চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোম্যানের গুড বুকে ‘নাম কাটা’ যাচ্ছে যাদের

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাও চলছে, লা লিগায় এক্কেবারে টানাটানি অবস্থা বার্সেলোনার। কোচ রোনাল্ড কোম্যানের কপালে ভাঁজ বাড়ছে তো বাড়ছেই। খাটছে না তার নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ১৩ রাউন্ড খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে কাতালানরা যদিও টেবিলের পাঁচে, জয় সবে ৬ ম্যাচে।

টেবিলের শীর্ষের দলের সাথে বার্সার পয়েন্ট ব্যবধান এখন ৮, সেটিও এক ম্যাচ কম খেলে অর্জন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। সমান পয়েন্ট ব্যবধান রিয়াল মাদ্রিদের সাথেও, রামোস-বেনজেমাদের নিয়ে গড়া চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলটি অবশ্য এক ম্যাচ বেশি খেলেছে মেসি-পিকেদের চেয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

লিগের এপর্যায়ে এসে কোম্যান কোথায় প্রতিপক্ষদের নিয়ে ছক কষে কাটাবেন, উল্টো তার সময়ের বেশিটা কাটছে নিজ দল গোছাতেই। বুড়ো শিষ্যদের তাড়িয়েছেন, কাউকে হয়ত সুযোগ দিচ্ছেন এখনও। কিন্তু যাদের উপর ভরসা করে কোম্যানের নতুন বার্সা গড়ার তোড়জোড়, তারা কি পারছেন কোচের আস্থার প্রতিদান দিতে?

কেউ পারছেন, কেউ পারছেন না। অনেকেই ধারাবাহিক নন। পারা না পারার চেয়েও বড় দুর্ভাবনা হয়ে উঠেছে বয়সে তরুণ এই শিষ্যদের যারাই আস্থা হারাচ্ছেন কোচের, তাদের একাধিক যোগ্য বিকল্পও নেই কোম্যানের বেঞ্চে। সঙ্গে আবার আছে চোটের মহামারী!

কোম্যানের গুড বুকে ‘নাম কাটা’ যাওয়াদের সর্বশেষ জন ক্লেমেন্ট লেংলে। জেরার্ড পিকের সাথে একাদশের প্রথম পছন্দের শিটে যার নাম থাকত অবধারিতভাবে। এবছর নামের প্রতি একদমই সুবিচার করতে পারছেন না ফ্রেঞ্চম্যান, করে বসছেন মারাত্মক কিছু ভুল। যা ভোগাচ্ছে দলকে। কোম্যানও আস্থা হারিয়ে বসছেন লেংলের উপর।

এক ম্যাচে বিরতির সময় মাঠ থেকে উঠিয়ে নেয়ার পর লেংলেকে শেষ দুম্যাচে একাদশে রাখেননি কোম্যান। তার জায়গায় নেমে রোনাল্ড আরাউজো ও অস্কার মিনগুয়েজ দারুণ পারফর্ম করেছেন রিয়াল সোসিয়েদাদ ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে।

বিজ্ঞাপন

লেংলের এখন এমন নড়বড়ে অবস্থা, কেবল কোম্যান একান্তভাবে চাইলেই তিনি একাদশের দুয়ার খোলা পাবেন। একই অবস্থা স্যামুয়েল উমতিতিরও। চোট থেকে ফেরার পর উমতিতির চেয়ে তরুণ শিষ্যদেরই সেন্ট্রাল ডিফেন্সের সেনানী রাখতে বেশি পছন্দ করবেন বার্সা কোচ।

কোম্যানের সুনজর হারানো আরেকজন ফিলিপে কৌতিনহো। মৌসুমের শুরুর কয়েক ম্যাচে বেশ বাজে খেলেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। মাঝে ঝলকের আভাস দিলেও অফফর্মে পড়েছেন ফের। যা দুবছর আগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। একই কারণে তখন বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ধারে ছেড়ে দিয়েছিল বার্সা। বুন্দেসলিগায় দুর্দান্ত পারফর্ম করার পর আবার তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ন্যু ক্যাম্পে।

ফিরে যে বেহালদশা কৌতিনহোর, ঝুঁকি বাড়ছে দিনকে দিন। এমন চলতে থাকলে কোম্যান তাকে যেকোনো দিন পুরোপুরি সাইডবেঞ্চে বসিয়ে দিতে পারেন। সুযোগ করে দিতে পারেন তরুণ পেদ্রিকে। অবশ্য এখনও কৌতিনহোর উপর আস্থা রেখে চলেছেন কোচ।

ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে কয়েক মিনিট সুযোগ পেয়ে ভালোই খেলেছেন মিরালেম পিয়ানিচ। জুভেন্টাস থেকে তাকে বড় শখ করে আনলেও নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন না ইতালিয়ান তারকা। কোম্যান যে তার উপর আস্থাই রাখছেন না, বসিয়ে রাখছেন বেঞ্চে।

অন্যদিকে ফ্রান্সিসকো ট্রিনকাও ও রিকি পুইগের আক্রমণাত্মক মেজাজ হারিয়ে বসা শুধু কোম্যানই নয়, অবাক করে চলেছে সবাইকেই। এমনকি তারা এমন কোনো কঠোর পরিশ্রমও করছেন না দলে ফেরার জন্য! অন্তত কোচের দৃষ্টিতে দেখলে বিষয়টা তেমনই।

বড় দামে আনা অ্যান্টনিও গ্রিজম্যান, অভিজ্ঞ সার্জিও বুসকেটস, মার্টিন ব্র্যাথওয়েটরাও ভালো কিছু দিতে পারছেন না কোম্যানকে। সেটি চিন্তার ভাঁজ বরং বাড়াচ্ছে বার্সা কোচের কপালে।

সামনে নতুন বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট, প্রতিপক্ষ ফ্রেঞ্চ জায়ান্ট নেইমার-এমবাপেদের পিএসজি। লিগে ততদিনে আরও কিছু ম্যাচ পার হয়ে যাবে বড়দিনের পর। বার্সা যদি দ্রুতই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ফিরে আসতে না পারে, কয়েক সপ্তাহ পর লিগের মাঝপথেই এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়াতে পারে যে- প্রতিটি ম্যাচই শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্য বাঁচা-মরার কোম্যানের দলের জন্য।

বিজ্ঞাপন