চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাঠবিড়ালীর বিনিয়োগ ফেরত পেয়েছি: নিয়ামুল মুক্তা

২৪ এপ্রিল হইচইয়ে আসছে নিয়ামুল মুক্তার প্রথম ছবি ‘কাঠবিড়ালী’…

Nagod
Bkash July

বেশ ক’বছর ধরেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্দিন। সম্ভাবনা জাগিয়েও একের পর এক ফ্লপ হচ্ছে ছবি। লাভের আশা তো দূর, লগ্নিকৃত টাকা উঠাতে পারলেই সৌভাগ্যবান মনে করেন প্রযোজক। আর এমন সংখ্যাও বছরে হাতে গোণা দুয়েকটি! অথচ নিজের প্রথম ছবি নির্মাণ করেই লগ্নিকৃত টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তরুণ নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তা।

Reneta June

মুক্তার প্রথম ছবি ‘কাঠবিড়ালী’। মুক্তি পায় চলতি বছরের শুরুতে। তরুণ এ নির্মাতা প্রথম ছবি দিয়েই সমালোচকদের নজর কেড়েছেন, পেয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা। তবে এ সাফল্য স্পর্শ করা মুক্তার জন্য ওতোটা সহজ ছিল না! বিশেষ করে ‘কাঠবিড়ালী’ বানাতে যে পরিমাণ অর্থ তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন সেটা চলমান ফিল্মি মন্দার বাজারে ফেরত আনা ছিল মুক্তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!

তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, ‘কাঠবিড়ালী’ ছবিতে নিয়ামুল মুক্তার তার নিজের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। মুক্তির চারমাসের মাথায় চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন এ চলচ্চিত্র নির্মাতা। নিয়ামুল মুক্তা বলেন, আমার মূলধন আমি ফেরত পেয়েছি। মানে আমি যে টাকা খরচ করেছিলাম, সেটা ফেরত পেয়েছি।

কোনো চলচ্চিত্র নির্মাণের পর ‘লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পেলে’ তাকে ‘ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র’ বলা হয়। নিয়ামুল মুক্তা তার নিজস্ব অর্থায়নে ‘কাঠবিড়ালী’তে বিনিয়োগ ফেরত পেলেও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র কথাটা বলতে চাইছেন না। তার ভাষ্য, ছবিতে আর্টিস্টরা পেমেন্ট নেয়নি। অন্যান্য টেকনিশিয়ান পেমেন্ট ছাড়াই কাজ করেছেন। তারা টাকা নিলে আরও খরচ হতো। এজন্য আমি ব্যবসাসফল বলতে চাইনা।

উদাহরণ দিয়ে নিয়ামুল মুক্তা বলেন, কাঠবিড়ালীর বাজেট যদি ৪০ লাখ টাকা হয়, অন্য খরচ যেমন আর্টিস্ট, ডিওপি, মিউজিক, সাউন্ড, এডিটিং জুড়ে দিলে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি যোগ হবে। এই টাকাটা যারা ছবির সাথে জড়িত তারা কনসিডার করেছেন। এ টাকা যদি তাদের দিতে পারতাম তাহলেই ব্যবসাসফল বলতাম। তবে হ্যাঁ, কাঠবিড়ালী থেকে আমি আমার বিনিয়োগ ফেরত পেয়েছি।

যেহেতু নিজের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পেয়েছেন তাই এটা অনেক আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখছেন নিয়ামুল মুক্তা। তিনি বলেন, টাকা যেহেতু তুলতে পেরেছি তাই পরের ছবিটাও করতে পারবো এটা নিশ্চিত। করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব থেকে মুক্তি পেলেই শুটিং শুরু করবো। পুরো ছবি কাজ শেষ করে সবাইকে জানাবো। এর আগে নয়।

নিয়ামুল মুক্তা বলেন, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ছবি আমার টাকায় নির্মাণ করবো। অনেকের সাথে কথা হলেও আমি চাইনা এখনই নিজের বিনিয়োগের বাইরে কাজ করতে। সঠিকভাবে সিনেমা বানাতে চাই বলেই নিজে ইনভেস্ট করতে চেয়েছি। প্রযোজককে প্যারাটা এখনই নিতে চাইনা। অন্যের ইনভেস্টে কাজ করতে গেলে কাস্টিং থেকে শুরু করে গল্প বলাটাও আমি আমার মতো হয়তো পারবো না।

যোগ করে তিনি বলেন, আমার বস রেদওয়ান রনির ‘চোরাবালি’, ‘আইসক্রিম’ ছবির সাথে আমি ছিলাম। এছাড়া অন্যান্যদের সাথে মিশে যা বুঝেছি প্রযোজকের দিক থেকে কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া হলে একজন নির্মাতা নিজের মতো সিনেমাটা বানাতে পারে না।

কাঠবিড়ালী ছবি গত ২৭ ডিসেম্বর পাবনায় বিশেষ প্রদর্শনীর পর ১৭ জানুয়ারি দেশের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়। মুক্তির প্রায় তিনমাসে দেশের প্রায় ৫০ টির মতো প্রেক্ষাগৃহে চলে ছবিটি। চারমাস পর ২৪ এপ্রিল হইচই অ্যাপে প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে ‘কাঠবিড়ালী’। এই ছবির মধ্য দিয়ে স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম হইচইয়ে উঠতে যাচ্ছে প্রথম বাংলাদেশি কোনো চলচ্চিত্র।

ছবিতে অর্চিতা স্পর্শিয়ার বিপরীতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও সাইদ জামান শাওন। আরও অভিনয় করেছেন শাহরিয়ার ফেরদৌস, শিল্পী সরকার, হিন্দোল রায়, এ কে আজাদ, তানজিনা রহমান প্রমুখ।

BSH
Bellow Post-Green View