চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যা করতে হবে

কোভিড-১৯ মহামারিতে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিভিন্ন করণীয় তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানা। 

তিনি বলেছেন, যে কোনো দুর্যোগে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বিপদাপন্ন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকে। এছাড়াও সংসারে নারীর প্রতি যত্নবান হবার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডা. নাসিমা বলেন: কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক অনিরাপত্তা আমাদের মনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে যা অনেকের নিয়মিত ঘুমকে ব্যাহত করছে। এই মহামারির সময়টিতে পর্যাপ্ত ঘুম খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। যা আমাদের মন ও শরীর দুটোই ভালো রাখবে। একই সাথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

‘ইতিবাচক স্পর্শ আমাদের শরীরের ডোপামাইন, অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিন নামের হরমোন নিঃসরণ বাড়ায় এবং কর্টিসল নিঃসরণ কমায়। যার ফলে ইতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়। যেমন অনুপ্রেরণা, সন্তুষ্টি, নিরাপত্তা, মানসিক চাপ মুক্তি ইত্যাদি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: দীর্ঘদিন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার বিষয়টি মানুষের মনে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে সম্মিলিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই সময় বাড়ির শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে যত্ন নিন। মনে রাখবেন যে কোনো দুর্যোগে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বিপদাপন্ন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে।

‘বয়স্ক মানুষটি হঠাৎ শিশুর মতো অবুঝ হয়ে উঠতে পারেন। শিশুরা খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারেন। তাদের প্রতি সংবেদনশীল হোন। বিশেষ করে তাদের সামনে কোনো প্রকার ঝগড়া ও সহিংসতা প্রদর্শন করবেন না।’

সংসারে নারীর প্রতি যত্নবান হতে হবে জানিয়ে ডা. নাসিমা বলেন: ‘বেশীরভাগ সংসারে নারী প্রাথমিক ও একমাত্র সেবাদানকারী। যে কোনো সংকটে তার কাজের চাপ ও মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।’

‘তাছাড়া নারীর নিয়মিত মাসিক পূর্ব বিষণ্নতা, প্রসবোত্তর বিষণ্নতা, পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের বিষণ্ণতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। তাদের প্রয়োজনগুলিকে অগ্রাধিকার দিন, সংবেদনশীল আচরণ করুন এবং সহযোগিতা করুন। নারীর প্রতি সকল ধরণের সহিংসতা পরিহার করুন।’

করোনাভাইরাসের সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন: বাগান করা, পোষা পশু পাখিকে আদর করলেও ভালো অনুভূত হয়। যারা একা থাকেন বা যাদের পোষা পশু পাখি নেই তাদের জন্য নিয়মিত ঘুম, শরীর চর্চা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা, ভার্চ্যুয়ালি যোগাযোগ বজায় রাখা, সুস্থ বিনোদন যেমন (নাচ, গান, সিনেমা) দেখা, ছবি আঁকা, বাগান করা এমনকি রান্না করাও মানসিক চাপ কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া সৃষ্টিশীল কাজ ও অন্যকে সাহায্য করার মধ্য দিয়েও মন ভালো রাখা যায়।