চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জাতির করুণ আকুতি

অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক শিক্ষার্থীর ‘আত্মহত্যা’র খবরে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষের সাথে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। ঠিক তখনই ঘটলো জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দেয়া আরেক ঘটনা।

দেশের বর্তমান উচ্চশিক্ষায় বড় এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন রাখা এই ঘটনা বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পরীক্ষা না দেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে পারছে না একজন শিক্ষার্থী। এই হতাশায় অসচ্ছল পরিবারের এই সন্তানের মাথায় আত্মহত্যার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ওই শিক্ষার্থী নিজের এ হতাশার কথা নিজের কোনো স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়কে বলেননি। রীতিমত লিখিতভাবে ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর কাছে আবেদনপত্র দিয়ে জানিয়েছেন। সেখানে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তাকে করা জরিমানা মওকুফের জন্য করুণ আকুতি জানিয়েছেন। কারণ তার হার্টের রোগী বাবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। সঙ্গত কারণেই তার পক্ষে এই টাকা দেয়া সম্ভব নয়।

জানা গেছে, কোটা আন্দোলনের সময় একটি কোর্সের পরীক্ষা না দেওয়া ৬১ জন শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য ঘোষণা করা হয়। উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে এ নিয়ে অনেকবার ধর্ণার পর ডিনস কমিটি প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা নিয়ে পুনরায় পরীক্ষার অনুমতি দেয়।

Advertisement

আমাদের প্রশ্ন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ধরনের সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক? যদি ধরেও নেওয়া হয়, ওই ৬১ জন শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত ছিল। কিন্তু যে আন্দোলনকে মেনে নিয়ে সরকার পুরো কোটা পদ্ধতিই বাতিল ঘোষণা করলো, সেখানে এই শিক্ষার্থীদের অপরাধ কোথায়? সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাই তো স্বীকার করেছে, ওই আন্দোলন যৌক্তিক ছিল। তাহলে জরিমানার প্রশ্ন আসবে কেন?

এই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের টাকার কি এতোই অভাব? কারণে-অকারণে, যৌক্তিক-অযৌক্তিভাবে জরিমানা আদায় করতে হবে? এর ফলাফল কি হতে পারে- সেটা কি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখেছেন?

আর টাকার অভাবই বা হবে কেন? সরকার তো তাদেরকে খরচের জন্য কম বাজেট দেয় না। এইতো চলতি অর্থবছরেও (২০১৮-১৯) ঢাবির জন্য ৭৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের হিসাব ধরলে সংশোধিত হয়ে এই বাজেট আরো অন্তত শতকোটি টাকা বেড়ে যাবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

তাহলে এই সামান্য অর্থের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে কেন আত্মহত্যার কথা চিন্তা করতে হবে? আমরা মনে করি, এভাবে জরিমানা করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরিত্র আর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যায় না। এই করুণ আকুতি একজন শিক্ষার্থীর নয়, পুরো বাংলাদেশের।