চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা থেকে সেরে উঠা ব্যক্তির হাসপাতাল বিল ১.১ মিলিয়ন ডলার!

মহামারী করোনাভাইরাসে প্রায় মারাই যাচ্ছিলেন তিনি। চিকিৎসকরা ভেবে নেন যে, তিনি আর বাঁচবেন না। এক পর্যায়ে মৃত্যুর এত কাছাকাছি এসে পৌঁছেছিল যে নার্সরা ফোন ধরেছিলেন, যাতে তার স্ত্রী এবং শিশুরা বিদায় জানাতে পারেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বেঁচে যান। ৬২ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে যে ব্যয়ের তালিকা পেলেন তা দেখে বিস্মিত ও দু:খ পেয়েছেন! হাসপাতালের খরচ বাবদ বিল করা হয়েছে মোট ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের একটি হাসপাতালে।

Reneta June

৭০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মাইকেল ফ্লোর ৪ মার্চ করোনার উপসর্গ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু ১৮১ পৃষ্ঠার একটি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে লেখা- ১,১২২,৫০১.০৪ মার্কিন ডলার- এই কথা ও রোগী নিজেই নিশ্চিত করেন গণমাধ্যমকে।

বিজ্ঞাপন

এনডিটিভি বলছে, এর মধ্যে প্রতিদিন ইনটেনসিভ কেয়ারের রুম বাবদ-৯,৭৩৬ ডলার, ৪২ দিনের জন্য একটি জীবাণুমক্ত কক্ষের জন্য ৪০৯,০০০ ডলার, ২৯ দিনের জন্য ভেন্টিলেটর ব্যবহার বাবদ ৮২,০০০ ডলার এবং দুই দিনের জীবন ঝুঁকিতে থাকার সময় ব্যয় ১০০,০০০ মার্কিন ডলার।

যদিও ফ্লোরকে এই অর্থ নিজ থেকে বহন করতে হবে না। কারণ তিনি মার্কিন সরকার কর্তৃক প্রবীণদের জন্য প্রদত্ত মেডিকেয়ার-সরকারি বীমা প্রোগ্রামের আওতায় পড়েছেন।

তারপরও এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে কষ্ট হচ্ছে এই কারণে যে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবা, যা দেশের সাধারণ করদাতাদের জন্য অনেক বড় পরিমাণের খরচ! এটা ভেবে তিনি দোষী বোধ করছেন নিজেকে। তিনি মনে করেন এই অর্থ জীবন বাঁচানোর জন্য অনেক বেশি!

করোনাভাইরাসের সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কংগ্রেস কর্তৃক বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল ও বেসরকারি বীমা সংস্থাগুলো কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার বাজেট নির্ধারণ করেছে!

করোনাভাইরাসে বিশ্বে সর্বাধিক আক্রান্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪২ হাজার ২২৪ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ জন মানুষের।