চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খেয়াল করেছি, মানুষ আমাকে ‘আগুন’ বলে সম্বোধন করে: রিয়া

মুখোমুখি ছোটপর্দার নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীর মধ্যে অন্যতম আলোচিত মুখ সানজানা সরকার রিয়া…

বাংলালিংকের টিভিসি দিয়েই শুরু। শখের বশে আরও কিছু টিভিসিতে কাজ করেন। প্রাণ ফ্রুটো লাভ এক্সপ্রেসের শর্টফিল্ম, নির্মাতা শিহাব শাহীন, কাজল আরেফিন অমি, মোস্তফা কামাল রাজের নির্দেশনায় কয়েকটি খণ্ড নাটকেও কাজ করেছেন। তবে রাজের ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ এবং অমির ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এ দুটি সিরিয়াল তাকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি দিয়েছে।

যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি সানজানা সরকার রিয়া। ছোটপর্দার নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীর মধ্যে অন্যতম আলোচিত মুখ তিনি।

বিজ্ঞাপন

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে রিয়া বলেন, অল্পদিন হলো কাজ করছি। আমি হয়তো খুব ভালো অভিনয় পারিনা। ভালো অভিনয় করার মতো কাজ এখনও করতে পারিনি। কিন্তু বুঝতে পারছি দর্শক আমাকে পছন্দ করছে। তারা চাইছে আরও বেশি কাজ করি। কবে আমার নতুন নতুন কাজ আসবে এগুলো সবসময়ই জিজ্ঞেস করে। আমার কাছে এসব জিনিস ভালো লাগে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুরুতে আমি সিরিয়াস ছিলাম না। কিন্তু মানুষ আমাকে যেভাবে পছন্দ করছে, এখন আমি অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস হয়েছি। মাত্র দুটো সিরিয়াল দিয়ে এতো ইতিবাচকভাবে মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছে এটা আমার গুড লাক। যদিও আমি সেভাবে অভিনয় জানি না। মনে হয়, আমি যদি আরেকটু এফোর্ড দেই তাহলে হয়তো আগামিতে আরও ভালো কিছু হতে পারে। করোনার কারণে কাজে ফিরতে পারছি না। সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু করবো। এখন কাজে ফিরতে চাইলেও বাসা থেকে অনুমতি দেবে না।

রিয়ার বেশিরভাগ নাটকের পরিচালক থাকেন মোস্তফা কামাল রাজ এবং কাজল আরেফিন অমি। এর বাইরে কাজ করেন না কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুজনেই আমাকে ছোট বোনের মতো মোটিভেট করেন। আমি নতুন। অনেককিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। সেজন্য তাদের থেকে শেখার চেষ্টা করি। তাই সবমিলিয়ে অল্প কাজ করা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে ফ্যামিলি ক্রাইসিসের মাধ্যমে ফ্যামিলির দর্শক আমাকে চিনেছে আর ব্যাচেলর পয়েন্ট থেকে ইয়োথ দর্শক বেশি পছন্দ করেছে। তবে আমি খেয়াল করেছি, মানুষ আমাকে ‘আগুন’ বলে সম্বোধন করে। কেন করে আমি আসলে জানিনা।

অল্পদিনে কাজ করে ইতিবাচক নেতিবাচক দুটো দিকই দেখেছেন রিয়া। তিনি বলেন, নেতিবাচক জিনিসগুলো এড়িয়ে গেছি। শুধুমাত্র ইতিবাচক জিনিসগুলো আমি গ্রহণ করেছি। এভাবে যতদিন মানুষ ভালোবাসবে ততোদিন কাজ করে যাবো। অল্প কাজ করলেও ভালো ভালো কাজ করবো। আমি এমনিতেই একটু আরাম প্রিয়। ১০ টা কাজের প্রস্তাব এলে একটা করি। এভাবে কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ করে যেতে চাই।

রিয়া বলেন, আগে সবার অভিনয় দেখতাম না। এখন সবার অভিনয় এবং ভালো কাজগুলো দেখে শেখার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগেও শখে বা ভালো লাগা থেকে কাজ করতাম। আগামিতে সিরিয়াসলি পেশাদারী মন নিয়ে কাজ করবো।

‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ নাটকের একটি দৃশ্যে রিয়া

নাটক চলচ্চিত্রের বিভিন্ন গ্রুপে রিয়াকে নিয়ে পোস্ট করা হয়। এগুলো তার নজরেও এসেছে। অনেক ভক্ত তাকে চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে রিয়া বলেন, অভিনয় আগে শিখে নেই তারপর সিনেমা নিয়ে ভাববো। এই সময় পর্যন্ত কোনো ইচ্ছে নেই। তবে আমাকে নিয়ে ভাবে, মেনশন করে এ জিনিস দেখে আমার খুবই কিউট লাগে! কারণ, দেড় দুই বছর আগেও আমাকে কেউ চিনতো না। অথচ এখন আমাকে নিয়ে ভাবছে। কারও কারও ফেসবুকের প্রোফাইলে আমার ছবি দেখি। মন থেকে যে ভালোবাসে এটা আমার খুব ভালো লাগে। যারা আমাকে নিয়ে ভাবে তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, অবশ্যই যেন আমার কাজের ফিডব্যাক তারা এভাবেই জানায় এবং এভাবে আমাকে ভালোবেসে যায়। আমিও তাদের পছন্দ প্রাধান্য দিয়ে কাজের চেষ্টা করবো।

করোনার শুরু থেকে ঘরে আছেন রিয়া। তার বোন থাকেন কানাডায়। বলেন, সারাদিন পরিবারকে সময় দেই। বাসায় ছোট দুই ভাই রয়েছে। অনলাইনে বোনের সাথে সবসময়ই আলাপ হয়। করোনার আগেও এমন হতো। শুটিং ছাড়া বের হতাম না। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা মারা অথবা ঘোরাঘুরি করা করিনা। বোন কানাডা থেকে এলে তার সাথে ঘোরাঘুরি করি। সবসময়ই বাসাতেই থাকা হতো বলে করোনার বাইরের অবস্থা সম্পর্কে আমার ধারণা কম। অনেকের হয়তো বাসায় থাকতে কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমার কাছে আগের মতোই সহজ লাগছে।

‘স্লো এন্ড স্টেডি’ ভাবে অভিনয়ের আঙ্গিনায় নিজের নামটি উজ্জ্বল করতে চান রিয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই পথ চলছেন তিনি। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। বিশ্বাস করেন, পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি।