চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা শেষ, এসব বলে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আগের মতোই ২০ শতাংশের বেশি

করোনা শেষ, এমন কথা বলে বিভ্রান্তি না ছড়াতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনুরোধ করেছেন। তাদের মতে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের এখন যে অবস্থা সেটা মাত্রায় অনেক। ২৪ ঘণ্টায় তুলনামূলক কম ২ হাজার ২৪ জন শনাক্ত হলেও নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কম, আর এসময় মারা গেছেন ৩২ জন।

শনিবার এক আলোচনায় কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেন, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমে গেছে। মৃত্যুর হার কমে গেছে, সুস্থতা বেড়েছে। এটা বিশাল অর্জন। বেশিদিন লাগবে না টিকা না আসলেও দেশ থেকে কোভিড মহামারী চলে যাবে। 

বিজ্ঞাপন

কিন্তু, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মন্ত্রীর মতো আশাবাদী হতে পারছেন না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, বিভিন্ন লোকেরা যেসব কথাবার্তা বলছেন তাতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এখনো অনেক কাজ করার দরকার আছে। এখনও অনেকে সংক্রমিত হচ্ছে, অনেকে মারা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ ৯ হাজার ৬৩৬, আগের কিছুসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ১৮ টি নমুনা। শনাক্ত ২ হাজার ২৪, শনাক্তের হার আগের মতোই ২০ শতাংশের বেশি। এসময় মৃত্যু সংখ্যা ৩২, সুস্থ’ ১ হাজার ৩১৫ জন।

দেশে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত শনাক্ত ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪৯ জন, চিকিৎসাধীন ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৪২। সুস্থ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫০, সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৮। মৃত্যু ৩ হাজার ৬৫৭, শনাক্তের বিপরীতে মৃত্যু হার ১ দশমিক ৩২।

সবকিছু নজরে রেখে করোনা মোকাবেলায় যা যা করা দরকার, তার সবগুলোই করার পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনা সম্পর্কিত যত কাজ আছে সব বেগবান করতে হবে। ঢিলেমি দিলে বড় ও ছোট শহরে বেশি হারে সংক্রমিণ ছড়িয়ে পড়বে। তাতে করে করোনা সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারো কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে ব্যক্তি পর্যায়েও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।