চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনায় থমকে যাওয়া অর্থনীতি চাঙ্গা করতে রেকর্ড ঘাটতির বাজেট

মহামারী করোনাভাইরাসে অনেকটাই থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি। এই থেমে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে দরকার নানামুখী উদ্যোগ। সেইসঙ্গে অব্যাহত রাখতে হবে চলমান উন্নয়নের ধারাও। এই পরিস্থিতিতে আয়ের যোগানের বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে বিরাট অঙ্কের ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে করোনা সংকটে বিশাল ঘাটতির মুখে এক উচ্চাভিলাষী বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা’ শিরোনামে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা বাজেট পেশ করেছেন তিনি। এটি দেশের ৪৯তম বাজেট।

বিজ্ঞাপন

এই ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৩ কোটি টাকা। ফল রয়ে যাচ্ছে বিশাল অংকের ঘাটতি। এই ঘাটতির বোঝা মাথায় নিয়েই আগামী অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও বিশ্বব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছরে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বাংলাদেশের। একমাত্র আয়ের উৎস হিসেবে পরিকল্পনায় রয়েছে জাতীয় রাজস্ব খাত।

চাপ বাড়লো এনবিআরের:
বাজেটে এনবিআর ও এনবিআর বহির্ভূত খাত মিলিয়ে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে ভ্যাট থেকে। এই খাতে এনবিআরকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। এছাড়া আয়কর থেকে আদায় করতে হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাত থেকে আদায় করতে হবে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এনবিআরকে দেয়া এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। বাধ্য হয়ে সরকারকে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

আহসান এইচ মনসুর

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্ব আদায়ের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না এনবিআরের। লক্ষ্যমাত্রা বেশি হওয়ার কারণে কর্মকর্তারা একদিকে চাপে থাকবেন, অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে না পারার একটা গ্লানি ভেতরে ভেতরে কাজ করবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, করোনা সংকটে এনবিআরের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করা ঠিক নয়। কারণ, করোনার এই বাস্তবতায় বিভিন্ন খাতে আয়কর ছাড় দিতে হচ্ছে। ভ্যাটেও ছাড় দিতে হচ্ছে। ফলে আদায় করতে পারবে না। এনবিআরের জন্য চাপ হবে।

রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে বাজেট:
বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। যা জিডিপির ৬ শতাংশ। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতির বাজেট এটি। যদিও অনুদানসহ হিসাব করলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এই পরিকল্পনায় আয় ও ব্যয়ের ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এই ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যাংকঋণ নির্ভর হয়ে পড়বে সরকার।

ব্যাংকে দায় বাড়বে সরকারের:
বাজেট ঘাটতি মেটাতে এবার ব্যাংক থেকে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার। এটি গত বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বেশি। চলতি বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮২ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের এই ঋণ নির্ভরতায় ব্যয় বাড়বে। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ কমবে। কারণ ব্যাংকগুলো গ্রাহকের চেয়ে সরকারকে ঋণ দেয়া বেশি নিরাপদ বোধ করবে। এছাড়া সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে মুল্যস্ফীতি বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্বাস্থ্য খাতে কী রাখা হয়েছে:
এবারের বাজেটে সবার নজর ছিল স্বাস্থাখাতে সরকার কী বাজেট দেয় তাতে। কারণ করোনা স্বাস্থ্যখাতকে বার বার মনে করিয়েছে দিয়েছে। সরকার এ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন তিনি। এছাড়া করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দুটো মিলিয়ে বরাদ্দ হয়েছে ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

তবে এ বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন স্বাস্থ্যখাতের অর্থনীতিবিদরা।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সরকার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে স্বাস্থ খাতে কী কী দূর্বলতা রয়েছে। সেটি মাথায় রেখেই বাজেটে বরাদ্ধা রাখার কথা। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক রাখতে উন্নয়নের খাতগুলো চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সরকারকে করোনা মোকাবেলায় আলাদা বাজেট করতে হয়েছে।

কিন্তু স্বাস্থ্যখাতে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছাড়াও করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে যদি আলাদা বরাদ্দ না রেখে স্বাস্থ্যখাতে মোট বাজেট ৩৯ বা ৪০ হাজার কোটি রাখতো তাহলে জুতসই হতো। কারণ করোনা সংকট কেটে গেলে আগামী অর্থবছরে এই থোক বরাদ্দ থাকবে না। তখন স্বাস্থ্যখাতে মূল বাজেট আবার কমে যাবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যখাতে আবার সমস্যা দেখা দিবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ড. জাহিদ হোসেন

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত ছিল বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, করোনা স্বাস্থ্যখাতের করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। কিন্তু তবু তাতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কম। তবে করোনা মোকাবেলায় থোক বরাদ্দ সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাজেটে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালে। সেই সঙ্গে মহামারী মোকাবেলায় আইসিইউ যন্ত্রপাতি, মাস্ক, পিপিইসহ বিভিন্ন বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী আমদানিতে মূসক অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের বাজেটে কয়েকটি খাতে দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তির আভাস রয়েছে বলে প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে।

করমুক্ত আয়সীমা:
গত অর্থবছরেও জনসাধারণের জোর দাবি ছিল করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর। কিন্তু সরকার তা করেনি। তবে এ বছর করোনায় মানুষের আয় কমে যাওয়ায় সরকার এক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়েছে। করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করেছে। এতে অন্তত স্বস্তি পেয়েছেন জনসাধারণ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে স্বস্তির খবর:
করোনায় মানুষের আয় কমেছে। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো বেড়েছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠা মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর দিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে তিনি চাল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে করহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। এতে আশা করা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কমবে।

কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা:
এডিবি বলেছে, করোনায় ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির থাকায় দেশে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৪ লাখ। তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও সেবা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ইত্যাদি খাতে গ্রামের দরিদ্র কৃষক, বিদেশ ফেরত প্রবাসী শ্রমিক এবং প্রশিক্ষিত তরুণ ও বেকার যুবাদের গ্রামীণ এলাকায় ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে এই অর্থ ঋণ দেয়া হবে।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত:
রেমিট্যান্সে ইতিবাচক রইলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার শ্রমিককে ফেরত আসতে হয়েছে। তবুও আশার আলো দেখা গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। বর্তমানে রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। তাই করোনার মধ্যেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক মাস বাকি থাকতে রেকর্ড ১৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে প্রধান প্রধান শ্রমবাজারে করোনার কারণে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের কারণে আগামী অর্থবছর প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হতে পারে। তাই এ খাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া অব্যাত থাকবে।

রপ্তানিতে উৎসে কর কমলো:
তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের পণ্য ও সেবা রপ্তানিখাত কোভিড-১৯ এর কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই সব ধরনের পণ্যের রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধরণের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

তবে অর্থমন্ত্রী দুশ্চিন্তাও রেখেছেন কয়েকটি ক্ষেত্রে। যেগুলোতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা। যেমন-

দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেয়া হয়নি:

বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে পৃথিবীর প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সম্প্রতি সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ব্যাপক তাণ্ডবের চিত্র দেখেছে বাংলাদেশ। আম্ফানের মতো ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে নানা সমালোচনাও হয়েছিল। তবু এ খাতে বরাদ্দ না বেড়ে উল্টো কমেছে। এ খাতের জন্য ৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ কোটি টাকা কম। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।

খরচ বাড়লো কথাবার্তায়:

মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন করহারে মোবাইল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ১৫ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ ও সারচার্জ ১ শতাংশ ধার্টয হলো। ফলে মোট করভার দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে সরকারের কাছে কর হিসেবে যাবে ২৫ টাকার কিছু বেশি। এতদিন তা ২২ টাকার মতো ছিল। ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, এসএমএস পাঠানো এবং ডেটা ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাবে।

গত অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল।

ড. জায়েদ বখত

বাজেট নিয়ে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়, শিক্ষায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ কয়েকটি খাতে ব্যয় তুলনামুলক অনেক কম বেড়েছে। এটা আরো বাড়ানো উচিত ছিল। কৃষিতেও বরাদ্দের সঠিক মূল্যায়ণ হয়নি।

তিনি বলেন, বিশাল বড় অংকের রাজস্ব আয় আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ করোনায় মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, আয়কে থমকে দিয়ে দিয়েছে। আয় না বাড়লে রাজস্ব আদায় বাড়বে কিভাবে? এটা এনবিআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঘুষ-দুর্নীতি কমাতে পারলে কিছুটা সফল হতে পারে এনবিআর।

ড. জাহিদ বলেন, বিশ্বব্যাংক বলেছে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ এবং আগামী অর্থবছরে ১ শতাংশ হবে। এরমধ্যে অর্থমন্ত্রী যে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন বলে আশা করেছেন তা সম্ভব হবে না। কারণ করোনা নিয়ন্ত্রণ না হলে বিনিয়োগ হবে না। অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে না। তাহলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে কীভাবে?

এই প্রশ্নের জবাব হয়তো পাওয়া যাবে অর্থবছর শেষে জিডিপির আসল চিত্র প্রকাশের পর।