চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এভারেস্ট চূড়া পরিচ্ছন্নতায় নেপাল সেনাবাহিনী

প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এভারেস্ট চূড়ায় আরোহণ করে থাকেন। কিন্তু অনেকের প্রশিক্ষণ না থাকায় পরিবেশ দূষিত করেন এভারেস্টের, রেখে আসেন নানা আবর্জনা।

এসব আবর্জনার মধ্যে রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মনুষ্য বর্জ্য, মৃত পর্বতারোহীদের শরীর। গত কয়েক দশকে অন্তত ৫০ টনের অধিক বর্জ্য জমেছে এভারেস্টে। এর জন্য অনেকে এভারেস্টকে বলছেন, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ‘ডাস্টবিন’।

বিজ্ঞাপন

এভারেস্টের ছয় শৃঙ্গ এভারেস্ট, লোটসে, পুমোরি, আমাদাবাম, মাকালু এবং ধাউলাগিরিতে যে পর্বতারোহীরা আরোহণ করেন, তারা সেখানে আবর্জনা রেখে আসেন।

এভারেস্ট এর পরিবেশ বাঁচাতে উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। এভারেস্ট পরিচ্ছন্নতায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। এভারেস্টের চুড়া থেকে ৩৫ হাজার আবর্জনা পরিষ্কার করবে নেপালের সেনাবাহিনী।

তবে সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন নেপালের শীর্ষস্থানীয় শেরপারা।

তাদের বক্তব্য, সেনাবাহিনীর পক্ষে এভারেস্টের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করা কঠিন। এর জন্য শেরপাদের হাতেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। কারণ তারা এই বিষয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত।

বিবিসি বলছে, নেপাল সরকার বলছে যে, পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় হবে ৮৬০ মিলিয়ন নেপালি রুপি তথা ৭.৫ মিলিয়ন ডলার। গত বছর সেনাবাহিনী এভারেস্ট থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি বর্জ্য পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলো।

কিন্তু ২৪ বার এভারেস্ট চূড়া আরোহণের রেকর্ড করা কমি রিতা শেরপা বলছেন, সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর মতো দক্ষতা নেই।

বিজ্ঞাপন

তিনি বিবিসি বলেন, তারা নিম্ন উঁচু চূড়া থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করেছিলো। আরও উঁচু থেকে আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য শেরপাদের জড়ো করা উচিত। কেবল শেরপা গাইড ও বাহকরা এই কাজ করতে পারে। আর তাদেরকে তার জন্য যথাযথ মজুরি দেওয়া উচিত।

২১ বার এভারেস্ট জয়ী পূর্ব তুশি শেরপা বলছিলেন, এভারেস্ট আরোহণ করা শেরপারাই চূড়া পরিষ্কার করার সঠিক লোক। সরকারের উচিত এই বিষয়টি মাথায় রাখা।

তবে নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বিগিয়ান দেব পান্ডে জানান, তারা আত্মবিশ্বাসী যে তার দল এই বছর সর্বোচ্চ চূড়া পরিষ্কার করতে সক্ষম হবে, যা ৫ জুন শেষ হবে।

তিনি বলছেন, ‘আমরা আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি এবং সর্বোচ্চ চূড়া পরিষ্কার করতে কঠোর পরিশ্রম করছি।

নেপাল সরকার বলছে, এখন থেকে পর্বতারোহীদের ৪,০০ ডলার জমা দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে। তবে ফেরার সময় আবর্জনা নিয়ে এলে তাঁরা সেই অর্থ ফেরত পাবেন।

তবে শেরপারা বলছেন, এটা সহজ নয়।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি অ্যাং শেরিং শেরপা বিবিসিকে জানান, উচ্চ শিবিরগুলি থেকে ভারি সিলিন্ডার বা মৃতদেহ নামিয়ে আনা সত্যিই কঠিন।

এভারেস্ট আরোহণ করতে গিয়ে প্রতি বছর অনেকে মারা যান। ২০১৯ সালে ১১ জন মারা গিয়েছিলেন, তাদের অনেকের লাশ সেখানে পড়ে থাকে, তা পরিষ্কার করা দরকার। তবে উচ্চতর জায়গা থেকে তা নামানো অনেক কঠিন। কিছু ক্ষেত্রে অনেক লাশ এবং আবর্জনা কয়েক দশক ধরে তুষারে আটকে গিয়ে এভারেস্টের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।