চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কুমারীত্ব পরীক্ষা’ বাতিল করলো পাকিস্তানের একটি আদালত

ধর্ষণের শিকার কিংবা ধর্ষণ পরিস্থিতি থেকে বেঁচে যাওয়া নারীর ‘কুমারীত্ব পরীক্ষা’ বাতিল করেছে পাকিস্তানের একটি আদালত। আদালতের এ রায়কে যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার এবং নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। 

বাতিলের এ আদেশটি আসে লাহোর হাইকোর্ট থেকে। রায়ে বিচারক আয়েশা মালিক বলেন: ধর্ষণ নিশ্চিতে কুমারীত্ব পরীক্ষার নামে যে প্রক্রিয়াটি এতোদিন থেকে চলে আসছে তা ‘অমানবিক’ এবং ‘নারীর শরীরের গোপনীয়তার লঙ্ঘন’।

বিজ্ঞাপন

কুমারীত্ব পরীক্ষাকে অবমাননাকর প্রথা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন: কুমারীত্ব পরীক্ষার মধ্যদিয়ে মূল ঘটনাকে পাশে রেখে যৌন সহিংসতার শিকার নারীর প্রতি সন্দেহ পোষণে ব্যবহৃত হয়।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতি আয়েশা মালিক তাৎক্ষণিকভাবে কুমারীত্ব পরীক্ষাকে স্থগিতের আদেশ দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের আইনে ধর্ষণের বিচারে এমন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। রায় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি।

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে দীর্ঘদিন থেকে ধর্ষণ নিশ্চিতে ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ নামক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে কুমারীত্ব পরীক্ষা করা হয়ে আসছিলো।

‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ কী: দেশটির সরকারি হাসপাতাল গুলোর ফরেনসিক বিভাগে কুমারীত্বের এ পরীক্ষা করা হতো। পরীক্ষার সময় কর্তব্যরত ডাক্তার কিংবা প্যাথলজিস্ট হাতে গ্লাভস পরে যৌন সহিংসতার শিকার নারীর একান্ত প্রত্যঙ্গে আঙুল প্রবেশ করিয়ে তার ‘টেন্ডারনেস’ বা ভঙ্গুরতা পরীক্ষা করতো। এ প্রক্রিয়ায় কুমারীত্ব পরীক্ষাকেই বলা হয় ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’। যা বাতিলে দীর্ঘদিন থেকে দেশটির মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো সোচ্চার ছিলো।