চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘এ এক আকাল, কেবল বিদায়েরই কাল!’

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছে শিল্প সাহিত্য থেকে শুরু করে সিনেমা ও নাটকের মানুষেরাও…

মারা গেছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী। বলছেন, তার মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি।

স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই সাহিত্যিকের মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছেন দেশের শিল্প সাহিত্য অঙ্গনের গুণীজন থেকে শুরু করে নাটক সিনেমার মানুষেরাও। কারণ তার বেশকিছু গল্প উপন্যাস থেকে নির্মিত হয়েছে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র।

বিজ্ঞাপন

গুণী এই সাহিত্যিকের সাথে সরাসরি স্মৃতি ছিলো দেশের মেধাবী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীরও। তার মৃত্যুর খবর শুনে তাই আপনজন হারানোর বেদনা অনুভব করছেন বলে জানান এই নির্মাতা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে ফারুকী লিখেছেন, সাগর ভাই (ফরিদুর রেজা সাগর) আমার জীবনের বহু কিছুর সাথে জড়িয়ে আছেন! উনার মা আমার খালা হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছেন আপা! আজকে উনি চলে গেলেন! এ এক আকাল! কেবল বিদায়েরই কাল!

দেশ বিদেশের খ্যাতিমান এই নির্মাতা আরো বলেন, ‘রাবেয়া আপা- কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন- সাগর ভাইয়ের বাসায় গিয়ে আপনাকে আর দেখতে পাবো না! আমরা এভাবেই থাকি এবং চলে যাই!’

স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। রবিবার বিকালে বাধ্যর্কজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথাসহ চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতেও বিচরণ রাবেয়া খাতুনের। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘মেঘের পরে মেঘ’ জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্র। ‘মধুমতি’ এবং ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ও প্রশংসিত হয়েছে সব মহলে।

তার স্বামী প্রয়াত এটিএম ফজলুল হক ছিলেন দেশের চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রথম পত্রিকা সিনেমার সম্পাদক ও চিত্রপরিচালক। বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘প্রেসিডেন্ট’ এর পরিচালকও তিনি।

১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই এটিএম ফজলুল হক ও রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তানের মধ্যে রয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।