চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: সামাজিক সংক্রমণ থামাতেই হবে

করোনাভাইরাস এর সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি হচ্ছে সামাজিক সংক্রমণ, যা বাংলাদেশে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৯ জনে। নতুন করে আরও ১৮২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় দেশে মোট আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮০৩ জনে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বলে দিচ্ছে পরিস্থিতি কতোটা উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন: লকডাউন অনেকে মেনে চলছে না। দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে গেছে। সেটা যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোভিড-১৯ মোকাবেলার মূল অস্ত্র ঘরে থাকা ও পরীক্ষা করা। যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক লোক আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। আমরা সেই তুলনায় ভালো আছি। আমরা সব নির্দেশনা মেনে চললে আরও ভালো থাকতে পারবো।

বিজ্ঞাপন

লকডাউন যে দেশের মানুষ ঠিকমতো মেনে চলছে না, তা এক কথায় বলে দেয়া যেতে পারে। সেনাবাহিনী, পুলিশসহ প্রশাসনের নানা চেষ্টার পরেও মানুষজন এই করোনার ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না বলে আমাদের মনে হচ্ছে। তাছাড়া করোনা আক্রান্তসহ তাদের আশেপাশের মানুষের কোয়ারেন্টাইন না মানা এবং পালিয়ে যাবার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

করোনা আক্রান্ত এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে ওইসব এলাকার সুরক্ষা এবং আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষদের ভালোর জন্য, কিন্তু তা না বুঝে মানুষজন সেখান থেকে গোপনে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন নতুন আক্রান্ত জেলাগুলো দেখলেই তা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ইটালিসহ বিশ্বের উন্নত দেশে যেখানে মৃত্যুর মিছিল চলছে, সেখানেও পরিস্থিতি প্রথমে হালকাভাবে নেয়া হয়েছিল। যার ফলে সামাজিক সংক্রমণ ও পরে তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ওইসব দেশে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার থাকার কারণে অনেককে চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের দেশের সীমাবদ্ধতা আমরা জানি। তারপরেও মানুষ কেন লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না, তা বোধগম্য নয়।

আমাদের আশাবাদ, জনগণ নিজেদের ভাল দ্রুত বুঝতে পারবে এবং সামাজিক সংক্রমণের এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে যথাসম্ভব আলাদা ও নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করবে। এজন্য ব্যাপক প্রচারণা এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই।