চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কবে প্রতিশোধ নেবে ইরান?

মোহসেন ফখরিজাদাহ হত্যা

ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদাহ হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করে ঘটনার দিনই তার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলেছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর সামরিক উপদেষ্টা হোসেইন দেহাগান।

সেদিন হুমকির সুরে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হানা হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে; তখন অনেকেই ভাবছেন- এই বুঝি আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল সেখানে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেষ সময়ে এই সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

কিন্তু ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানী বলেছেন, ‘সময়মতো এই অপরাধের জবাব পাবে হত্যাকারীরা।’

যদিও ইসরায়েলি এক কেবিনেট মন্ত্রী বলেছেন, ‘ফখরিজাদাহের গাড়ির উপর বন্দুকধারীর হামলার পেছনে কারা রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।’

অনেকেরই প্রশ্ন- তাহলে ইরানের এই সেরা বিজ্ঞানী, যাকে মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী জে রবার্ট ওপেনহেইমারের সঙ্গে তুলনা করা হতো; তার হত্যার প্রতিশোধ কবে নেবে দেশটি?

বিষয়টি নিয়ে শনিবার রুহানী বলেন, তার দেশ যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে কিন্তু ফখরিজাদাহ হত্যার পরে তারা হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।

বিজ্ঞাপন

‘‘ইরানের শত্রুদের জানা উচিত আমাদের জনগণ ও কর্মকর্তারা অনেক সাহসী। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে কোনো জবাব না দিয়ে তারা থাকবে না। সময়মতো এই অপরাধের জবাব তারা পাবে।’’

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান যতোই গর্জন করুক না কেন; এই মুহূর্তে কোনো যুদ্ধে জড়াবে না তারা। বিশেষ করে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের আগে। তাই প্রতিশোধের হুমকি তাদের আপাত কৌশলের অংশ। বাস্তবতার সাথে মিল নেই।

শুক্রবার তেহরানের দামাবন্দ এলাকায় ফখরিজাদাহর ওপর হামলা চালায় আততায়ীরা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফখরিজাদাহ ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থার প্রধান ছিলেন। মূলত এই বিজ্ঞানীই ছিলেন দেশটির পরমাণু গবেষণায় প্রধান ব্যক্তি। পরমাণু চুক্তি ভেঙে ইরানকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা তাকে ‘ইরানি বোমার জনক’ হিসেবে অভিহিত করতেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে ইরান শান্তিরক্ষার জন্য বলে দাবি করে আসছে।

তার হত্যার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে বিতণ্ডা আরো বাড়াবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে মোহসেনের খুনের পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই ঘটনার বদলা নেওয়া হবে উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেন।