চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

কথা রাখুক মিয়ানমার

Nagod
Bkash July

একদিন, দুইদিন নয়; প্রায় সাড়ে ৩ বছর হয়ে গেল, তবুও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে ফিরিয়ে নেয়নি দেশটি। এমনকি এই সময়ে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কোনো চাপও তৈরি করেনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল। উল্টো রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধীতা করে যাচ্ছে।

Reneta June

এ যেন ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ অবস্থা। যারা রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়া করলো, গণহত্যা, গণধর্ষণের মতো মানবাতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী; তাদের নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই জাতিসংঘ, বিশ্বের প্রভাবশালী বিভিন্ন দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুন্দর আশ্রয়স্থল ভাসনচর নিয়েই যেন এখন তাদের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথা!

এত কিছুর পর এই দীর্ঘ সময়ে নানান সমস্যার মুখে দাঁড়িয়েও ধৈর্য হারায়নি বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে নিজের মতো করে। সেই ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আবারও মিয়ানমারকে চিঠি লিখে নতুন বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রত্যাশা জানিয়েছেন।

আজ রোববার সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে গত ১ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়েকে চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতেই এ বছর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আহ্বান জানানো হয়।

আমরা জানি, এই সাড়ে তিন বছরে বহুবার মিয়ানমার বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়ে বলেছে রোহিঙ্গাদের যথাযথ নিরাপত্তা দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। সে জন্য রাখাইনে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা শুধু কথার কথাই থেকেছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

অথচ সেই ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের থেকে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বইছে বাংলাদেশ। এতে কক্সবাজারসহ আশেপাশে পরিবেশের যেমন ক্রমাগত ক্ষতি হচ্ছে। তেমনি ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটেছে। এমন কি রোহিঙ্গাদের কারণে বড় রকম ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে স্থানীয় জনগণকে।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা, রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের নিজভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করবে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো। এর আর কোনো বিকল্প নাই।

BSH
Bellow Post-Green View