চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কারগিল যুদ্ধে ভারতকে যেভাবে সহযোগিতা করেছিল ইসরায়েল

২০ বছর পূর্ণ হলো কারগিল যুদ্ধের। এই যুদ্ধে টাইগার হিলে পাকিস্তানের ঘাঁটিতে সফল হামলার স্মৃতিচারণ করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেই যুদ্ধে ইসরায়েল কিভাবে তাদের সহযোগিতা করেছিল।

এনডিটিভি জানায়, কারগিল যুদ্ধের সময় মাত্র ১২ দিনের রেকর্ড সময়ের মধ্যে মিরেজ ২০০০-কে পিওডি ও লেজার নির্দেশিত বোমার সাহায্যে টাইগার হিলে সফল হামলা চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

মিরেজ ২০০০-এর আধুনিকীকরণ দ্রুত সম্পন্ন করে সেটিকে কার্গিল যুদ্ধে নিয়ে আসা হয়েছিল। এই কাজে ইসরায়েল ভারতকে সহযোগিতা করেছিল সেসময়।

১৯৯৯ সালের ২৪ জুন উইং কমান্ডার রঘুনাথ নামবিয়ারের তত্ত্বাবধানে রাইটেনিং পিওডি থেকে মিরেজ ২০০০ পরিচালিত হয় টাইগার হিলে। ওই ঘটনার ২০ বছর পূর্তিতে রঘুনাথ সেই স্মৃতিচারণ করেছেন।

তিনি বলেন, মুহূর্তের মধ্যে লক্ষভেদ করে মিরেজ ২০০০। যুদ্ধে ভারতীয় বিমান বাহিনীর এটিই ছিল লেজার নির্দেশিত প্রথম হামলা।

বিজ্ঞাপন

ইয়ার মার্শাল রঘনিাথ বলেন, মাত্র ১২ দিনের মধ্যে এক হাজার পাউন্ডের এই বোমের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। এর দুই বছর আগে পিওডির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়। এরমধ্যে ছিল ১৫টি জাগুয়ার বিমান আনা এবং ৫টি মিরেজ দল সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়েই এসব কাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু তাদের একটি নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত কখনোই মিরেজের ফিউজ লাভ করেনি।

তিনি বলেন, তবে আমরা ইসরায়েলের সহযোগিতা পেয়েছিলাম। তাদের কারিগরি বিশেষজ্ঞদল লিটেনিং বা পাভওয়ে বোম সংমিশ্রণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। আমরা কখনই লিটেনিং পডের সংমিশ্রণ ঘটাইনি। পাভওয়ে প্রস্তুত ছিল না এবং আমাদের কাছে ফিউজও ছিল না।

একদিনের মাথায় এর সমাধান হয় না সেসময়। সমস্যা সমাধানে ভারতের বিমান বাহিনীর যোদ্ধাদের মিগ-২৭ এবং মিগ-২১ লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ছিল না। কারগিল হিলের যে উচ্চতায় পাকিস্তানি সৈন্যরা ছিল সেখানে আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছিল না। এরমধ্যে বিমান বাহিনীর দুটি যান নিখোঁজ হয় এবং পাঁচজন সৈন্য নিহত হন। এর একটি ছিল মিগ-২১ এবং আরেকটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার।

এরপর মিরেজ ২০০০ এর উন্নয়ন ঘটানো শুরুর হয় বেঙ্গালুরুতে। গোয়ালিয়রেও তা অব্যাহত থাকে। যেখানে মিরেজ ২০০০ এর সৈন্যদের ঘাঁটি ছিল। সেখানে কার্যকর সৈন্যদের প্রস্তুতি চলছিল।

অবশেষে ২৪ জুন সকাল সাড়ে ৬টায় পাঞ্জাবের আদমপুর থেকে টাইগার হিল লক্ষ্য করে তিনটি মিরেজ ২০০০ বোম ছোড়া হয়। টাইগার হিল থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৫০ কিলোমিটার। সবাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল যে কোন ধোঁয়া দেখা যায় কিনা।

রঘুনাথ বলেন, আমি হামলার পরিণতি দেখার জন্য স্থান পরিবর্তন করি। দেখা যায় টাইগার হিলের দক্ষিণ মুখে সাতটি তাঁবুতে আঘাত হানে মিরেজ। টাইগার হিলের উচ্চতা ছিল ১৬ হাজার ছয়শ ফুট। আমাদের যোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছিলেন ২৮ হাজার ফুট উচ্চতায়। বাতাসের প্রবল চাপে সমস্যা হচ্ছিল তাদের। পরে তারা ২৬ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে এসে হামলা চালান।