চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: সন্দ্বীপে ফোন করলেই পৌঁছে যাচ্ছে ত্রাণ

দিন কিংবা রাতে ফোন করলেই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ। এ জন্য সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের একটি টিম ৮টি মোটরসাইকেল নিয়ে সবসময় প্রস্তুত। প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে সন্দ্বীপের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে বাড়ি বাড়ি এ ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের কিছু তরুণের উদ্যোগে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে ত্রাণ বিতরণের চিত্র এটি।

সন্দ্বীপের ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৪লাখ লোকের বসবাস। এর মধ্যে অধিকাংশ দিনমজুর ও হতদরিদ্র। করোনা ভাইরাস মহামারীতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় জনজীবন অনেকটা বিপন্ন। সরকারিভাবে গত দুই সপ্তাহে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫শ’ জনকে।

বিজ্ঞাপন

জনগণের এই দুর্দশার কথা চিন্তা করে সন্দ্বীপের তরুণদের মধ্যে একজন সদস্য বলেন, তাদের ফেসবুক এর মাধ্যমে সন্দ্বীপের সাংসদ সদস্য ও প্রবাসীদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করে। গত ২৬ মার্চ ৪০০শ’ পরিবারের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ৮ কেজি আলু, এক কেজি মসুর ডাল,এক কেজি চিড়া, এক কেজি লবণ ও একটি করে সাবান দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজন্য তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি হেল্প লাইন সার্ভিস চালু করেছে। যাতে কল করলে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট ত্রাণ। এর মধ্যে অনেকে সামনে এসে ত্রাণ নিতে অপারগতা জানালে তার দেওয়া গোপন স্থানে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে এই গ্রুপের সদস্যরা। এই সার্ভিস শুধু দিনেই নয় রাতেও চলমান রয়েছে।

হোম সার্ভিস দেওয়া সদস্যদের মধ্যে একজন হান্নান তারেক জানান, মোবাইলে কল পেয়ে ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী সামনে আসেনি। পরে কল করে জানালেন সন্দ্বীপের একটি বিদ্যালয়ের পিছনে রেখে আসতে। কিছু সময় পর তিনি ত্রাণ পেয়ে নিশ্চিত করলেন। এভাবে গোপনে সার্ভিস নিয়েছেন প্রায় এক শতাধিক পরিবার।

এই সদস্যদের মোটরসাইকেলের সামনে লেখা জরুরী ত্রাণ বিতরণ। প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছে সন্দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এদের মধ্যে কেউ ছাত্র, কেউ ব্যবসায়ী সবাই ব্যস্ত পরের উপকারে। কখনো প্রখর রোদ কিংবা গভীর রাতে এই তরুণদের ক্লান্তিহীন ছুটে চলা।