চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাঁঠাল বোঝাই ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল

মাদক চোরাচালানের অভিযোগে আটক ৮, ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ

রাজধানীর উত্তরায় কাঁঠাল বোঝাই ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল জব্দ করেছে র‌্যাব-১। সেই সঙ্গে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ৮ জনকে আটক ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় হাউজ বিল্ডিং থেকে এ চক্রটিকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আটক চোরাচালানকারীরা হলো- মো. রাজু আহম্মেদ, মো. মুন্না, মো. সাগর, মো. ইউসুফ, মো. নূর ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মফিজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

এসময় তাদের গাড়ি তল্লাশী করে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, ৮টি মোবাইল, নগদ টাকা ও একটি ট্রাক ও প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) সারওয়ার বিন কাশেম মাদক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: মাদক ব্যবসায়ী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান হতে মাদক দ্রব্য কৌশলে রাজধানীতে নিয়ে আসছে। চক্রটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কখনো ব্যক্তিগত গাড়িতে, কখনো যাত্রীবাহী বাসে, কখনো পঁচনশীল মৌসুমী শাক-সবজি বহনকারী ট্রাকে করে, আবার কখনো ধান, গম, ভূট্টা ইত্যাদি মৌসুমি ফসল বহনকারী গাড়িতে করে মাদক দ্রব্য রাজধানীতে নিয়ে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর হতে কাঁঠাল বোঝাই ট্রাকে করে মাদকের একটি বড় চালান রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে আসছে বলে জানা যায়। চক্রটিকে গ্রেপ্তারে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং ট্রাকটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আভিযানিক দলটি রাজধানীর উত্তরার হাউজ বিল্ডিং থেকে মাদকদ্রব্য বহনকারী ট্রাকের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে জানা যায়, রাজু আহম্মেদ পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। সে এর আগে ঢাকা-খুলনা রুটে একটি নৈশ কোচের ড্রাইভার ছিল।

তিনি বলেন: মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে সে নৈশ কোচ ছেড়ে ট্রাক চালানো শুরু করে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ফাঁকি দিয়ে ট্রাকে মৌসুমি ফসল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল রাজধানীতে নিয়ে আসছিল। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। সে এর আগে সাতটির বেশী মাদকের বড় চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছিল।

সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন: আটক মুন্না ও সাগর তার সহযোগী হিসেবে কাজ করত। তারা মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে চালানপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা নিয়ে থাকত বলে জানায়। তারা এখন পর্যন্ত ১০-১২ টি মাদকের চালান ঢাকায় পৌছাতে সহযোগিতা করেছে।

তিনি বলেন: এছাড়া আটক ইউসুফ উবার ড্রাইভার ছিলেন, উবারে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। আটক রফিকুল ইসলাম একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালানকারী চক্রের সদস্য। আটক নূর ইসলাম, মফিজুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর চক্রের অন্যতম সদস্য। তারা মাদকের চালান সংগ্রহ করে ট্রাকে তুলে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সেখানে পৌছে যায় এবং স্থানীয় মাদক কারবারীদের নিকট পাইকারী ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে। তারা প্রাইভেটকার/সিএনজিতে করে মাদকের খুচরা চালান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এএসপি কামরুজ্জামান।

Bellow Post-Green View