চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর প্রাক-প্রস্তুতি

খুলেছে দোকানপাট। রাজধানীর বুকে চলছে সবধরনের পরিবহন। করোনা পরিস্থিতি দিনদিন খারাপের দিকে গেলেও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন। জীবিকার তাগিদ তুচ্ছ করেছে জীবনের মায়াকে। সংক্রমণের শঙ্কা প্রবল জেনেও মানুষ নেমেছে পথে, ছুটছে কর্মস্থলে। আর ক্রিকেটাররা ঘরে বসে মাঠে নামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

জুলাইয়ে ভারতের সঙ্গে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের সঙ্গে তিন টেস্টের সিরিজ আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। তাদের খেলোয়াড়রাও নেমে গেছে অনুশীলনে। তিন সংস্করণের ১৩ বোলারকে নিয়ে সোমবার শুরু হয়েছে আবাসিক ক্যাম্প। আইসিসির গাইডলাইন মেনেই হচ্ছে সব।

টাইগার ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা বিসিবি কী ভাবছে তাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে? প্রশ্ন ছিল ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানের কাছে। চ্যানেল আই অনলাইনকে বিসিবির এ পরিচালক জানালেন ক্রিকেট ফেরাতে কাজ শুরু করার কথা।

‘শ্রীলঙ্কা আর আমাদের অবস্থা এক নয়। ওদের সংক্রমণ কম, আমাদের বেশি। আমাদের দেশের অবস্থা বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা আরও ৮-১০ দিন দেখব পরিস্থিতি কী হয়, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত আইসিসির দেয়া গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি। ইনডোর, ড্রেসিংরুম জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে, মাঠ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। সব প্রস্তুতি শেষ হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।’

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর এক ধরনের প্রাক-প্রস্তুতিই শুরু হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তামিম-মুশফিকদের আবারও মাঠে দেখা যাবে সেটি কেউই বলতে পারছেন না। সব নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির উপর। বলা চলে করোনার দিকে তাকিয়ে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাই।

ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর তাড়া থাকত, যদি জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে বাংলাদেশ দল এখনই সম্মত হতো। ম্যাচ তিনটি আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হলেও করোনা দুর্যোগের মধ্যে সিরিজটি নিয়ে ইতিবাচক হতে পারছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সিরিজটি নিয়ে শুনিয়েছেন অনিশ্চয়তার কথা। শ্রীলঙ্কা চাইলেই যে সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার বাস্তবতা আছে, এমন মনে করেন না তিনি। সোমবার আকরাম বললেন, ‘সত্যি কথা বলতে, সিরিজটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যেহেতু টেস্ট সিরিজ, অনেকবেশি প্রস্তুতির দরকার আছে। অনেক সময়েরও ব্যাপার।’

বিসিবি অনলাইনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও মাঠের ক্রিকেট বন্ধ আড়াই মাস। করোনায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হয়ে যায় একটি রাউন্ড হওয়ার পরই। ১৭ মার্চ থেকে গৃহবন্দি তামিম-মুশফিকরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না; বরং খারাপের দিকে যাচ্ছে। ক্রিকেটারদের অপেক্ষাও দীর্ঘ হচ্ছে।

শেয়ার করুন: