চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যারিয়ারে টেলি সামাদের একমাত্র ‘আক্ষেপ’

বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতা টেলি সামাদ। সত্তরের দশক থেকে নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি। মাঝখানে অল্প সময়ের বিরতি নিলেও ২০১৫ সালেও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। পেয়েছেন হাজারো মানুষের ভালোবাসা।

ভাত দে, রঙিন রূপবান, অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, কেয়ামত থেকে কেয়ামতসহ বেশকিছু ছবিতে তার অভিনয় দাগ কেটে গেছে বাংলার দর্শকের মনে। অথচ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার নিয়ে একটি ‘আক্ষেপ’ ছিলো এই অভিনেতার। মৃত্যুর কিছুদিন আগেও অকপটে সেই আক্ষেপের কথা বলে গেছেন তিনি!

কী সেই আক্ষেপ? ২০১৬ সালে চলচ্চিত্র পুরস্কারের একটি অনুষ্ঠানে নিজের আক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন টেলি সামাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, আমি প্রায় চার দশক ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত। এতগুলো বছরে আমি পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। প্রায় প্রত্যেকটি ছবিতে আমার অভিনয় প্রশংসিত ছিল। কিন্তু শেষ জীবনে এসে আমার একটাই আক্ষেপ, আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম না।

বিজ্ঞাপন

হ্যাঁ, বিস্মিত শোনালেও এটাই সত্যি। সত্তরের দশক থেকে চলতি দশকে পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে টেলি সামাদকে। কিন্তু পুরো ক্যারিয়ারে কোনো ছবির জন্য তার ভাগ্যে জুটেনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার! শেষ জীবনে এ বিষয়টি নিয়ে সুযোগ পেলেই ক্ষোভ প্রকাশ করতেন তিনি।

তার ভাষ্য ছিলো, আমার পুরো চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে আমি শুধু অভিনয়ের বলয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। প্রযোজনা করেছি, প্রয়াত অভিনেতা দিলদারের সঙ্গে ছবিতে গানও গেয়েছি। এসবের প্রাপ্তি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছি। সেসব পুরস্কারে আমার ঘর ভর্তি হয়ে আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আমার কপালে জোটেনি।’

কিছুটা বিতৃষ্ণা নিয়ে বলতেন, এটা যেহেতু জাতীয় চলচ্চিত্র পর্যায়ের পুরস্কার সেহেতু আমার মনে হয় এটা অর্জন করতে হলে জাতে ওঠা লাগে। কবে যে জাতে উঠবো আর কবে এই পুরস্কারটা পাবো সেটা বোধহয় ঈশ্বর মালুম!

না। জীবিত অবস্থায় সেই সৌভাগ্যের দেখা পাননি টেলি সামাদ। ৭৪ বছর বয়সে শনিবার (৬ এপ্রিল) পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে তিনি এখন অন্য ভুবনের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন