চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কুবিতে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ায় শিক্ষক অভিযুক্ত, শাস্তির নির্দেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেটে তার বিরুদ্ধে আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুসরণ করে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মাহবুবুল হক ভূঁইয়া। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে মাহবুবুল হক ভূঁইয়া নিউজের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর নাম মেধাতালিকার ১২তম অবস্থানে চলে আসার ঘটনায় ওই ইউনিটের আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার ছিল। অথচ সাংবাদিকের সোর্স আইডেন্টিফাইয়ের নামে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমিই যে তথ্য দিয়েছি সেটা প্রমাণিত না। আমি যদি দায়ী হয়েই থাকি তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক। কীভাবে সেটি প্রমাণিত হলো, সেটি সবাইকে জানানো হোক। আমিও নিজেও জানতে চাই। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমি তৎকালীন ডিন আর বি ইউনিটের সদস্য-সচিবের বিচার চাই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেছে মর্মে ২০১৯ সালের নভেম্বরের ২৯ ও ৩০ তারিখ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ ঘটনা তদন্তে তাৎক্ষণিক ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে তদন্ত কমিটি করে গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি জানায়, উত্তরপত্রে অন্য শিক্ষার্থী ভুলে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর রোল নাম্বার ভরাট করায় এ ফলাফল চলে আসে। এরপর পুনরায় ঘটনাটির অধিকতর তদন্ত করতে ‘উচ্চতর তদন্ত কমিটি’ গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত শেষে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেদন জমা দেন। গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেটে বিষয়টি উঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের তদন্তে ওই ঘটনার সার্বিক বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, শিক্ষার্থীর ভুলে এমন ঘটনা ঘটেছিল তা প্রমাণিত। তাছাড়া যিনি পরীক্ষার হলে দায়িত্বে ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসের দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের দায়িত্বহীনতা ও ভুল ছিল।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের কাছে কে এই তথ্য দিয়েছে সে বিষয়ে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার, তথ্য বিশ্লেষণ, মোবাইল কল রেকর্ড, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছি যে মাহবুবুল হক ভূঁইয়া ওই তথ্য সরবরাহ করেছেন। আমাদের উপর তদন্তের যে দায়িত্ব ছিল তা আমরা সম্পন্ন করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা তাঁর শাস্তির কোনো সুপারিশ করিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার বিষয়ে যে তদন্ত হয়েছিল তার প্রতিবেদন গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উঠেছে। সিন্ডিকেটে আলোচনা হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি ভুল তথ্য বাইরে সরবরাহ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সকলে মনে করে এটা গর্হিত অপরাধ। এরজন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আপিল ও শৃঙ্খলাবিধি-২০১৮ অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, আমি পুরো প্রতিবেদনটা এখনো পড়িনি। প্রতিবেদনের শুধু সুপারিশের অংশটা তদন্ত কমিটির আহবায়ক সিন্ডিকেটে পড়ে শুনিয়েছেন। প্রতিবেদনে এই কথাবার্তা বিস্তারিত তথ্যের মাঝে নিশ্চয়ই আছে।
ফরহাদুর রহমান