চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গার্দিওলার দলকে ‘কমান্ডোদের’ হুমকি

শনিবার রাতে ইংলিশ এফএ কাপের ম্যাচে দ্বিতীয় বিভাগের দল শেলটেন টাউনের মুখোমুখি হবে প্রিমিয়ার লিগ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। শক্তির বিবেচনায় ম্যাচটা দৈত্য বনাম লিলিপুটদের খেলা। শেলটেন টাউনও নিজেদের বড় কিছু ভাবছে না। তবে তাদের একটা গোপন অস্ত্র আছে যার শক্তি দিয়েই ‘দৈত্য’ বধ করে এফএ কাপে অঘটন ঘটাতে চায় ‘রবিনস’খ্যাত শেলটেন।

গোপন অস্ত্র সম্পর্কে জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে তিন বছর আগে। ২০১৮ সালে লিগে টানা নয় ম্যাচ হেরে পরের বিভাগে অবনমন হওয়ার দিকে ধুঁকছে শেলটেন। এমন অবস্থায় খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন্সের সাবেক দুই কমান্ডো বেন উইলিয়ামস ও অ্যান্থনি থমপসনকে আমন্ত্রণ জানান মাইকেল ডাফ যাদের কাজ ছিলো খেলোয়াড়দের মাঝে ‘কমান্ডো মানসিকতা’ ছড়িয়ে দেওয়া। সাধারণ মানুষ যেকাজে পিছিয়ে যায় একজন কমান্ডো সেখানে কিভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করে সেটাই খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে সাবেক কর্পোরাল বেন উইলিয়ামসের কাঁধে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রয়্যাল মেরিন্স কমান্ডো উইলিয়ামস দশ বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন, যুদ্ধ করেছেন আফগানিস্তানে। সম্প্রতি একটা বইও লিখেছেন যার নাম ‘কমান্ডো মাইন্ডসেট’। গত দুই বছর ধরে শেলটেনের খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করার কাজটি যত্নের সঙ্গেই করে আসছেন তিনি।

‘যখন আমি শেলটেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথম কথা বলি তখন তারা রেলিগেশন প্লে-অফ খেলার অপেক্ষায়। আমি তাদের বললাম, তোমাদের জিততেই হবে। না জেতার কোনো কারণ তো দেখছি না’, ডেইলি মেইলকে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন উইলিয়ামস।

‘তারা খুব লাজুক ছিলো, লোকজন বলতে লাগলো দারুণ বলেছে হে। এরপর হঠাত করেই দলটা একসঙ্গে ছয়-সাতটা ম্যাচ জিতে ফেললো।’

বিজ্ঞাপন

হ্যারি কেনের সঙ্গে কমান্ডো বেন উইলিয়ামস

উইলিয়ামস ও অ্যান্থনি থমপসন আসার পর শেলটেনের কতটা উন্নতি হয়েছে তা বলবে পরিসংখ্যান। দুই কমান্ডোর কথায় উজ্জীবিত হয়ে গত মৌসুমে ৩০ ম্যাচের ২০টিতেই জিতেছে তারা, উঠে এসেছে দ্বিতীয় বিভাগে। খেলার সুযোগ হয়েছে এফএ কাপে যেখান থেকে এখন তাদের আয় অন্তত দশ হাজার পাউন্ডের বেশি।

শেলটেন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার আগে হোয়াড্ডোন রোডে খেলোয়াড়দের জন্য ভক্তদের ভালোবাসা কিংবা রাস্তার দেয়ালে কোনো উজ্জীবনই মরীচিকা চোখে পড়েনি দুই কমান্ডোর। দায়িত্ব নিয়েই খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কিছু স্লোগান, শারীরিক ও মানসিক কিছু অনুশীলন প্রোগ্রাম তৈরি করেছেন যাতে খেলোয়াড়রা তাদের পরিশ্রমের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। তৈরি করেছেন কমান্ডো ট্রেনিং গ্রাউন্ড যেখানে খেলোয়াড়রা কমান্ডো ট্রেনিং নেন বা নিচ্ছেন।

ম্যানসিটি ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার ভিডিও কলে উইলিয়ামসের সঙ্গে কথা হয়েছে শেলটেন খেলোয়াড়দের। কলে সাবেক কমান্ডো সরাসরি জানিয়েছেন, ম্যানসিটির খেলোয়াড়রা রক্ত-মাংসেরই গড়া, ভিন গ্রহবাসী কেউ নয়। তাদের হারানো অসম্ভব কিছু এটা ভাবলেই হবে বোকামী। সুতরাং, হারা চলবে না! কোন জায়গা থেকে কোথায় উঠে এসেছে শেলটেন এতটুকু খেলোয়াড়দের মনে রাখতে বলেছেন।

উইলিয়ামসের কথা কতটা কাজের সেটা জানা আছে ম্যানসিটির অনেক ইংলিশ ফুটবলারেরই। ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়া যাওয়ার আগে উইলিয়ামস সহ একদল কমান্ডোর কাছে প্রশিক্ষণ করে গেছে পুরো ইংলিশ দল। সেবার বিশ্বকাপে শেষচারেও উঠে গ্যারেথ সাউথগেটের দল।

শেলটেন কোচ মাইকেল ডাফকে উইলিয়ামসের খোঁজ দিয়েছিলেন ম্যানসিটিরই সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট। সেই পরামর্শ মেনেই দলে কমান্ডোদের নিয়োগ দেয় শেলটেন। এখন কমান্ডোদের দেখানো পথে পুঁচকে দলটা যদি মাঠে দৈত্য বধ করেই ফেলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না!