চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কীভাবে এলো বকশিশ প্রথা

রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে বেয়ারাদের বকশিশ দেওয়া এখন যে কোনো দেশেই স্বাভাবিক ঘটনা। এর বাইরে কারো বাসায় কেউ পণ্য ডেলিভারি দিলে বকশিশ দেন। বাড়ির দারোয়ানকেও মাঝে মাঝে বকশিশ দিতে হয় নানা কারণে। কিন্তু কেউ কি কখনো ভেবে দেখেছেন কেন এ বকশিশ দিচ্ছেন? আর এই বকশিশের প্রচলনই বা কীভাবে হলো?

বলা হয়ে থাকে ষোড়শ শতকে ইংল্যান্ডে প্রচলন হয় এ বকশিশ প্রথা। সেদেশে হোটেলে বা অন্য কোনো স্থানে রাত কাটানো অতিথিরা আয়োজক কর্মীদের টাকা দিয়ে যেতো। সেখান থেকেই পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বকশিশের প্রচলন।

বিজ্ঞাপন

মূলত কাজে সন্তুষ্ট হয়ে কিংবা অতিরিক্ত সেবা পেতেই আমরা বকশিশ দিয়ে থাকি। অনেক সময় অবৈধভাবে কোনকিছু পেতেও আমরা বকশিশের পথ বেছে নেই।

দেশভেদে বকশিশের রীতি আবার ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ যখন বিদেশ ভ্রমণ করে তখন সেই দেশের বকশিশ রীতি সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান থাকলে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁগুলোতে বেয়ারারা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ, ব্রাজিল ও নিউজিল্যান্ডে ১০ শতাংশ এবং সুইডেনে ৫ তেকে ১০ শতাংশ বকশিশ পেয়ে থাকে।

তবে অনেক দেশেই আবার বকশিশের প্রচলন নেই। জাপানে বকশিশের রীতি নেই। সেখানে কেউ বকশিশ হিসেবে টাকা রেখে গেলে তা বিভ্রান্তি তৈরি করে কে টাকা রেখে গেলো এবং কেন?

বকশিশের প্রথা দেশ থেকে দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীরা নিজ দেশে বকশিশের হার নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যাপক প্রচলন থাকায় সেখান থেকে বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

পেনিসেলভেনিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এডওয়ার্ড ম্যানসফিল্ড বলেন: শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বকশিশ প্রথার সঙ্গে খাপ খায়। এবং পরে তারা দেশে ফিরে এই চর্চা অব্যাহত রাখে। এভাবেই দেশে দেশে বকশিশের হারের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

নিউ ইয়র্কের কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল লিন বলেছেন: গবেষণায় দেখা গেছে কোন দেশের অধিক মিশুক প্রকৃতির লোকজন সেবা প্রদানকারীদের বকশিশ দিয়ে থাকে এবং এর পরিমাণও হয় বেশি।

তবে এই কারণেই যে কোনো কোনো দেশ অন্য দেশের তুলনায় বেশি করে বকশিশ দেয় তা নয়। সামাজিক নিয়ম, মজুরির ভিন্নতা এবং সেবামূল্যের বাধ্যবাধকতা এক্ষত্রে বড় ভূমিকা রাখে বলে জানান লিন।

লিন বলেন, বকশিশ দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রেরণা কাজ করে। পরেরবার আসলে যেন ভালো সেবা পাওয়া যায় বা সেবাদানকারীকে খুশি করার জন্য বা সামাজিক মর্যাদা লাভের জন্য কেউ কেউ বকশিশ দিয়ে থাকে। আবার অনেকেই সামাজিক রীতি মেনে চলতে এবং অগ্রহণযোগ্যতা এড়াতে বকশিশ দিয়ে থাকে।

অনেক রেস্তোরাঁর মালিক জানান, বকশিশের ফলে অনেকে কর্মচারীদের বেতন কম দেয় এবং খাবারের দামও তুলনামূলক কম রাখে। তবে কর্মচারীদের প্রাপ্ত বকশিশে মালিকদের কোনো অধিকার থাকে না এবং অন্যকর্মীদের তা ভাগ করে দেয়া হয় না।

আবার বকশিশ প্রথা গ্রাকদের সন্তুষ্টিকে প্রভাবিত করে। লিন এবং অন্য একজন গবেষক দেখিয়েছেন, যেসব রেস্তোরাঁ বকশিশ প্রথা মেনে চলে না গ্রাহকরা তাদের পছন্দের তালিকায় নিচের দিকে রাখে। যারা বকশিশ তুলে দেয় গ্রাহকরা তাদের পাঁচের মধ্যে তিন পয়েন্ট দিয়ে থাকে। আবার এই বকশিশ যদি মূল্য তালিকায় বাধ্যতামূলক করা হয় গ্রাহকরা সেটাও ভালোভাবে দেখে না।

লিন ও তার সহযোগী আরও বলেন, গ্রাহকরা মনে করেন বকশিশ ভালো সেবা দিতে সেবাদানকারীদের উদ্বুদ্ধ করে।
সূত্র: বিবিসি

Bellow Post-Green View