চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি’র ওষুধের ট্রায়াল বন্ধ

করোনাভাইরাস এর চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং এইচআইভির ওষুধ লোপিনাভির/রিটোনাভিরের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত মে মাসের শেষের দিকে করোনা চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এর সপ্তাহখানেক পরে আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। শনিবার এক বিবৃতিতে আবারও ওষুধটির ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনসহ ওষুধ তিনটির কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে গঠিত আন্তর্জাতিক স্টিয়ারিং কমিটির পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এবং লোপিনাভির/রিটোনাভিরের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়েছিল। কিন্তু এসব ওষুধ মৃত্যু কমাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাই এই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা বন্ধ করা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফডিএ) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহারে অনেকের হৃদস্পন্দনে গুরুতর অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এরপর গত ২৫ মে একটি প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এর এক সপ্তাহ পর গত ৪ জুন ওই সিদ্ধান্ত পাল্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক গেব্রিয়েসুস বলেছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে বাধা নেই। ডব্লিউএইচওর গবেষক দল যাচাই করে দেখেছে যে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবনে করোনা ঝুঁকিতে পড়ার কোনো প্রমাণ নেই।

চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সঙ্গে লোপিনাভির ও রিটোনাভিরের মিশ্রণ প্রয়োগে করোনা রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমানো যায়। সেই দাবি যাচাই করতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কিন্তু তাতে কোনও আশাব্যাঞ্জক ফল না মেলায় এই ওষুধগুলির ট্রায়াল বন্ধ করে দিল সংস্থাটি। তবে সক্রিয় রোগীদের উপর প্রয়োগ করা না গেলেও এই ওষুধ নিয়ে যদি কেউ গবেষণা করতে চায়, তাহলে তার জন্য সেই রাস্তা খোলা রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

শেয়ার করুন: