চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: কমিউনিটি ট্রান্সমিশন প্রতিরোধে করণীয়

কোভিড-১৯ দিয়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনকে প্রতিরোধ করতে হলে কম ভেন্টিলেটেড জনসমাগমের জায়গাগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ দিয়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনকে প্রতিরোধ করার উপায় সম্পর্কিত তথ্যগুলো আমাদের জানতে হবে।

আমরা জানি, সার্সকোভ-২ এর সংক্রমণ আক্রান্ত ব্যক্তিদের রেসপিরেটরি ড্রপলেটের মাধ্যমে বেশি হয়ে থাকে। একজন সুস্থ ব্যক্তি যখন কাশি দেয়, আমরা দুটি ভিন্ন ধরনের ড্রপলেট পাই। বড় ড্রপলেট (১০০-১০০০ মাইক্রন) এবং ছোট ড্রপলেট (১-১০ মাইক্রন)। সাধারণত কথা বলার সময় শুধু ছোট ড্রপলেটই পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

কাশির সাথে দুই ধরনের ড্রপলেটই তৈরী হয় তবে বেশিরভাগ বড় ড্রপলেটই নির্দিষ্ট করে পাওয়া যায়। কথা বলার সময় এবং কাশির সময় ছোট ড্রপলেট তৈরী হলে এদের মধ্যে ভাইরাসের যে ক্ষুদ্রকণা থাকে সেটা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অ্যারোসলে বেঁচে থাকে এবং বাতাসে তিন ঘণ্টার মত সংক্রমণের জন্য থাকতে পারে। ড্রপলেট অ্যারোসল হিসাবে সরাসরি বাতাসের মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে পড়ে সংক্রমিত করতে পারে অথবা পরোক্ষভাবে জীবাণুযুক্ত হাতের মাধ্যমে সংক্রমিত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সার্সকোভ-২ সংক্রমণ নীচের শ্বাসনালীতে বা উপরের শ্বাসনালীতে শুরু হয়েছে কিনা সেটা সংক্রমণের মাধ্যম হতে ধারণা পাওয়া যায় এবং রোগের তীব্রতা কতটুকু বাড়বে তা প্রভাবিত করতে পারে। কম আলো-বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং বেশী তাপমাত্রা আছে এমন জায়গায় অ্যারোসলে খুবই অল্পমাত্রায় ভাইরাসের কনা থাকলেও সময়ের সাথে সেই জায়গায় সার্সকোভ-২ সংক্রমণ করার মত ডোজ তৈরী হয়ে যায়। কাশির শুরুতে বড় ড্রপলেট দ্রুতগতিতে ১ সেকেন্ডে মাটিতে পড়ে যায় এবং ছোট ড্রপলেট মাটিতে পৌঁছতে ৯ মিনিট সময় নেয় ।এই ছোট ড্রপলেটগুলোই সার্সকোভ-২ অ্যারোসল সংক্রমণের সাথে যুক্ত। সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাসে নাকের গহ্বরে হতে আসা ড্রপলেট পর্যবেক্ষণ করে কোন ড্রপলেট পাওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

হাঁচি থেকে মুখগহ্বর এবং নাকগহ্বর দুটো থেকেই সবচেয়ে বড় ড্রপলেট পাওয়া যায়।যেটা সবসময় একই থাকে না। বিভিন্ন ভেন্টিলেশনের তিনটি রুমে পরীক্ষা করে বিভিন্ন ফলাফল দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো ভেন্টিলেটেড রুমে ড্রপলেটের সংখ্যা ৩০ সেকেন্ড পরে অর্ধেক হয়ে যায়। যেখানে ভেন্টিলেশন ছিল না সেখানে ড্রপলেটের সংখ্যা অর্ধেক হতে এটা ৫ মিনিট সময় লাগে এবং মাটিতে পৌঁছতে ৯ মিনিট সময় লাগে। সবচেয়ে কম ভেন্টিলেটেড রুমে ড্রপলেট সংখ্যা অর্ধেকে পৌঁছতে সময় লাগে ১.৪ মিনিট।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, উন্নতমানের ফেস মাস্ক ব্যবহার করে ছোট ড্রপলেটের অ্যারোসল দিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। কনভেনশনাল সার্জিক্যাল মাস্ক দিয়ে প্রশ্বাসের সময় ছোট ড্রপলেটের সংক্রমণ শুধুমাত্র ৩০ ভাগ প্রতিরোধ করা যায়। নিশ্বাসের সময় এটার কার্যকারিতা আরও ভালো।

বিভিন্ন পরীক্ষা দেখিয়েছে যে, বেশি ভেন্টিলেটেড জায়গাগুলো রেসপিরেটরি ড্রপলেটের বাতাসে থাকার সময় কমিয়ে দেয়। এই কারণে কম ভেন্টিলেটেড এবং জনবসতিপূর্ণ জায়গা যেমন- গণপরিবহন, হাসপাতাল, নার্সিং হোম, বাজার এসব জায়গায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পরও ভাইরাস সংক্রমণের হার বেশি। এসব জায়গাগুলোতে ছোট রেসপিরেটরি ড্রপলেটের বেশিক্ষণ থাকার কারণে সার্সকোভ-২ সংক্রমণ ছড়াতে অবদান রাখছে। হাসপাতাল এবং এর আশেপাশে মেডিকেল চিকিৎসা এবং কোভিড-১৯ রোগীদের কাছের সংস্পর্শ হতে অ্যারোসল দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানো খুবই স্বাভাবিক। তাই জনবসতিপূর্ণ এবং জনসমাগমের জায়গাগুলোতে ভেন্টিলেশন উন্নত করলে সার্সকোভ-২ সংক্রমণের অ্যারোসলগুলো কমে যায় এবং পরিষ্কার হয়ে যায়।

এ কারণে আমাদের কম ভেন্টিলেটেড জনসমাগমের জায়গাগুলো যতদূর পারা যায় এড়িয়ে চলতে হবে। তাই সার্সকোভ-২ এর ছড়ানোকে প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের উচিত স্বাস্থ্য রক্ষায় ড্রপলেটের আকার ব্যবস্থাপনা, ভেন্টিলেশন এবং ফেস মাস্ক ব্যবহার এই পর্যালোচনাগুলো আমলে নেওয়া।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)