চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ভুল তথ্যে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত ভুল তথ্যের কারণে বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

আমেরিকান জার্নাল অফ ট্রপিকাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন-এ প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে প্রায় ৫,৮০০ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিথেনল বা অ্যালকোহল ধরনের পরিষ্কারক দ্রব্য পণ্য পান করেও অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এসব পণ্যকে করোনাভাইরাসের নিরামক হিসাবে বিশ্বাস করেছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(হু) মতে, কোভিড-১৯কে ঘিরে ‘ইনফোডেমিক বা তথ্য বিপর্যয়’ ভাইরাসটির মতোই খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক তত্ত্ব, গুজব এবং সাংস্কৃতিক সীমাবদ্ধতা মৃত্যু এবং আক্রান্তের হার বাড়াতে আরো বেশি ভূমিকা পালন করছে।

গবেষকরা বলেছেন, অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় হিসাবে বিশ্বাসযোগ্য মেডিকেল তথ্যের অনুরূপ পরামর্শ অনুসরণ করেছিলেন- যেমন বিপুল পরিমাণ রসুন খাওয়া বা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন খাওয়া ইত্যাদি। কেউ কেউ তো গরুর প্রস্রাবের মতো পদার্থও পান করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

গবেষকদের মতে, এসবই তাদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।

গবেষণাপত্রের উপসংহারে বলা হয়েছে, এই ‘ইনফোডেমিক’ এর বিরুদ্ধে লড়াই করা আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকার এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব। তবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এক্ষেত্রে তাদের ধীর এবং হালকা প্রতিক্রিয়ার জন্য সমালোচিত হচ্ছে।

অনলাইন গুজবের কারণে ভারতে জনতার আক্রমণ এবং ইরানে গণবিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলীদের হুমকি দেওয়া এবং আক্রমণ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম জোচ্চরদেরও মহামারিটির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ভাইরাস থেকে রক্ষা দেবে উল্লেখ করে অকার্যকর ব্যাজ বিক্রি করতে এবং অলৌকিক খনিজ সাপ্লিমেন্টের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছে অনেকে।

এখন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ চলছে সেটা নিয়েও গুজব কম ছড়াচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভ্যাকসিন সম্পর্কিত বিভ্রান্তিমূলক তথ্য অপসারণ বা লেবেল করার চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২৮% আমেরিকান বিশ্বাস করেন বিল গেটস মানুষের শরীরের মধ্যে মাইক্রোচিপ দিয়ে দেওয়ার জন্যই ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে চান।

চিকিৎসকরা মনে করছেন, ভুল তথ্যের কারণে কার্যকরভাবে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি সম্পূর্ণরূপে হ্রাস পেতে পারে।