চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাবিলার নাম নেই নিহত ও আহতের তালিকায়, বাচ্চা নিয়ে পলাতক গৃহকর্মী

ইউএস বাংলা এয়ারলাইনন্সের কেবিন ক্রু শারমিন আক্তার নাবিলা জীবিত না মৃত, তা নিশ্চিত হতে পারছে না তার স্বজনরা। কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃত ও জীবিতদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেখানে নেই নাবিলার নাম। অন্যদিকে ঢাকায় নাবিলার বাসা থেকে তার বাচ্চাসহ পলাতক গৃহকর্মী।

নাবিলার স্বজনরা জানান, দুপুরের ফ্লাইটে নেপাল যাওয়ার কথা ছিল নাবিলার এবং তার ফোনটি দুপুর থেকেই বন্ধ। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে সাধারণ যাত্রী, পাইলট ও ক্রু’দের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর নামে ভুল থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাবিলার বড় ভাই নাদিম সরকার।

তালিকায় থাকা ৩৫ নম্বরে মি. খাজা হুসাইন (ক্রু), যাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পরের নামটি কে.এইচ.এম শাফি (ক্রু)। ৩৫ ও ৩৬ নম্বরে একই ব্যক্তির নাম দু’বার এসেছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। মি. খাজা হুসাইন এর সংক্ষিপ্ত রুপ কে.এইচ.এম বলে ধারণা করছেন তিনি। তার ধারণা ৩৬ নম্বর নামটি হবে তার বোনের।

Advertisement

কে.এইচ.এম শাফি’র ফেসবুক আইডি ঘেটে দেখা গেছে তিনি মারা গেছেন। নিহত শাফিকে ট্যাগ করে তার নিকটাত্মীয় ও সহকর্মীরা আবেগঘন পোষ্ট দিয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নাবিলার বড় ভাই নাদিম সরকার বলেন ‘হয়ত লাশ শনাক্ত করতে পারেনি বলে তারা এখনও নাম তালিকায় তোলেনি। লাশ পাওয়া যায়নি বা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে যেটা সনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে সবার। বারবার কল দিচ্ছি তার নাম্বার বন্ধ। নাকি অন্য কোথাও ফ্লাইট ছিল!’

নাদিম সরকার বলেন নাবিলা উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে একটি বাসায় দুই বছরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। ফ্লাইট থাকলে গৃহপরিচারিকা তার সন্তানকে দেখাশোনা করতেন। নাদিম সরকার অভিযোগ করেন বিমান দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নাবিলার সন্তানকে পাওয়া যাচ্ছে না। নাবিলার ২ বছর বয়সী কন্যার নাম নিষাদ।

নাদিম সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হয়ত গৃহপরিচারিকা নাবিলার সন্তানকে চুরি করে অন্যত্র নিয়ে গেছে। স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মেয়েটির সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় অথবা ৯৯৯ অথবা নিষাদের বড় চাচা বাবলুর ০১৯১৭৩৩৬৩৪০ বা ০১৭০৬ ০০১৯৫০ নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডুতে নামার সময় ইউএস বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। আরোহীদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। যাত্রী এবং ক্রু মিলে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশীর মধ্যে মাত্র ৯ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন।