চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এমন ঘটনা অনভিপ্রেত

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে; সারাদেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন তার মধ্যে অন্যতম। কড়াভাবে সেই লকডাউন কার্যকরে গণপরিবহন বন্ধের পাশাপাশি লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নির্দেশনার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল সরকার।

কিন্তু সেই লকডাউনের প্রথমদিনেই রাজধানীতে দোকান-শপিংমল খোলা রাখার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, সেই বিক্ষোভ থেকে যানবাহন ভাঙচুর, পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে সেসব ছাড়িয়ে যায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফুকরা বাজারে ঘটনা। যা আমাদের কাছে অনভিপ্রেত মনে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সালথার ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে মূলত একই ধরনের ভাষ্যে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র কারণে ‘বিক্ষুদ্ধ জনতা’র সংঘর্ষ হয়। তার এক পর্যায়ে সেই ‘উত্তেজিত জনতা’ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে থাকা বিভিন্ন সরকারি অফিস, থানা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

সেসময় ভাঙচুর করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস। আগুন দেওয়া হয় সরকারি দুইটি গাড়িতে। চেষ্টা করা হয় সালথা থানাতেও আগুন লাগানোর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় এক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

যে ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা, তিনি সালথার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা হিরামনি। তার ভাষ্য, ‘সরকার নির্দেশিত আদেশে রুটিন ওয়ার্কে বিভিন্ন বাজারে গিয়েছিলাম। ফুকরা বাজারে সন্ধ্যার আগে যাওয়া হয়। বাজারে চায়ের দোকানে লোকজনের জটলা দেখে তাদের সরে যেতে বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। সেসময় তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ঘটনার পরে বিক্ষোভকারীরা আমার অফিস, গাড়ি ও ইউএনও স্যারের অফিস ভবন ও তার গাড়ি পুড়িয়ে দেন।’

তবে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে জনতার সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ যদিও  ঘটনার তীব্রতা দেখে অনেকেই বলছেন, নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকে এত বড় ঘটনার জন্ম হওয়ার কথা নয়। এর পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে।

নগরকান্দা ও সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমিউর রহমান নিজেও এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘হামলাকারীরা কোনো সাধারণ জনতা ছিল না, এদের পেছনে দুষ্টচক্রের ইন্ধন ছিল। যে কারণে সরকারি গাড়ি, অফিস-আদালতে হামলা চালানো হয়েছে।’

আমরা ধরেই নিলাম, সরকারের নির্দেশ পালনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটা ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে; তাই বলে মুহূর্তের মধ্যেই হাজার হাজার সাধারণ মানুষ জমায়েত হয়ে এত ব্যাপক আকারে হামলা করতে পারে? ঘটনার তীব্রতা দেখে আমরা তা মনে কর না। এর পেছনে নিশ্চয়ই সংগঠিত কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ কাজ করেছে। নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তারা সুযোগ নিয়েছে।

আমরা মনে করি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সেই চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে।