চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস ঠেকাতে সক্ষম অ্যান্টিবডি ‘পাওয়া গেছে’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা এমন এক অ্যান্টিবডি খুঁজে পেয়েছেন, যা করোনাভাইরাসকে আটকে দিতে সক্ষম।

ফক্স নিউজ জানায়, সান ডিয়াগো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সরেন্টো থেরাপিউটিকসের দাবি, তাদের পেট্রি ডিশ পরীক্ষণে দেখা গেছে এসটিআই-১৪৯৯ অ্যান্টিবডি সুস্থ মানব কোষে করোনাভাইরাসের প্রবেশ আটকাতে শতভাগ কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত বেশ কযেকটি ওষুধের সমন্বয়ে পরিকল্পিত অ্যান্টিবডি এটি। নিউ ইয়র্কের এমটি সিনাই স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ‘ককটেল’ নামের এই অ্যান্টিবডিটি তৈরি করছে সরেন্টো।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরেন্টো জানায়, এক মাসের মধ্যে এই অ্যান্টিবডিটির ২ লাখ ডোজ তৈরি করা যাবে। তাতে করে করোনাভাইরাসের টিকা যে সময়ে আবিষ্কার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে; তার আগেই এই ওষুধ সহজলভ্য হয়ে যাবে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ)র কাছে এর জরুরি অনুমোদন চেয়েছে কোম্পানিটি। তবে এখনো কোনো আশার কথা শোনা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

সরেন্টোর সিইও ড. হেনরি জি বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, প্রতিকার আছে। এমন এক সমাধান আছে- যেটা ১০০ ভাগ কাজ করে। আমরা যদি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডিটি শরীরে দিয়ে দেই তাহলে আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে না। ভয় ছাড়াই সমাজ খুলে দেওয়া যাবে।’

তারপরও এখানে একটি বড় ‘যদি’ আছে। যদিও ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে এই অ্যান্টিবডিটি মানবকোষে ভাইরাসের উপরে প্রভাব ফেলে। কিন্তু সেটা মানব শরীরে এই ইনফেকশন কতটা প্রতিরোধ করবে তা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়নি।

কারণ এখনো এই অ্যান্টিবডি মানব শরীরে পরীক্ষা করা হয়নি। তাই সেটা শরীরের ভেতরে কিভাবে কাজ করবে এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতটা থাকবে তা এখনো অজানা।

সরেন্টোর এসটিআই-১৪৯৯ নামের ওষুধটি ডজনখানের অ্যান্টিবডির একটি যেটা করোনাভাইরাসের মতো প্যাথোজেনকে অসাড় করে দেয়।

কতগুলো অ্যান্টিবডির একটি ককটেল মানবকোষে ‘প্রতিরক্ষা ঢাল’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে কোভিড-১৯, সারস-কভ-২ এর মতো ভাইরাসগুলোকে শরীরের ভেতরে প্রবেশে বাধা পাবে। আর ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করতে না পারলে তা টিকে থাকতে পারবে না। ফলে তা মারা যাবে বলেই মন্তব্য বিজ্ঞানীদের।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। পরে সারাবিশ্বে তা মহামারী রূপ ধারণ করে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ৪৬ লাখেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত আর প্রাণ হারিয়েছে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ।