চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ‘ধ্বংসাত্মক ঝড়’

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি ধ্বংসাত্মক ঝড়।

মালপাস সতর্কবার্তা দিয়েছেন, এই মহামারীর কারণে কোটি কোটি মানুষের জীবন যাপন বাধাগ্রস্ত হবে। আর সেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় অব্যাহত থাকবে দশকব্যাপী।

বিজ্ঞাপন

গত মে মাসে মালপাস সতর্ক করেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে ৬ কোটি মানুষ চরম দারিদ্রতার মধ্যে পড়বে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সংজ্ঞা মতে, চরম দারিদ্রতা মানে দিনপ্রতি ১.৯০ মার্কিন ডলারের কম খরচের সামর্থ্য থাকা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে মালপাস বলেন, অন্তত ৬ কোটি মানুষ নিজের জন্য দিনে ১ পাউন্ডেরও কম অর্থ পাবে। একে তো করোনাভাইরাস তার সঙ্গে সবকিছু বন্ধ, সবমিলিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন যাপন বাধাগ্রস্ত হবে। সেটাই ভাবনার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

উভয় পরিস্থিতিতেই আয় বন্ধ হচ্ছে। সঙ্গে স্বাস্থ্যের পরিণতি, সামাজিক পরিণতিতো আছেই। সবই চরম কঠোর। যারা আগে থেকে কম সামর্থ্যবান তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, আমরা দেখছি স্টক মার্কেটে যুক্তরাষ্ট্র উপরের দিকেই থাকছে আর দরিদ্র দেশগুলোতে অনেকে শুধু কর্মহীনই হচ্ছে না বরং অনানুষ্ঠানিক খাতেও কাজ পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি ১ দশক চলমান থাকবে।

বিশ্ব ব্যাংক তার সহযোগীদের নিয়ে চরম আক্রান্ত দেশগুলোতে সহায়তা প্রদান করছে বটে, কিন্তু সেটা আরো বেশি দরকার। তাই বিশ্ব ব্যাংক বাণিজ্যিক ঋণদাতা যেমন ব্যাংক ও পেনশন ফান্ডকে দরিদ্র দেশগুলোতে ঋণমুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ঋণের শর্তাদি আরো পরিস্কার করারও আহ্বান জানিয়েছে যেন অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা ওই সব দেশের অর্থনীতিতে টাকা ঢালতে আত্মবিশ্বাসী হয়।

ব্যক্তিগত খাতকে আরো শক্তিশালী করতে সরকারি সমর্থন ও পদক্ষেপ দরকার হবে। সেটাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করবে। বিনিয়োগ ও সমর্থন দিলে আবার কাজের সুযোগ তৈরি হবে। তাতে খুবই খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন খাতকেও স্থানান্তর করা যাবে।

মালপাস বলেন, এই মহামারী কাটিয়ে উঠা যাবে। তখন মানুষ আরো নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক হয়ে উঠবে। পথ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেজন্য দেশ ও সরকারকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।