সমুদ্রে জমা হয় এবং এই ব্যাগগুলি পলিপ্রোপিলিন দিয়ে তৈরিকরা হয়।পলিপ্রোপিলিন এমন একটি উপাদান যা পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দ্বারা তৈরি হয়। এই উভয় পদার্থ অপুর্ননবীকরণযোগ্য জীবাশ্মজ্বালানী ভিত্তিক এবং নিষ্কাশন এবং উৎপাদনের সময় এগুলি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ঘটায়, যা র্পযায়ক্রম বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেএবং পরিবেশও মানব স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ক্ষতিকারক।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিওই), জিয়াউল হক বলেন, “বাংলাদেশে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ২০০২ সালে বিশ্বে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করার পথিকৃৎ দেশ হওয়া সত্বেও, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এখনও সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার দূর করতে পারেনি।”

তিনি সকল স্তরের মানুষকে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধকরণে এগিয়ে আসার এবং জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশে স্বার্থে ধীরে ধীরে একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক বর্জনের আহবান জানান।

প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণকারী এই আলােচনা সভায় অংশ নেন যাদের মধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশ, নেপাল, কেনিয়া এবং বেলজিয়ামের। এরা বয়সে সবাই তরুণ। এই যুব প্রতিনিধিরা সভায় প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করার এবং বিশ্বব্যাপী একবার ব্যবহার উপযোগী প্লাস্টিক বর্জনের প্রচেষ্টার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।

কেনিয়ার নাইরোবির পরিবেশ বিচার ও উন্নয়ন কেন্দ্রের  (সিইজেএডি) প্রোগ্রাম কোরডিনেটর গ্রিফিনস ওচিয়াং, ব্রাসেলসের ইইউ বিষয়ক প্রজেক্ট ম্যানেজার গায়েল হাট,  ফিলিপাইনের গায়ার নির্বাহী পরিচালক ফ্রুলান গ্রেট, এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা সহ অন্যান্যরা ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন।