চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নতুন চ্যালেঞ্জ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সময়ের প্রয়োজনে দেশে খুলে গেছে প্রায় সবকিছু। গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও দোকানপাট সবই স্বাভাবিকতা পেতে শুরু করেছে সরকারি ঘোষণায়। যদিও গত কয়েকদিনে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু গত দুইমাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা প্রায় ৬৩ লাখ (৬২ লাখ ৬৩ হাজার ৯০১)। চীনে প্রথম মহামারী দেখা দেওয়ার পর ইউরোপ ও আমেরিকা হয়ে এখন ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো, বিশেষ করে ব্রাজিল কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিস্তারের কেন্দ্রবিন্দু। তবে আক্রান্তের চিত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোও বিশেষ মনোযোগ কাড়ছে। রোববার সকাল পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৯ জনে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের অনেক দেশেই করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও পরীক্ষার সরঞ্জাম অপ্রতুল। আবার হাসপাতালের বাইরের অনেক মৃত্যুরও হিসাবও রাখা হয়নি। ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অনেক দেশে অর্থনীতি ও জীবন যাত্রার চাকা সচল রাখতে লকডাউন তুলে নেয়া হচ্ছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হবার সাথে সাথে। তবে বাংলাদেশে কোন পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি তুলে নেয়া হলো, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ৩১ মে যেদিন ছুটি শেষ হলো সেদিনই দেশে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখতে হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জনগণের ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তবে স্কুল-কলেজ না খোলার বিষয়টিকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। এইসব মিশ্র অবস্থায় দেশ পার করছে করোনা পরিস্থিতি।

গণপরিবহনে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে আন্ত:জেলা ও লোকাল বাসের উপরে। রেল, লঞ্চ ও বিমানে অপরিবর্তিত রয়েছে। বাস ভাড়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ, বিষয়টি স্থগিত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে সোমবার সকালে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী পরিবহনকে সামনে রেখে বাড়তি ভাড়ার চাপে পিষ্ট জনগণ। করোনাকালে এমনিতেই কর্ম ও আয় কমেছে সাধারণ মানুষের, তার উপরে এই বাড়তি বোঝা প্রতিদিন প্রতি মূহুর্তে জনগণকে যে ক্ষুব্ধ করে তুলবে তা সহজেই বলা যায়। এ ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ সময়ের জন্য বাস-মালিকদের কোনো ভর্তুকি দিতে পারে কিনা, তা ভেবে দেখতে পারে।

ভাড়া বাড়তি বা কম আর জনজীবন স্বাভাবিক হওয়া-না হওয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, করোনা থেকে নিরাপদ থাকা। মাত্র দু’মাসের শিক্ষায় মানুষ কীভাবে দূরত্ব বজায় রেখে সুস্থ থাকবে বা অন্যকে সুস্থ রাখবে তা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথে ঘাটে অফিসে আদালতে প্রতিনিয়ত যে চ্যালেঞ্জ, তা আমাদের মোকাবিলা করতেই হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই করোনা থেকে আমরা নিরাপদে থাকতে পারবো।