চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিংবদন্তি আলোকচিত্রীর বিষণ্ণ প্রস্থান

বাংলাদেশের আধুনিক আলোকচিত্রশিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন আনোয়ার হোসেন। আলোকচিত্রে বাংলাদেশকে তিনিই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন। তার কল্যাণেই সত্তরের দশক থেকে পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশের আলোকচিত্র আজ সমাদৃত। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন সর্বাধিক সংখ্যক আন্তর্জাতিক পুরস্কার, খেতাব ও সম্মাননা। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শুরুতেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন বিখ্যাত মানুষটি। এই মহান কিংবদন্তীর হঠাৎ প্রস্থান আমাদের বিষাদিত করেছে।

স্বচ্ছ্বল পরিবারে জন্ম হয়নি, তাই শুধু নিজের ইচ্ছে আর অধ্যাবসায়ের ফলে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোগ্রাফিতে মনোনিবেশ করেন। হয়ে উঠেন সেরার সেরা। ১৯৬৮ সালে পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার হিসেবে পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। একই বছরে জাপানে অনুষ্ঠিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ আলোকচিত্রশিল্পীর স্বর্ণপদক অর্জন করেন আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ক্যামেরা কাঁধে যোগদান করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। তার তোলা বেশকিছু আলোকচিত্র আজও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নির্মমতার স্বাক্ষী বহন করে চলেছে।

Advertisement

শুধু আলোকচিত্রশিল্পী হিসেবে নয়, তিনি একাধারে ছিলেন স্থপতি ও সিনেমাটোগ্রাফার। ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মধ্য দিয়ে চিত্রগ্রাহক হিসেবেও নিজের অনন্য মেধার পরিচয় দেন আনোয়ার হোসেন। শেখ নেয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকেরের যৌথ পরিচালনায় এই ছবিটি তৎকালীন সময়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এই ছবির জন্যই আনোয়ার হোসেন প্রথমবার শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে চলচ্চিত্রগুলো ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে এবং স্মরণীয় হিসেবে উচ্চারিত হয় তার সিংহভাগ ছিল আনোয়ার হোসেনের চিত্রগ্রহণ। সূর্য দীঘল বাড়ী, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী, পুরস্কার, অন্য জীবন, দহন, হুলিয়া, চাকা, চিত্রানদীর পাড়ে, লালসালু, লালন এবং শ্যামল ছায়া বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে বিদায় জানান সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও শুভান্যুধায়ীরা।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় অভিমান করে প্যারিসে বসবাস শুরু করলেও দেশের টানে, মাটির টানে ক্যামেরা কাঁধে বার বার বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন আনোয়ার হোসেন। বাংলার রূপ, সৌন্দর্যকে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যামেরার চোখ দিয়ে। পাঁচবার বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত সৃষ্টিশীল আনোয়ার হোসেনের প্রয়াণ তাই বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও চলচ্চিত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।