চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খালেদার জামিন শুনানিতে হট্টগোল, এজলাস ছেড়ে গেলেন বিচারপতিরা

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের চিৎকার ও হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দিতে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পর চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

সে সময় আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে জামিন শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এরপর থেকেই তুমুল চিৎকার ও হট্টগোল করতে থাকেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরাও চিৎকার করতে থাকেন।

এসময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলতে থাকেন, ‘‘আমারা কোর্ট থেকে যাব না, কোর্ট ছাড়ব না।’’

এভাবে প্রায় ১৫ মিনিট চিৎকার ও হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে সকাল ১০টার দিকে এজলাস থেকে উঠে চলে যান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। এরপরও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতে বসে থাকেন।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন চান আপিল বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে মানবিক কারণে জামিন দিতে খালেদার আইনজীবীর আবেদনের পর ওইদিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এর আগে এই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর এ মামলায় ৭ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। সে আপিলে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায় বাতিল এবং মামলা থেকে খালাস চাওয়া হয়। সেই সাথে জামিন আবেদনও করা হয়।

এর আগে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে এ মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। মামলার বাকি সব আসামিকেও একই সাজা দেয়া হয় এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা করেন আদালত।

ওই রায়ে বলা হয়, সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে যা মনে হয়, প্রত্যেক আসামিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এতে তারা সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। এ কারণে খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকেই সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দেয়া হয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর সাবেক এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলাম।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় ঘোষণার পর বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রয়েছেন।

শেয়ার করুন: