চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কঠোর সমালোচনার মুখে জাকারবার্গ

রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ঢিলেঢালা মডারেটিং ব্যবস্থাকে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে’ উল্লেখ করে ভাষণ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মাধ্যমটির সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে দেয়া ভাষণে ফেসবুককে ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার রক্ষক’ বলে উল্লেখ করে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। এরপর থেকেই তার বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনা।

বিজ্ঞাপন

যেখানে টানা কয়েক বছর ধরেই এই সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ব্যবহারকারীদের পোস্ট ও ফেসবুকে আচরণের ব্যাপারে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে জর্জরিত, সেখানে জাকারবার্গের এ ধরনের দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন অনেকেই।

এমনকি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভুল তথ্য ফেসবুকে প্রকাশের সিদ্ধান্তের পক্ষেও ভাষণে যুক্তি দেন জাকারবার্গ। যদিও ফেসবুকের এ নীতিমালার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

‘রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের স্পর্শকাতরতার দিক বিবেচনা করে আমি ভেবেছিলাম এসব একেবারে বন্ধ করে দেয়া যায় কিনা। কিন্তু রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন মানুষের মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে স্থানীয় প্রার্থী, নতুন চ্যালেঞ্জার এবং বিভিন্ন পক্ষ সমর্থনকারী দলগুলোর জন্য, যারা গণমাধ্যমের চোখে অতটা পড়ে না।’

‘রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে দিলে শোষকসহ যাদেরকে গণমাধ্যমরা আড়াল করে রাখে তারা সুবিধা পাবে,’ বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি’র জোঅ্যান লিপম্যান সিএনবিসি’র একটি অনুষ্ঠানে বলেন, মার্ক জাকারবার্গের এই ভাষণ এক দিক দিয়ে বিপজ্জনক। কেননা তিনি ভাষণে অনেক মিথ্যা ও ভুল তুলনা দিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, জাকারবার্গ বাকস্বাধীনতার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে চীনে বাকস্বাধীনতার ওপর আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন। আবার মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের প্রসঙ্গ তুলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে হওয়া বিক্ষোভের কথা বলেছেন।

‘কিন্তু এখানে মূল বিষয় হলো, ফেসবুক সরাসরি জানিয়ে দিলো যে তারা রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের তথ্য যাচাইবাছাই ছাড়াই প্রকাশ করবে। যার অর্থ তারা রাজনীতিকদের মিথ্যাচার থেকে শুরু করে ভুল তথ্য প্রচার এবং ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের সুযোগ করে দেয়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা থেকে একেবারেই আলাদা একটি বিষয়।’

অন্যদিকে বিজনেস ইনসাইডারের অর্থনীতি বিষয়ক সিনিয়র রিপোর্টার মেগান মরিস বলেন, জাকারবার্গ সেটাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলছেন সেটি আসলে যাচাইবাছাই ছাড়াই ভুল তথ্য ছড়ানোর একটি প্ল্যাটফর্ম।

‘এছাড়া ২০১৬ সালেই জাকারবার্গ বলেছিলেন, চীনের বাজার ধরতে আগ্রহী তিনি। এজন্য ম্যান্ডারিন ভাষা শিখছেন। তিনি ওই সময় চীন সরকারের পক্ষে এমন একটি থার্ড-পার্টি অ্যাপ ফেসবুকে যুক্ত করার কথা বলেছিলেন যেটি কোনো পোস্ট ফেসবুকে পাবলিশ হওয়ার আগেই সরিয়ে নিতে পারবে। অর্থাৎ তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে নয়, ব্যবসার খাতিরে একেক সময় একেক পক্ষ ধরে কথা বলছেন,’ বলেন মরিস।

জাকারবার্গের ভাষণের প্রতিবাদ করে মার্টিন লুথার কিংয়ের মেয়ে বার্নিস কিং এক টুইটবার্তায় শুক্রবার বলেন, জাকারবার্গ মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে তার বাবার নাম উল্লেখ করে ভুল তথ্য ছড়ানোর পক্ষে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এমন ভুল তথ্যের প্রচার হওয়ার কারণেই মার্টিন লুথার কিং খুন হয়েছিলেন।

Bellow Post-Green View