চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: মোট আক্রান্তের শতকরা ৪৬ ভাগ রাজধানীতে, মিরপুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসে দেশের মোট আক্রান্তের শতকরা ৪৬ ভাগ রাজধানী ঢাকায়। এরমধ্যে এলাকা ভিত্তিক মোট আক্রান্তের মধ্যে শুধুমাত্র মিরপুরেই ১১ ভাগের দেহে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে বাসা থেকে যুক্ত হয়ে এসব জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জায়গা বিশ্লেষণে এখন পর্যন্ত শতকরা ৪৬ ভাগ ঢাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ ভাগ, এরপর নতুন করে সংক্রমণের তথ্য পাচ্ছি গাজীপুর, এছাড়াও চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জে সংক্রমিত রয়েছে।

ডা. ফ্লোরা বলেন, রাজধানীর এলাকাগুলো যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে ঢাকা শহরে টোলারবাগ আমরা প্রথমে সংক্রমণ পাই। এরফলে বর্তমানে মিরপুরে আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা বেশি। বর্তমানে মোট আক্রান্তের শতকরা ১১ শতাংশ সেখানে। এছাড়াও আক্রান্তের ৪ শতাংশ ওয়ারী, মোহাম্মদপুর ও যাত্রাবাড়িতে। আর ৩ শতাংশ উত্তরা ও ধানমন্ডিতে।

আইইডিসিআর পরিচালক জানান, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর বয়স বিভাজনে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২১ শতাংশ ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী প্রায় ১৯ শতাংশ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেই সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। নারী-পুরুষ বিভাজন দেখা যায়, ৬৮ শতাংশ পুরুষ ও ৩২ শতাংশ নারী আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়।

বিজ্ঞাপন

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, আক্রান্ত এক হাজার ৮৩৮ জনের মধ্যে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বাড়িতে ও ৩২ শতাংশ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

তবে হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়েছেন তাদের সবার ক্ষেত্রে ভর্তির প্রয়োজন ছিল না। সামাজিক চাপের কারণে তাদের বাড়িতে না রেখে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনেও বলা আছে, কেউ চাইলে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন, এতে হাসপাতালের ওপর চাপ কম পড়বে।

এরআগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ১৯০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে আরও ২৬৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। ফলে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে এক হাজার ৮৩৮ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৫ জন। এতে মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৭৫। আক্রান্তদের মধ্যে আরও নয়জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৮ জন।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২১ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার ১০ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পরে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।