চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালে শিক্ষা খাতের অনিশ্চিত যাত্রা

করোনাকালে সারাবিশ্বজুড়ে যেসকল খাত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারমধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছে শিক্ষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী সবার এর সরাসরি ভুক্তভোগী। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও এর বাইরে না।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কওমি মাদ্রাসা ছাড়া দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবছর পিইসি পরীক্ষা হবে না বলে জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। পরে বিভিন্ন দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করুণচিত্র উঠে এসেছে নানা সময়ে। স্কুল-কলেজ বিক্রি করা, একেবারে বন্ধ ঘোষণাসহ নানা জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি ও প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি ও নামকরা স্কুলগুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে এখনও টিকে আছে।

তবে সবচেয়ে ক্ষতিকর ও ভয়ের বিষয় হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠ্যাভাস। গত এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল, তা থমকে গেছে। পিইসি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। এসএসসি পাশ করে কলেজ ভর্তির প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে বিরাট সংখ্যার শিক্ষার্থী। সবাই এক অনিশ্চিত যাত্রার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সীমিত আকারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার সংবাদে দেশের নীতি নির্ধারক ও অভিভাবক মহল নড়েচড়ে বসেছে। কিন্তু সবার মনেই রয়েছে করোনার ভয় আর স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রস্তুতির বিষয়টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে কী হবে, খুললেও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা পাঠাবেন কিনা, এইসব আলোচনায় সরব সামাজিক মাধ্যম।

প্রেক্ষাপট যাইহোক, শিক্ষা খাতের জন্য যে বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জীবন বাঁচলে শিক্ষা নেয়া যাবে, সবাই এমন অবস্থানেই দাঁড়িয়ে আছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির মুখে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব রক্ষায় কার্যকর মনোযোগ দেবেন, আর শিক্ষার্থীদের বিষয়েও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমাদের আশাবাদ।