চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কয়েকবার শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছি পানির উপরে এসে’

বিলবোর্ড, ক্যাটওয়াক, র‍্যাম্প মডেল হিসেবে চষে বেড়িয়েছেন শরিফুল রাজ। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে বড় বড় বলবোর্ডে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব ফ্যাশন হাউজের মডেল হিসেবে দেখা যায় এই সুদর্শনকে। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে ছিল রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘আইসক্রিম’ ছবি। ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ওই ছবিতে অভিনয় করে রাজ তুমুলভাবে আলোচিত হয়েছিলেন। বিরতি কাটিয়ে রাজ আবার চলচ্চিত্রে কাজ করতে যাচ্ছেন। ছবিটি নিয়ে রাজ কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে। 

সার্ফিং নির্ভর চলচ্চিত্র ‘ফ্রি’ নিয়ে জানতে চাই..

এটি হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সার্ফিং গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র। প্রাথমিকভাবে নাম ‘ফ্রি’ রাখা হয়েছে। তবে পরিবর্তন হতে পারে। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে শুটিং হবে টানা একমাস। আগামীকাল (শুক্রবার) সকালে শুটিংয়ের জন্য কক্সবাজার রওনা দেব। ছবিতে অভিনয় আমি ছাড়াও মডেল সুনেরা, সাঈদ বাবু অভিনয় করবেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে রিপন তালুকদার নামে এক তরুণকে। স্টার সিনেপ্লেক্সে প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে এটি। ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন দেবের বুনোহাঁস, পিংক ছবির চিত্রনাট্যকার কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত।

এ চলচ্চিত্রে যুক্ত হলেন কীভাবে?

প্রায় একবছর আগে পরিচালক তানিম রহমান অংশু ভাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমাকে নিয়ে কাজ করবেন। এর আগে তারসঙ্গে আমার কাজ হয়নি। এটাই হতে যাচ্ছে প্রথম। তবে ওনার কাজ আমি দেখেছি, চমৎকার! এরপর প্রযোজকের সঙ্গে আলাপ হয়। সবকিছু ঠিকঠাক হয়। চুক্তি করে ট্রেনিংয়ে চলে যাই। তিনমাস ধরে কক্সবাজারে সমুদ্রে সার্ফিং ট্রেনিং করেছি। শেষ করে ঢাকায় আসি। গ্রুমিং করেছি। এইতো…

কেন মনে হলো এ চলচ্চিত্রটি করা উচিত?

‘আইসক্রিম’ মুক্তির পর অনেক অনেক ছবির অফার পেয়েছি। কোনো না কোনো কারণে সেসব ছবি আমার ভালো লাগেনি। এই কাজটির জন্য যখন অফার আসে, মনে হয়েছে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে এখানে। এ টাইপের কাজ আমাদের দেশে এর আগে একটিও হয়নি। সেজন্য আমার কাছে মনে হয়েছে, এই কাজটি করলে আমি অনেককিছু শিখতে পারবো, নতুন অভিজ্ঞতা হবে। এ ছবির একটি অংশ হয়ে থাকতে পারবো। এছাড়া পরিচালক, প্রযোজক সবকিছু বিবেচনা করেই চলচ্চিত্রটি করতে আমি রাজি হয়েছি।

কক্সবাজারে তিন মাস ধরে সার্ফিং শিখেছেন। ট্রেনিংয়ে ঝুঁকি ছিল?

অনেক ঝুঁকি ছিল। সার্ফিং জিনিসটা আমাদের দেশে এখনও সেখানে খাপ খায়নি। সব ধরণের মানুষ সাফিংয়ের সঙ্গে যুক্ত নন। আমার ক্ষেত্রে এমনও হয়েছে কয়েকবার শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছি পানির উপরে এসে। যখন বড়বড় ঢেউ আসতো তার মধ্যে ডুবে যেতাম। পানির মধ্যে তো নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। ঢেউ যতক্ষণ পর্যন্ত শান্ত না হয়েছে, ততক্ষণ পানির মধ্যেই থাকতে হয়েছে। এখানে অনেক ব্যাল্যান্স ও দমের ব্যাপার আছে। একটু একটু আমাকে আগাতে হয়েছে। আমি পরিচালক ও প্রযোজককে কথা দিয়েছিলাম আমাকে এটা পারতেই হবে! এছাড়া কোনো অপশন ছিল না। পুরোটা শিখতে আমার তিনমাস লেগে গেছে। ট্রেনিং করিয়েছেন নূর মোহাম্মদ। তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা।

এখন নিজেকে যোগ্য মনে করছেন?

Advertisement

পরিচালক আমাকে যেভাবে প্রস্তুত হতে বলেছেন সেভাবেই হয়েছি। সেজন্য লম্বা সময় নিয়েছি। তবে নিজের কাছে তাড়াহুড়ো ছিল। কারণ আমি মনে করতাম, এটা আমাকে যেকোনো ভাবে শিখতেই হবে। শুটিং আজ হোক বা কাল হোক। এর মধ্যে শুটিং পিছিয়ে, সেজন্য আমি আরও বেশি শেখার সুযোগ পেয়েছি। তিনটা মাস দৈনিক সাত ঘন্টা করে সময় দিয়েছি এর পিছনে। শুটিং করার সময় এবং ছবি মুক্তির পর বোঝা যাবে কতটা পেরেছি। তবে আমি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী আমি পারবোই।

আপনার চরিত্রটা একটু শুনি ভাই.. 

মূল গল্পটা সার্ফিং নিয়ে। আমার লাইফ ক্যারেকটার। এরমধ্যে পাঁচ-ছয়টি চরিত্র দাঁড়ানোর পর আমার চরিত্র দাঁড়িয়েছে। নারী সার্ফার নাসিমা এগুলোর মধ্যেই একটি। নাসিমার জীবনের কিছু অংশ এখানে থাকবে। সেটা করছে সুনেরা। এছাড়া ছবি চিত্রনাট্য পড়ে মনে হয়েছে আমার পক্ষে এটা করা সম্ভব। গল্পটা খুব অ্যামিউজিং। আমার চরিত্রের জেনে মনে হয়েছে এটা আমার করা উচিত। নইলে তো কাজই করতাম না। প্রায় তিন বছর মন মতো ছবির জন্য বসে ছিলাম। হয়তো আরও সময় বসেই থাকতাম।

ফেসবুক থেকে নেওয়া রাজের এই ছবিটি তুলেছেন নূর

তিনমাস মডেলিং ছেড়ে দূরে ছিলেন। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে?

একটা ইন্ডাস্ট্রি থেকে আরেকটা ইন্ডাস্ট্রিতে গেলেই আমি যে আর্থিক সামর্থ্যবান হব ব্যাপারটা এমন নয়। আমাদের দেশের পলিসিও তেমন নয়। মডেলিংয়ে কিন্তু আমার পায়ের নিচে মাটি ছিল। আমি চাইলেই কাজ করতে পারতাম, শুট করতে পারতাম। এসব কিছু থেকে সরে সিনেমার জন্য বসে থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায় কিনা জানি না। আমি আমার কাজটাকে ভালোবাসি। আমি মনে করি, ফ্যাশন, র‍্যাম্প মডেল হিসেবে বাংলাদেশে আমার যা যা করা দরকার, যতটুকু করা দরকার আমি করে ফেলেছি। তাই আমার মনে হয়েছিল, এবার অভিনয়ে একটু মনোযোগ দেই। সেজন্য সেক্রিফাইজ করেছি। কোনো না কোনোদিন এর প্রতিদান পাবো।

‘আইসক্রিম’ মুক্তির পর আপনার ক্যারিয়ারে কি কি পরিবর্তন এসেছে?

‘আইসক্রিম’ আমার জীবনের সবচেয়ে টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে কাজ করেছে। এরপর আমার মধ্যে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে। চিন্তাধারার কথা যদি বলি, ঠিক করেছি অভিনয় করার ক্ষেত্রে কখনও ছাড় দেব না। আমার মন থেকে যেটা ভালো লাগবে সেটাই করবো। কাজের প্রতি ভালোলাগা আর ভালোবাসা বেড়েছে আইসক্রিম থেকেই।

মডেলিং নাকি সিনেমা। আপনার মূল টার্গেট কোনটি?

অবশ্যই সিনেমা। সিনেমা যদি আমার হাতে না থাকে তবে আড়ং, ক্যাটস আই, এক্সটেসির মতো ফ্যাশন হাউজের শুটিং করতে হচ্ছে। র‍্যানডম কোনো কাজ করতে পারব না। আগে আমাকে সন্তুষ্ট হতে হবে। তারপর অন্যজনকে। আমি হ্যাপি হলেই কাজ করি। সিনেমার জন্যই সেক্রিফাইজ করে যাচ্ছি মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। বিশ্বাস করি, একদিন আমি এর ফল পাবো।