চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এরশাদই খেললেন শেষ খেলাটা

ক্ষমতাচ্যুতির ২৮ বছর পর স্বরূপে ফিরেছেন এরশাদ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ থেকে মহাজোটের শরিক দল হিসেবে এককভাবে ২৯ আসন নিয়ে আরও ১৪৫ আসন উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়ে প্রার্থী দিয়েছেন সর্বমোট ১৭৪ আসনে। তার দল জাতীয় পার্টি যেমন ২৯ আসনে মহাজোটের শরিক হিসেবে এককভাবে নির্বাচন করছে, ঠিক একইভাবে আরও ১৪৫ আসনেও তার প্রার্থী আছে। ফলে উন্মুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে জাতীয় পার্টির বিপক্ষেও লড়তে হবে।

উন্মুক্ত আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে প্রকৃত অর্থে লাভবান হবে কে এ নিয়ে হিসাব কষার সময় এখনও না আসলেও কিছুটা হলেও ধারণা করা যায়। এই ধারণায় আওয়ামী লীগের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা কম। একইভাবে ভোটের মাঠে এই আসনগুলোতে জাতীয় পার্টিও যে লাভবান যে হবে তা না। এতে করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটগুলো ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, যা সুফল ভোগ করবে বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা।

ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টির এই উন্মুক্ত ১৪৫ আসন থেকে একটাতেও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা সেটা ভালোভাবেই উপলব্ধি করে। তবে ভোটের হিসাবের বাইরে জাতীয় পার্টির লাভের জায়গা হলো এর মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে তাদের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের যে অভিযোগ ওঠেছিল সে আলোচনা প্রশমিত হয়েছে। এই আলোচনা এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল যে স্বয়ং পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অভিযুক্ত হয়েছিলেন; অভিযোগ ওঠেছিল দলটির সদ্য অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধেও। যার খেসারত দিতে হয়েছে হাওলাদারকেও, তাকে মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে হয়েছে জাতীয় পার্টিকে।

তবে রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে সরালেও অব্যাহতির অব্যবহিত পর এরশাদ তাকে পার্টির দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। হাওলাদার নির্বাচন করতে পারছেন না ঠিক, কিন্তু দলে তার পদোন্নতি হয়েছে এবং এর সঙ্গে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ যদি সত্য হয় তবে সেখান থেকে তার অর্থযোগও হয়েছে; একই সঙ্গে এরশাদেরও।

রুহুল আমিন হাওলাদার

জাতীয় পার্টি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে কী করেনি এনিয়ে আলোচনা এখন প্রায় বন্ধ। নির্বাচনমুখী দেশ এই হিসেবে তারাও নির্বাচনের দিকে মনোনিবেশ করছে। এবং মহাজোটের শরিক হিসেবে তারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে একক ভাবে প্রার্থী নেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও প্রার্থী দিয়েছে। জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব, স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এনিয়ে বলছেন, ‘আসন উন্মুক্ত করে দেওয়ায় মহাজোটের দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ‘লাভবান হবে’। তার ভাষ্য, ‘প্রতিটি আসনে আমাদের অনেক প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগেরও একের অধিক প্রার্থী রয়েছে। এটা নিয়ে একটু অসুবিধা হচ্ছিল। পরে মহাজোট থেকে সিদ্ধান্ত আসল, ঠিক আছে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। এ আসনগুলোতে দুদলের প্রার্থীদের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নাই’। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিবেচনায় ছিল, আমাদের প্রার্থী দাঁড়ালে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেমনিভাবে আমাদের প্রার্থীর বিষয়টিও ছিল। এসব বিবেচনায় দুই দলই যেন দুদলের সহযোগিতা পায়, সেটা বিবেচনা করে আসন ওপেন রাখা হয়েছে’।

জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাদে স্থানীয় সরকারের আর কোন নির্বাচনে অংশ নেয় না। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে তাদের প্রার্থীদের দেখা মেলে না। কেন্দ্রীয়ভাবেও দলটি সেসব নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখায় না। কিন্তু সংসদ নির্বাচন এলেও প্রার্থীদের হুড়োহুড়ি পড়ে যায় তাদের। এবারের সংসদ নির্বাচনের আগে ২০ হাজার টাকা মূল্যমানের কেবল মনোনয়ন ফরমই দলটি বিক্রি করেছে দুই হাজারের বেশি। বিএনপি, আওয়ামী লীগের পর এটা সংখ্যাক্রমেও তৃতীয়। এর মধ্যে আবার অভিযোগ ওঠেছে মনোনয়ন বাণিজ্যেরও। মূলত এই ঘটনা ঘটছে দলটি মহাজোটের শরিক দল হওয়ায় আওয়ামী লীগের ভোটে প্রার্থীদের নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার অভীপ্সা থেকে। সারাদেশের প্রত্যেক আসনে আওয়ামী লীগের যত ভোট রয়েছে সেগুলো যেকোনো প্রার্থীর পক্ষে গেলে নির্বাচনে জয় পাওয়া কিংবা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। এই হিসাব মাথায় রেখে তাদের এত প্রার্থী, আর এই ‘মনোনয়ন বাণিজ্যও’। জাপা গত পাঁচ বছর সরকারে অংশ থেকেও সংসদের বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করলেও সারাদেশে তাদের নিজস্ব দলীয় কর্মসূচি ছিল না। দলটির সাংগঠনিক কোন কার্যক্রমই ছিল না, অথচ রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিল দলটি।

এরপরেও দলের এত প্রার্থী, এবং এই প্রার্থীদের অবস্থা এমন পর্যায়ে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের সামাল দিতে পারছিল না। ‘হয় মনোনয়ন না হয় টাকা ফেরত’- এমন অবস্থায় এরশাদের উপায় ছিল না টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের শান্ত রাখতে। এতে করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা হয়নি। ২৯ আসন তারা মহাজোটের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পেরেছে মূলত আওয়ামী লীগ শুরুতেই বেকায়দায় পড়ে যাওয়ার কারণে। আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে জাতীয় পার্টিকে এই আসনগুলো দিতে। কারণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ে নির্ধারিত ওই আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়নি, ফলে আওয়ামী লীগের কেউ সেসব আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। আর এদিকে শেষ মুহূর্তে সমঝোতা না হওয়ায় এই ২৯ আসনের বাইরে আরও ১৪৫ আসনকে জাতীয় পার্টির দাবিমত উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবি মানা ছাড়া উপায় ছিল না আওয়ামী লীগের।

জাপা মহাসচিব যতই বলুন না কেন জাতীয় পার্টি থাকলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লাভবান হবে সেটা ঠিক নয়। কারণ মহাজোটের অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সারাদেশে প্রায় একীভূতই হয়ে পড়েছিল। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কারণে জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদের বিরোধীদল হলে তারা তাদের রাজনৈতিক বিলুপ্ত ঠেকাতে পেরেছে। এই কৃতজ্ঞতাবোধ তাদের থাকার দরকার ছিল, কিন্তু সেই কৃতজ্ঞতাপ্রকাশের চাইতে আওয়ামী লীগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ে যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাই সেখানে জাতীয় পার্টিকে মেনে নেওয়া ছাড়া আওয়ামী লীগের কাছে আর কোন বিকল্প না থাকায় তারা এগুলোকে মূলধন হিসেবে ধরে নিয়ে একের পর এক আসন বাড়ানোর অযৌক্তিক আবদার করে গেছে। এবং শেষ মুহূর্তে সমঝোতা না হওয়ায় অর্ধেকের মতো আসনে নিজেদের প্রার্থীও রেখে দিয়েছে।

Advertisement

জাতীয় পার্টি এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল মূলত মহাজোটের শরিক হলেও তারা আওয়ামী লীগের নির্দেশনা মানতে অফিশিয়ালি বাধ্য নয়। তারা নিজেদের প্রতীক ‘লাঙ্গল’ নিয়েই নির্বাচন করছে। ফলে জাতীয় পার্টির চিঠিই নির্বাচন কমিশনে গ্রহণযোগ্য, এখানে মহাজোটের নেতৃত্বস্থানীয় দল আওয়ামী লীগের চিঠি অপ্রাসঙ্গিক। এই সুযোগের সদ্ব্যবহারে তারা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে আরও ১৪৫ প্রার্থী। আর এটা হজম করতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। সরকারি দল এনিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছে না মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ের কৃত সেই ভুলের কারণে।

জাতীয় পার্টি সর্বমোট ১৭৪ আসনে নির্বাচনের ঘোষণার পর এখানে অনেকেই একে কৌশল হিসেবে দেখতে চাইছেন। তাদের অনেকের দাবি শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে গেলে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এজন্যে এই কৌশল। প্রকৃত তথ্য হলো ৮ ডিসেম্বরের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন থেকে কার্যত আনুষ্ঠানিক নির্বাচন বর্জনের সুযোগ নেই। প্রতীক বরাদ্দের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিএনপি আগামীতে মৌখিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথা যদি বলেও ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা ইসির রয়েছে, এবং এজন্যে ব্যালট পেপারে বিএনপির প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবেই। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্যে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থীর কৌশল এই যুক্তি ধোপে টেকে না।

জাতীয় সংসদজাতীয় সংসদের অর্ধেকের মতো আসনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকার কারণে ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়বে। এরশাদের জাতীয় পার্টির সারাদেশে গড়ে ১৫-২০ হাজার ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি ভোট রয়েছে। এই ভোটগুলো ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাক্সে পড়েছিল। এবার সেটা ভাগাভাগি হচ্ছে। জাতীয় পার্টির ভোট লাঙ্গলে পড়বে, সেক্ষেত্রে ক্ষতিটা এককভাবে নৌকার; এবং লাভ পুরোটাই বিএনপির প্রার্থীর কারণ অধিকাংশ আসনেই তারা একক প্রার্থী দিতে পেরেছে।

ভোট ভাগাভাগির ক্ষতির বাইরে আরও একটা ক্ষতি আছে আওয়ামী লীগের এবং সেটা হচ্ছে পুরো দেশে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী একটা আবহের সৃষ্টি হবে। বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সরকার ও দলটির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বলবে সেটা স্বাভাবিক, এর সঙ্গে যুক্ত হবে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও সুর মেলানো। একটা সময়ে সেটা ‘নৌকা ঠেকাও’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ওই জায়গা থেকে জাতীয় পার্টি যতখানি লাভবান হবে সেটা তাদের প্রার্থীর জয়ের জন্যে যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। তবে সেটা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বেকায়দায় ফেলবে নিশ্চিতভাবেই। যার ফল ঘরে তুলতে পারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রার্থীরা।

‘এন্টি-আওয়ামী লীগ’ ভোটে ভাগ ধরাতে জাতীয় পার্টি কাজ করবে বলে যারা মনে করছেন তারা ভুল হিসাব করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি একসঙ্গে ভোট করলেও এন্টি-আওয়ামী লীগের ভোট নৌকায় পড়েনি। সে সময় এই ‘এন্টি তত্ত্ব’ কাজে না আসলেও দশ বছর পর কী যুক্তিতে সেটা প্রভাবক হয়ে যায়?

বড় ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয় এমন আসনের চাইতে খুব কম ব্যবধানে বিজয়ী-বিজিত নির্ধারণের সংখ্যা বেশি দেশে। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির এই ভোট ভাগাভাগিতে ক্ষতিগ্রস্ত দলটি যে আওয়ামী লীগ হতে যাচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। যদিও মনোনয়ন সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তির পর এখন এনিয়ে কিছুই করার নেই।

আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই বলে আসছিল আসন ভাগাভাগি নিয়ে মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে তাদের সমস্যা নেই, হবেও না। তারা প্রথম থেকেই এনিয়ে সতর্ক থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ক্ষমতাসীন দলটি শুরু থেকেই ব্যস্ত থেকেছে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নিয়ে, কিন্তু খালেদা জিয়াবিহীন দলটি শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে পারলেও আওয়ামী লীগ সেটা পারেনি। ফলে ভোটের মাঠে কেবল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ নয়, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন নিজেদের জোটও।

আওয়ামী লীগের ভাবলেশহীন রাজনীতির সুযোগ নিয়ে এই খেলাটা এরশাদই খেললেন, পুরো দশ বছর আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভরশীল থেকে শেষ মুহূর্তে বন্দুক তাক করলেন আওয়ামী লীগের দিকেই!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)