চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘খাদ্যে রাজস্ব আয় হাজার কোটি টাকা হতে পারে’

২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনের কিছু সংযোজন-বিয়োজন এবং সামান্য উদ্যেগেই রাজস্ব আয় বছরে হাজার কোটি টাকা হতে পারে। ফিরতে পারে রাষ্ট্রীয় নিরাপদ খাদ্য শৃঙ্খল। এমনটি মনে করছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর ও খাদ্য উদ্যেক্তারা।

খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেল ভেবে দেখবেন বলে মন্তব্য করেছেন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে এমনটি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরেরর ভোক্তা অধিকার ও খাদ্যভোগ সদস্য মোঃ রেজাউল করিম বলছেন, ‘আমরা জানিনা আমাদের কতগুলো খাদ্য স্থাপনা আছে? কত মানুষ এখানে কাজ করে কিংবা কত শ্রমিক, কত মালিক আর ম্যানেজারই বা কতজন? শ্রমিকরা দক্ষ নাকি অদক্ষ? কিছুই জানা থাকেনা আমাদের। আমাদের প্রতিবেশী দেশটিতে এ বিষয়ক রেগুলেটরি পার্ট আছে। ফলে যত্রতত্র খাদ্য স্থাপনা সম্ভব নয় সেখানে। কিংবা যেমন তেমন করে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়াও সম্ভব নয়। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর সামান্য সংযোজন বিয়োজনে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার মান আন্তর্জাতিকতা পাবে।’

খাদ্য উদ্যেক্তা কুটুমবাড়ি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ ইবনে মোহাম্মদ বলছেন, ক্যাটাগরিকাল লাইসেন্সিং গেটওয়ের ব্যবস্থাপনা থাকলে খাদ্য মন্ত্রনালয় তার অধিদপ্তরেরর মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার লক্ষ্য সব দিকেই রয়েছে। তা বারবার দেখিয়েছেন তিনি। ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি সমান মনোযোগী। তার সময়েই তৈরী হয়েছে নিরাপদ খাদ্য আইন। যে আইনের মূল কথা, নিরাপদ খাদ্য নিরাপদ দেশ। সেই আইনের বেশ কিছু বাস্তবানুগ সংশোধন জরুরী। যা তুলে ধরতে হবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকেই। অন্যদিকে আমরা বলতে চাই, বছরে ১০০০(এক হাজার) কোটি টাকার বেশী রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে আমাদের বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, খাদ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক কর্মচারীদের ক্যাটাগরিকাল লাইসেন্স প্রদাণ এবং তার বাৎসরিক নবায়ন ফি আদায় করেই বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে খাদ্য সরবরাহ-উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা বাড়বে।

বেকারী–হোটেল-রেস্টুরেন্ট-ফল-সবজিসহ সকল খাদ্য শৃঙ্খলে জড়িত, সকল ধরণের প্রতিষ্ঠান এই আওতায় আসলে খাদ্যে ভেজাল কিংবা অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনের কারিগরেরা দমে যেতে বাধ্য হবে।’
খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়, লাইসেন্সিং এবং আইন সংশোধন বিষয়ে বলেন, লাইসেন্সিং বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রনালয় দেখবে। তবে আইন সংশোধন এবং লাইসেন্সিং বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে আমরা বিষয়টা পর্যালোচনা করতে পারি। রাজস্ব বাড়লে আমাদের ক্ষতি তো নেই।

নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন ও পর্যবেক্ষণ আইন বিষয়ে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীন জাতির ভবিষ্যত কখনো ভালো হয়না। কারণ অনিরাপদ খাদ্যের শিকার হয় একটি প্রজন্ম। অসুস্থতায় হয়ে পড়ে কর্মক্ষমতাহীন। সবমিলে সুদূরপ্রসারী ক্ষতির মুখে পড়ে একটি জাতি ধ্বংসের কিনারায় চলে যেতে পারে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়। যার মূল উপাদান ভেজাল। আর একটি উপাদান অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও তার অসাধু বিপনণ। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য গত এক যুগে সরকারের তৎপরতা প্রশংসনীয়। কিন্তু সেই তৎপরতার কোথাও যেনো একটা ঘাটতি আছে। এদিকে সরকারেরর আরো নজর দাবী করে।

নিরাপদ খাদ্য নিরাপদ দেশ (নিখানিদে) এর আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য যেমন সচেতন এবং প্রশিক্ষিত শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা সবাই বুঝতে পারছে, তেমনি নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের জন্য আমাদের প্রশিক্ষিত এবং সচেতন শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারাটা জরুরী।

তিনি আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সৎ উদ্দ্যেশে অভিযান চালালেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয়, অনাকাঙ্খিত ক্ষতির সম্মুখীন হন উদ্যেক্তরা। শ্রমিক কর্মচারীরা শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী লাইসেন্স-এর আওতায় থাকলে উদ্যেক্তারা তাদের নিয়মের মধ্যে রাখতে সমর্থ হবেন। লাইসেন্স না থাকলে , শ্রমিক কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার নানামাত্রিক খেসারত দিতে হয় উদ্যেক্তাদের। এতে তারা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে বাধ্য। সব মিলিয়ে নিরাপদ খাদ্য চক্র রক্ষা করতে ২০১৩ সালেরর আইনে সামান্য পরিবর্তন আনলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিজেদের আয় বৃদ্ধি করে সরকারেরর রাজস্ব খাতে নিজেদের অংশ গ্রহণ সুদৃঢ় করতে পারবে। পাশাপাশি উদ্যেক্তরাও তাদের কাজে মন দিতে পারবে।