চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্ষুদ্রঋণের সত্য-মিথ্যা

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করায় বিষয়টি সর্বমহলে কিছুটা হলেও নাড়াচাড়া দিতে সক্ষম হয়েছে। ৯ মার্চ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ক্ষুদ্রঋণের নামে দারিদ্র ‘লালন-পালন’ করা হয়েছে। আর যারা ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসা করছে, তারা ধনশালী ও সম্পদশালী হয়েছে।এ বিষয়টি যেনো গবেষণা করে দেখা হয়।

ঐদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব সম্পর্কিত আলোচনায় এসব কথা বলেন। তিনি এও বলেন, দেশে আড়াই হাজারের মতো এনজিও রয়েছে যারা ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে থাকে। তারা ঋণ দিয়ে সুনামও অর্জন করেছে। কিন্তু দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ কমিয়ে আনতে পেরেছে এটিও প্রশ্ন। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ব্র্যাক এবং গ্রামীণ ব্যাংকের দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক পদ্ধতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেন।

বিজ্ঞাপন

সন্দেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনাকারী এনজিও ও প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ কিছুটা হলেও অখুশি বা হতাশ হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো জবাব দিতে দেখা যায়নি কোনো বিত্তশালী/কর্পোরেট এনজিও বা এনজিওদের জাতীয়ভিত্তিক কোনো অ্যালায়েন্স বা প্লাটফর্মকে (যেমন: এডাব, এফএনবি)।

এমন কী ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী এনজিওদের অন্যতম সমন্বয় সংগঠন সিডিএফ (ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম) এর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে কোনো ব্যাখা-বিবৃতিও লক্ষ্য করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী ক্ষুদ্রঋণের নামে এনজিওদের একটি বড় অংশের ( যারা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন না তারা নয়)  দারিদ্র লালন পালন এবং নিজেরাই ধনশালী ও সম্পদশালী হচ্ছে বলে যে অভিযোগ করেছেন সেটি যেমন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ তেমনি বিশ্লেষণেরও দাবি রাখে।

প্রথমত: নিজস্ব স্টাইলে বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট খোলামেলা মতামত উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু এই উচ্চারণ কতোটা যথার্থ এবং যৌক্তিক সেটিই বিবেচ্য বিষয়। প্রধানমন্ত্রী কী আসলেই ক্ষুদ্রঋণের বিষয়টি নিয়ে সত্য কথাটা বলেছেন? প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের সত্য বা অসত্যটা নিয়ে খানিকটা অনুসন্ধানও তাই জরুরি।

ক্ষুদ্রঋণের প্রবাহ পৃথিবীর যে কোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি এবং ভয়াবহ। শুরুতে ক্ষুদ্রঋণ মহৎ, মানবিক লক্ষ্য নিয়েই চালু করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এনজিওরাই ঋণটা সাধারণ মানুষের দরজায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দরিদ্র কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহজেই ঋণ পাওয়ার সুযোগ লাভ করে। একসময় সরকারও এটিকে উৎসাহ দিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে মূলধনের যোগানও দেওয়া হয়েছে। সরকার পিকেএসএফ নামের প্রতিষ্ঠানটিও গড়ে তোলে এই কাজে সহায়তার জন্যে। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই দেখা যাচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সাফল্য এনজিওদের শ্রেফ ব্যবসা ছাড়া  যেনো আর কিছুই নয় এবং তা যেনো সেই কাবুলিওয়ালাদের মতো।

প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে এ প্রশ্ন আসলেই যৌক্তিক যে, কেন, কোন স্বার্থে দেশে আজ হাজার হাজার এনজিও ‘ক্ষুদ্রঋণ’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে?

দুএকটি ঘটনা বাদ দিলে আসলে ক্ষুদ্রঋণ এখন পুরোদস্তুর ব্যবসা, আর কিছুই নয়। আর তাই অতিমাত্রায় মুনাফা অর্জনের বিষয়টি জড়িত হওয়ার কারণেই বহু আগেই ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনের মূল লক্ষ্য থেকে ছিটকে গেছে। এ কারণে সুযোগ বুঝে অনেকেই এনজিও খুলে বা ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে বিত্ত বৈভবের মালিকও বনে গেছেন।

ব্যাংকিং এর আদলে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ এখন একশ্রেণীর এনজিওদের সবচেয়ে ভাল ব্যবসা। এই ব্যবসা থেকে ভালো মুনাফা আসে। আর দরিদ্ররা হলো এই মুনাফার মূল যোগান দাতা। এই ব্যবসায় এনজিওদের জন্যে কোনো ঝুঁকি নেই। ঝুঁকির সবটুকুই গ্রহীতার জন্যে। এনজিওগুলো শুধু ঋণ দেবে আর কিস্তি তুলবে। কিস্তি দিতে না পারলে বাড়ির টেলিভিশন, জামাকাপড়, খাট-দরজা তারা নিয়ে যাবে। নিশ্চয় মনে আছে  সিডর এবং আইলার সময়ে নদী পারের আক্রান্ত মানুষগুলো যখন দিশা খুঁজে পাচ্ছিল না তখন কিস্তি তোলার জন্যে এনজিওগুলো আক্রান্ত মানুষগুলোর সাথে রীতিমতো কুৎসিত আচরণ শুরু করে। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে একজন গ্রহীতা ভালো ব্যবসা করলো কী করলো না, ঋণের টাকা দিয়ে খৎনার অনুষ্ঠান করলো কিনা সেটাও দেখার বিষয় নয়। এনজিওগুলোর দেখার বিষয় যেনো শুধু ঋণ দেওয়া আর সময়মতো কিস্তিগুলো নিয়মমাফিক তুলে আনা।

এই ব্যবসার আড়ালে তাই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও বেশি ঘটছে। এর আগে এমনও ঘটনা ঘটেছিল কিস্তি শোধ না করায় লাশ পর্যন্ত দাফন করতে দেওয়া হয়নি। নাকফুল পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়। কেউ কেউ অবশ্য এরকম ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে আড়াল করার চেষ্টা করেন। অনেকেরই মনে থাকার কথা ২০১৩ সালে বিবিসি বাংলাতে সাংবাদিক সোফি কোজিনস এর ‘বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের দায় মেটাতে কিডনি বিক্রি’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। ঐ রিপোর্টে তিনি দেখিয়েছিলেন জয়পুরহাট জেলার গ্রামাঞ্চলের প্রচুর দরিদ্র মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে নিরুপায় হয়ে কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করছে। রিপোর্টে তিনি আরও জানিয়েছিলেন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃ-তত্ত্বের অধ্যাপক মনির মনিরুজ্জামান এক গবেষণায় মোট ৩৩ জন মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যারা তাদের কিডনি বিক্রি করেছেন। কিডনি বিক্রেতারা জানিয়েছিলেন,  ঋণ শোধ করতে না পেরেই তারা এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শুধু কিডনি নয়, প্রায়শই আমরা পত্রিকাতে দেখতে পাই এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে তালাক, আত্মহত্যার ঘটনা। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় কিছুদিন আগে খবর বেরিয়েছিল ভোলা, বরগুনাতে ক্ষুদ্রঋণের কারণে স্ত্রী তালাকের ঘটনা বাড়ছে। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে এ পর্যন্ত নিরপেক্ষভাবে যত গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে অতি সহজেই দারিদ্র দূর  করা যাবে এমন কোনো তথ্য প্রমাণ নেই।

বর্তমানে যে পদ্ধতিতে এনজিওরা ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করছে সেখানে রয়েছে নির্মমভাবে সুদ চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা। যার ফলাফলে পারিবারিক অশান্তি, আত্মহত্যা বা চুরির ঘটনাও ঘটে চলেছে।

ক্ষুদ্রঋণের সুদ নিয়ে বহুবার প্রশ্ন উঠলেও এর কোনো সুষ্ঠু সুরাহা হয়নি। যে যেমন পারছে সুদ বা মুনাফা নিচ্ছে। কেউ চল্লিশ শতাংশ, কেউ ত্রিশ শতাংশ। দেখার কোনো মানুষ নেই। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অর্থে কোনো নিয়ম কানুন মানা হয় না। অবশ্য খাতা-কলমে হাজারটা গাইডলাইন থাকলেও সেটা লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে এনজিওগুলো স্থানীয় এলাকার চাহিদা যাচাইবাছাই না করে আগেই নিজেরা একটি এলাকায় কী পরিমাণ টাকা ঋণ ব্যবসাতে বিনিয়োগ করে তা ঠিক করে ফেলে। এগুলো এনজিওর  পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদনও নেওয়া হয় না। এরপর যত রাজ্যের চাপ চলতে থাকে ম্যানেজার আর মাঠকর্মীদের উপরে। মাঠকর্মীরা প্রতিমাসে কী পরিমাণ টাকা ‘ডিসবার্স’ করবে সেই টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ‘ডিসবার্স’ করতে না পারলে চাকরি থাকবে না, এমন খড়গও সামনে ঝুলতে থাকে।

এমতাবস্থায় মাঠকর্মীরা নিজেদের টার্গেট পূরণের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই অনুসরণ না করেই ঋণ দিতে থাকে। আর এই ঋণের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব হন। ঋণের এই ফাঁদ থেকে বাঁচতে অনেকেই এক বা একাধিক এনজিও থেকে ঋণ নেন। শেষমেশ এক ভয়াবহ পরিণতিই যেনো অপেক্ষা করতে থাকে তাদের জন্য।

ক্ষুদ্রঋণ এ দেশে নতুন নয়, অনেক আগে থেকেই চলমান। এখন এ দেশকে ক্ষুদ্রঋণের দেশ বললেও ভুল হবে না। যদিও এই ঋণের প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী মহানায়ক হিসেবে চিহ্নিত অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুস। তবে গবেষকরা বলেন, পাবনা, নাটোর এলাকার ক্ষুদ্র কৃষকদের উন্নয়নে এ ধরনের ঋণের সূচনা খোদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করেছিলেন অনেক আগেই। খুব সংক্ষেপে বললে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন দাতা এবং মিশনারী সংস্থার সহায়তায় বে-সরকারি পর্যায়ে দেশের বিশেষ বিশেষ অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের মাঝে চাহিদা মোতাবেক ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। সত্তর দশকে বিভিন্ন জায়গাতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে কিছু এনজিও। আশির দশকে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকতা লক্ষ্য করা যায়।কিন্তু নব্বই দশক এবং তৎপরবর্তীতে এটি এক ধরনের এনজিওদের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।

বর্তমান সময়ে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ এর জালের বাইরে যেমন কোনো গ্রাম নেই তেমনি শহরের অলিগলি খুপচিও বাদ নেই। সবখানেতেই এই ব্যবসাটি এখন মহা জমজমাট। সেই নিরিখে ক্ষুদ্রঋণ অবশ্যই একট বড় ধরনের ব্যবসাতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবসাটি যে জমজমাট তা এনজিওগুলোর ( যারা ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা করে, অন্যরা  নয়)  দ্রুত সম্পদবৃদ্ধির দিকে তাকালেই বুঝা যায়। দশ- বিশ বছর আগে যে সব এনজিও ছাপড়া ঘরের মধ্যে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করেছিল তাদের মূলধন এখন শত শত কোটি টাকা। একই সাথে জায়গা-জমি, বহুতল ভবন, কৃষিজমি, বাগানবাড়ি, আধুনিক প্রশিক্ষণ সেন্টার, হোটেল-রেষ্টুরেন্টসহ অপরাপর ব্যবসা এসবেরও শেষ নেই।

ক্ষুদ্রঋণের শক্তি দিয়েই ব্র্যাক, আশা, টিএমএসএস, জাগরণী চক্রসহ এরকম অনেক এনজিও আজ সম্পদের প্রাচুর্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণের লভ্যাংশ দিয়ে ব্র্যাক, টিএমএসএস-এর মতো এনজিওরা হাজারটা ব্যবসা ফেঁদে আজ কর্পোরেট এনজিওতে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো ক্ষুদ্রঋণ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার টাকা দিয়ে একশ্রেণীর এনজিও কর্মকর্তারা রীতিমতো উচ্চবিলাসী জীবনযাপন করছেন। সভা-সেমিনারে যোগদানের নামে দেশ-বিদেশ ঘুরছেন। এসব এনজিও কর্মকর্তারা কোটি টাকার উপরের দামে কেনা গাড়ি ছাড়া চলেন না। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে তাদের নামে-বেনামে একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি-গাড়ি রয়েছে। উচ্চমূল্যে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও শেখাচ্ছেন দেশের বাইরে। সত্যটা হলো বেশিরভাগ এনজিও কর্মকর্তাই (যারা করেন না তাদের স্যালুট) নানা ছলেবলে কৌশলে এসব ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন নিজ নিজ এনজিওর তহবিল থেকেই। কারণ প্রায় সবগুলো এনজিওর নির্বাহী বা পরিচালনা পর্ষদই নিছক পুতুলের ভূমিকা পালন করা ছাড়া আর কিছুই করে না।

ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনা এবং আরোপিত সুদ  নিয়ে দেশের অর্থনীতিবিদরাও নানা সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বছর কয়েক আগে পিকেএসএফ-এর একটি সভায় অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ স্পষ্টত বলেছিলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ’ শব্দটা এখন বদলানো প্রয়োজন। দারিদ্র বিমোচনে এটি খুব কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন সেটি প্রধানমন্ত্রীর ড. ইউনুস বিষয়ক ক্ষুব্ধতার সাথে যুক্ত বা এক না করে দেখে বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী জেনেশুনেই বলেছেন। ক্ষুদ্রঋণের উপর সুদ কমানো, মুনাফার টাকার ব্যবহার এসবের নজরদারিটা অবশ্যই জরুরি। ক্ষুদ্রঋণের বোঝাটা বড় হলে গরিবেরই কষ্ট হয়, তাদের জীবনে ঝুঁকি বাড়ে। আর সেই কষ্ট এবং ঝুঁকি থেকে নিষ্কৃতি পেতে কেউ কিডনি বিক্রি করে, কেউ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়, কেউ আত্মহত্যা করে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Bellow Post-Green View