কারাদণ্ড পাওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এ ব্যাপারে আপিল বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সংবিধান অনুসারে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুসারে, কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনের সাজা হিসেবে দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড পেলে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে এক্ষেত্রে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে দু’টো আলাদা রায় রয়েছে।
‘একটি রায় অনুসারে, আপিল যতক্ষণ শেষ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত মামলাটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি ধরে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও আসামি নির্বাচন করতে পারবেন। আবার আরেকটি রায়ে আছে, এমন পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। ‘তবে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে আপিল বিভাগ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা তাদের ব্যাপার।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার আনিসুল হক বলেন, এর মধ্য দিয়েই প্রমাণ হয়েছে আইন সবার জন্য সমান। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
নিয়ম অনুযায়ী আজকেই খালেদার জেলখানায় যাওয়া উচিৎ বলে জানান তিনি।
রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে আনিসুল হক জানান, এরপর আসামিপক্ষ নিশ্চয়ই এ মামলায় হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর আসামিপক্ষ আপিল করতে পারবেন। এর সাথে সাথে তারা জামিন আবেদনও করতে পারবেন। রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাবার পর ৬০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। কপি না পাওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সময় গণনা করা হবে না।
অনেক বড় বড় দুর্নীতি মামলাকে পিছিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়ার দু’কোটি টাকার এই মামলাকে সামনে আনার পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের জুলাই মাস থেকে এই মামলা রুজু করার পরে আজকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ – এই সাড়ে ৯ বছর মামলাটি চলেছে। সেটা যদি খুব অল্প সময় হয়ে থাকে তবে আমার কিছু বলার নেই।’
‘কিন্তু আজকে সাড়ে ৯ বছর পর এবং আইনে উনি যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা তা তাকে দেওয়ার পর আজকে এ মামলা শেষ হয়েছে। তাই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে খুব তাড়াহুড়া করা হয়েছে।’










