চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যারা মনে করেন ‘নগদ’র লাইসেন্স নেই, তারা ভুল ভাবছেন: মিশুক

অর্থ লেনদেনে গ্রামীণ জনপদে ‘নগদ’বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। তিনি বলেন, নগদের স্বত্ত্বাধিকারী হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, সরকারী সব অর্থনেতিক সেবা এই নগদেই পাওয়া যায়। সুতরাং যারা মনে করেন ‘নগদ’ এর লাইসেন্স নেই, তারা ভুল ভাবছেন।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রাহকদের গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, নগদকে বাংলাদেশ ব্যাংক এনওসি দিয়েছে এবং নগদের স্বত্ত্বাধিকারী হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের লাইসেন্স ছাড়া কেউ কাজ করতে পারে না। আমাদের এনওসি আছে, এই এনওসিকে লাইসেন্সে কনভার্ট করা হবে ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে। তিনি মনে করেন, একটা গ্রুপ আছে, যারা নগদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে করে নগদের উপর মানুষের আস্থা কমে আসে। আমাদের সকল গ্রাহকদের প্রতি আমার আবেদন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না গুজবে মোটেও কান দেবেন না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে বাংলাদেশে ৫২% মানুষ ব্যাংকিং সেবাখাতের আওতার বাইরে। অর্থাৎ ব্যাংকে নয়, বালিশের নিচে টাকা রাখেন প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ। এই ইনফর্মাল ইকোনমিকে আমরা যদি অনবোর্ড না করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের যে লক্ষ্য উন্নত দেশে উন্নীত হওয়া, তা কখনোই সম্ভব হবে না।

একাউন্ট করার অনিহার কারণ জানিয়ে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কেন সম্ভব হয়নি, শুরুতেই আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে দেখার চেষ্টা করা শুরু করলাম। জেনে অবাক হবেন যে, মূল কারণই ছিলো ব্যাংক একাউন্ট তৈরির ফর্ম পূরণ করা। অনেক ব্যাংক আছে যাদের কাছে একাউন্ট করতে গেলে অন্তত ১০ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হয়। একই তথ্য বার বার বিভিন্ন পাতায় দিতে হচ্ছে, সময় নিচ্ছে-এসব কারণে একজন গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হতো অন্তত ১০ দিন। সময়ের কারণে সে ভুলেও যেতো কবে ফর্ম পূরণ করে এসেছে আর কবে একাউন্ট ওপেন হয়েছে। আমরা এই গ্রাহক হওয়া নিয়েই প্রথম কাজ শুরু করলাম। সহজ করে দিলাম একাউন্ট খোলা। এনআইডি কার্ডের ছবি তুলবে, নিজের একটা সেলফি তুলবে-তারপর আমরা সেই ছবিটা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবো, তারা কনফার্ম করলেই একাউন্টটা খোলা হয়ে গেলো।

প্রযুক্তির বাইরে থাকা গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা আরও দেখলাম গ্রাহক বানাতে হলে সবার হাতে স্মার্টফোন পৌঁছাতে হবে। তখন আমরা সবগুলো মোবাইল অপারেটরের প্রধানদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা শুরু করলাম। তারপর মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আমরা এটারও এক সমাধানে আসলাম। ফলে যেটা হলো আমাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে লাগলো।

সরকারি সেবা ও করোনাকালীন অর্থনীতি বিষয়ে তানভীর আহমেদ বলেন, করোনা আমাদের জন্য সত্যিই আশীর্বাদের মতো। ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকবো। কারণ আগেই বলেছি ৭০% গ্রাহক এই ব্যাংকিং আওতার বাইরে ছিলো। তাদেরকে আমরা যুক্ত করতে পেরেছি। যারা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী তাদের বর্তমান গ্রাহক চারকোটি আর আমাদের বিশ কোটি। কিন্তু একটিভ গ্রাহকের সংখ্যা তাদের চেয়ে আমাদের বেশি। প্রতিদিন আমাদের গ্রাহকসংখ্যা বাড়ছে। আর সরকারী সব সেবা একসাথে পাওয়া যায় নগদে। সুতরাং গ্রামীন জনপদের ভরসার নাম ‘নগদ’। উপবৃত্তি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বলেন, সরকারী সব রকমের লেন-দেন সরকার করছে নগদের মাধ্যমে। অন্যঅর্থে সরকারই ‘নগদ’কে পুশ করছে। সুতরাং নগদ নিয়ে সন্দেহের কোন কারণ নেই।

২০১৯ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বৈধ সুবিধা দিতে ডাক বিভাগ এই সার্ভিস চালু করে। এই সার্ভিসের মাধ্যমে কম খরচে দ্রুত ও নিরাপদে আর্থিক লেনদেন করছেন গ্রাহকেরা।

২০২১ সালের মধ্যে জাতীয় ওয়ালেটে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ‘নগদ’। দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মনোপলি ভাঙতে এবং টাকা লেনদেন খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ‘নগদ’। সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবাটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।

দ্য পোস্ট অফিস অ্যাক্ট ১৮৯৮’-এর আওতায় অর্থ লেনদেন ‘মানি অর্ডার’ হিসেবে পরিচিত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ আইনে ‘মানি অর্ডার’ বলবত আছে। ‘নগদ’ হলো মানি অর্ডারের ডিজিটাল সংস্করণ। যদিও ‘নগদ’ নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ‘নগদ’ দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবস্থায় মনোপলি ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে ‘নগদ’ নিয়ে অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েছেন এবং ‘নগদ’-এর অপ্রতিরোধ্য গতি রোধের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

থার্ড ওয়েভ টেকনোলোজিস লিমিটেড বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সেবা ‘নগদ’-কে জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এই সেবার আওতায় রয়েছে গ্রাহকের প্রতিদিনের আর্থিক লেনদেন যেমন: ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, সেন্ড মানি (পি টু পি), পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ ইত্যাদি। এ ছাড়া দেশে ‘নগদ’-এ লেনদেনের খরচ সবচেয়ে কম। প্রতি হাজারে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা ক্যাশ-আউট চার্জ। আর প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ-ইন করলে ৫ টাকা ক্যাশ-ব্যাক সুবিধা দিয়ে থাকে ‘নগদ’। যার ফলে প্রতি হাজারে ক্যাশ-আউট চার্জ গিয়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৫০ পয়সা। তুলনামূলক বেশি অঙ্কের লেনদেনও করা যায় ‘নগদ’-এ।

ছোট ব্যবসায়ীদের এ লেনদেন ব্যবস্থায় আনতে চায় নগদ, যা ১০ বা ১৫ হাজার টাকার লেনদেনে সম্ভব নয়। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা এবং উপবৃত্তির টাকা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেবে ‘নগদ’। সরকার বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পেছনে খরচ করে, এই অর্থের পুরোটা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অনুশাসন জারি করেছেন।

এ ছাড়া ‘নগদ’-এ লেনদেন শতভাগ নিরাপদ। গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ‘নগদ’। বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বেশ পুরনো। ‘নগদ’ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (ডিএফএস) হিসেবে প্রথম ডিজিটাল কেওয়াইসি পদ্ধতি চালু করে। জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে ঘরে বসেই নগদ একাউন্ট খোলা যায়। একাউন্ট খোলার সময় গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ডাটাবেজের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয়। ফলে একটি এনআইডি দিয়ে একের বেশি ‘নগদ’ একাউন্ট খোলার সুযোগ নেই।

যার ফলে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে একটি একাউন্ট খুলতে পারবেন। অর্থাৎ জালিয়াতির সুযোগ বন্ধ করেছে ‘নগদ’। ‘নগদ’-এর আগে দেশে এই পদ্ধতি কেউ অনুসরণ করেনি এবং অনেক বিখ্যাত এমএফএস প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়া চালু করেছে ২০১৭ সালের পর। ‘নগদ’ সর্বাধুনিক, নিরাপদ, সহজ এবং একই সঙ্গে ব্যয়সাশ্রয়ী। ‘নগদ’ এমন ব্যবস্থা (সেন্ড মানি টু অ্যানি ফোন) চালু করেছে যে কারো ‘নগদ’ একাউন্ট না থাকলেও তার মোবাইলেও টাকা পাঠানো যাবে। টাকা পাওয়ার পর একাউন্ট খুলে কাছের কোনো উদ্যোক্তার কাছে গিয়ে টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহক।

এ সেবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নেই। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের রয়েছে শতবর্ষব্যাপী ব্যাংকিং সেবা প্রদানের সুদীর্ঘ ইতিহাস। দেশজুড়ে ডাক বিভাগের রয়েছে ৯,৮৮৬টি শাখা। আর এসব শাখা হতে ৪০,০০০ এর বেশি কর্মী নিয়মিতভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে। শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান হলেও ডাকবিভাগ আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই মোটেই। ২০১০ সালে চালু হওয়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে প্রায় ৬ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহক কোনো না কোনোভাবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা গ্রহণ করছেন।

নিয়মিত ও অনিয়মিত গ্রাহকের পরিসংখ্যান অনুসারেও দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীই এখন পর্যন্ত রয়ে গেছেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সবচেয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালনের সক্ষমতা কেবল বাংলাদেশ ডাকবিভাগেরই রয়েছে। সারা দেশে ‘নগদ’-এর রয়েছে দেড় লক্ষেরও বেশি উদ্যোক্তা। আগে এই উদ্যোক্তা বা এজেন্টদের সঙ্গে বিভিন্ন এমএফএস প্রতিষ্ঠান যে বৈষম্যমূলক আচরণ করতো, তা পুরোপুরি পরিবর্তন করতে সচেষ্ট আছে ‘নগদ’। যার ফলে খুব অল্প সময়ে ‘নগদ’-এর গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) রিপোর্টিং সংস্থা হিসেবে ‘নগদ’ নিবন্ধিত। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সকল মোবাইল লেনদেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে সকলের লেনদেন ব্যবস্থায় নজরদারি করার জন্য অনুমতি চেয়েছিল। ‘নগদ’ এই উদ্যোগকে সাদরে স্বাগত জানায়।

দৈনন্দিন জীবনের সব স্তরে ডিজিটাল সেবা দিতে ‘সব হবে নগদ-এ’ নামের একটি প্রচার কর্মসূচি চালু করেছে ডিজিটাল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ।

বিজ্ঞাপন

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানায়, এর আওতায় ইতোমধ্যে অনলাইনে কেনাকাটা পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ইন্টারনেটসহ প্রায় সব ধরনের বিল পরিশোধ নগদের মাধ্যমে হচ্ছে। এছাড়াও ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম জমা, এবং ইউটিলিটি বিল ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দেওয়া যাচ্ছে।

গ্রাহকদের জীবনযাপন আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় সেবাও এই একটি প্ল্যাটফর্মে তুলে আনতে কাজ করছে বলে জানায় ‘নগদ’।

নগদ জানায়, শুরুতে ডিজিটাল কেওয়াইসি ব্যবহার করে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা চালু করলেও এখন মোবাইল ফোনে *১৬৭# ডায়াল করার পর এবং পিন সেট করেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সব মিলে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগে এই প্রক্রিয়াটি শেষ করতে।

রাষ্ট্রীয় সেবা ‘নগদ’ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে সহজ করতে প্রায় ১২ হাজার মার্চেন্টের সঙ্গে অংশীদারত্ব স্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মীনা বাজার, ইউনিমার্ট, প্রাণ-আরএফএল, ওয়ালটন প্লাজা, ট্রান্সকম ডিজিটাল, বেস্ট ইলেকট্রনিক্স, বে এম্পোরিয়াম এবং যমুনা গ্রুপের হোলসেল ক্লাবের মতো প্রতিষ্ঠান।

‘নগদ’ এর মাধ্যমে প্রায় ৫০০ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা চাইলেই কাঙ্ক্ষিত কেনাকাটার পেমেন্ট স্বচ্ছন্দে ‘নগদ’ এর মাধ্যমে করতে পারছেন। ক্যাশ-আউট হার বাজারে নগদেরই সর্বনিম্ন, হাজারে ৯.৯৯ টাকা।

সম্প্রতি ‘নগদ’ ডেলিভারি কোম্পানি পেপারফ্লাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেবা চালু করেছে, যেখানে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া পণ্যটি হাতে পাওয়ার পরেই ‘নগদ’ এর বিল প্রদান করতে পারছেন।

এ বিষয়ে ‘নগদ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে একটি উপযুক্ত ডিজিটাল জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে ‘নগদ’।

নগদ বাংলাদেশ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ফোন ভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবা যা একটি অর্থ আদান-প্রদানের পরিষেবা। এটি থ্রার্ড ওয়েভ টেকনোলজি লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত। এটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পূর্বে চালুকৃত পোস্টাল ক্যাশ কার্ড এবং ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম (ইএমটিএস)-এর নতুন সংস্করণ।

যে কোনো মোবাইল ফোনে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে একজন গ্রাহক দেশের যে কোনো স্থান থেকে নিজের মোবাইলে অর্থ জমা, উত্তোলন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতে পারেন। নগদ-এর সদর দপ্তর ঢাকার বনানী এলাকার কামাল আতাতুর্ক এভিনিউতে অবস্থিত।

এই আর্থিক পরিসেবাটি বাংলাদেশ ডাক আইন সংশোধনী ২০১০ ধারা ৩(২)-এর অধীনে নিয়ন্ত্রিত, বিশেষত বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রণীত একটি স্বতন্ত্র আইন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কর্তৃক ১১ অক্টোবর ২০১৮ সালে এই ডিজিটাল আর্থিক সেবা চালু করা হয়। ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের ৪৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মাধ্যমে এটি কার্যক্রম শুরু করে।

যে কোনো নগদ অ্যাকাউন্টধারী নিজের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা থাকা সাপেক্ষে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে অন্য নগদ অ্যাকাউন্টধারী এজেন্ট পয়েন্ট থেকে এর সেবা উপভোগ করতে পারেন। গ্রাহক নগদ অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেই নিজের অ্যাকাউন্ট চালু করতে পারেন।
নগদ-এর বর্তমান সেবাগুলো:
অ্যাকাউন্ট খোলা
অ্যাকাউন্ট টাকা জমা করা (ক্যাশ ইন)
একটি নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো (সেন্ড মানি)
একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন (ক্যাশ আউট)
মোবাইলে এয়ারটাইম ক্রয়/রিচার্জের সুবিধা
পণ্য কেনাকাটা বা সেবার বিনিময়ে মূল্য পরিশোধ করা (পেমেন্ট)
বিদ্যুৎ বিল প্রদানসহ অন্যান্য বিল পরিশোধের সুবিধা

নগদ একটি যুগান্তকারী ও নিরাপদ ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস যা আপনাকে ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, টাকা পাঠানো, মোবাইল রিচার্জসহ বিবিধ দৈনিক লেনদেন সুবিধা দিয়ে থাকে।

নগদ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ. মিশুক বলেন, আমরা সবসময়ই উচ্চহারে ক্যাশ আউট চার্জের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি গত এক দশক ধরে চলে আসা প্রতি হাজারে ২০ টাকা ক্যাশ আউট চার্জ গ্রাহকদের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায্য আচরণ। যার কারণে উদ্বোধনের পর থেকে ‘নগদ’ সবচেয়ে কম ক্যাশ আউট টাকা চার্জ করে আসছে। এখন থেকে আমরা সব ধরনের শর্ত তুলে নিয়েছি এবং সবার জন্য ক্যাশ আউট চার্জ উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমরা আশা করি এই সিদ্ধান্তের কারণে এখন থেকে ‘নগদ’ ব্যবহার করা আরও সাশ্রয়ী হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন আরও বেগবান হবে। আমরা মনে করি সরকারের উচিত সব কোম্পানির ক্যাশ আউট চার্জের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর দৈনিক লেনদেন ২০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে দৈনিক ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক স্পর্শ করার কথা কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তা অতিক্রম করে দেশের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল এই ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল অপারেটরটি। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দৈনিক ১০০ কোটি টাকা লেনদেনের মাইলফলক অতিক্রম করে ‘নগদ’।

২০১৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাইলট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে নগদের যাত্রা শুরু হয়। একই বছরের ২৬ মার্চ নগদ সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তানভীর আহমেদ বলেন, এখনো দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে। তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক সেবায় আনা যাবে না। এ জন্য এমন সেবা খুঁজছিলাম, যাতে সহজেই সবাই সেবাটি নিতে পারে। তিনি বলেন, দেশের ২২টি ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সফল হতে পারেনি। মানুষ বলে, ডাক বিভাগ মরে গেছে। আমাদের কারণে যেন নতুন করে কলঙ্কের মধ্যে না পড়ে, সেই চেষ্টা করেছি। সফল হতে না পারলে প্রকল্প ফেরত দিয়ে দিতাম। এ জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছি।

নতুনত্ব দিয়েই নগদের যাত্রা শুরু। ডিজিটাল কেওয়াইসির (গ্রাহকসম্পর্কিত তথ্য) মাধ্যমে হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছে। নগদের গ্রাহক না হয়েও যেকোনো মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানোর সুযোগ এনে দিয়েছে। আর গ্রাহকেরা একবারে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা ও উত্তোলন করতে পারেন। এভাবে দৈনিক আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত জমা ও উত্তোলনের সুবিধা রয়েছে। আবার সেবার খরচও কম।

তানভীর আহমেদ বলেন, শুরু থেকে আমরা নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। ডিজিটাল কেওয়াইসির মাধ্যমে হিসাব খুলে দিচ্ছি। প্রথম দিকে ডিজিটাল কেওয়াইসি বোঝাতে অবশ্য কষ্ট হয়েছে। এ জন্য প্রায় এক লাখ এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছে। এরপরও আমরা তা করেছি। কারণ, প্রচলিত প্রথায় হিসাব খোলা সম্পন্ন করতে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

নগদের নিয়মিত কর্মী ২৫০, অনিয়মিত কর্মী প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। দেশের জেলা, উপজেলাসহ প্রতিটি ডাকঘরে নগদের গ্রাহক সেবা পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন