চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি সংস্থার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে’

গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

শনিবার(৪ জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গর্ভন্যান্স ও অরাষ্ট্রীয় ভূমিকা পালনকারী’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

দিনব্যাপী সেমিনারে অতিথি বক্তার ভাষণে তিনি আরো বলেন, “বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী, বুদ্ধিজীবি ও পেশাজীবি নেতৃবৃন্দের মতামতের প্রতি গুরুত্ব দিলে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে সরকারের বাইরের শক্তিকে যুক্ত না করলে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”

বিজ্ঞাপন

সেমিনারে জাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, “যাদের প্রতি গণমানুষের অগাধ বিশ্বাস-ভরসা, যারা মানুষের কল্যাণার্থে সব সময় নিজেদের নিয়োজিত রাখার কথা, দেশের স্বার্থে জাতির স্বার্থে যাদের আপোসহীনভাবে কাজ করার কথা- সেই ‘কথিত সুশীল সমাজ’ও আজ বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে ‘সুশীল সমাজ’ কথাটিও এখন গালিতে পরিণত হয়েছে।”

এ সময় গণমাধ্যমের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের চেতনাকে জাগ্রত করা। কিন্তু গণমাধ্যম যদি সেভাবে কাজ না করে তাহলে দেশ ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখিন হবে।’

সরকার কর্তৃক গৃহীত বাঁশখালির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্প আমাদের দেশ এবং জাতির জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। প্রকল্পগুলো বন্ধের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। এছাড়াও আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইনের সভাপতিত্বে অতিথি বক্তা হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) পরিচালক ড. বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ, মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন