চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এখনও সাগরে চার হাজার বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা

থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার নিকটবর্তী সাগরে এখনও ভাসমান অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে প্রায় চার হাজার বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (অাইওএম)’র বাংলাদেশ অফিস জানিয়েছে, শনিবারও ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূলে শরণার্থীদের একটি নৌকা এসে ভিড়েছে। তবে এখনও জানা যায়নি সেখানে কতোজন শরণার্থী আছেন।

অাইওএমের বাংলাদেশ প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনীর জানান, এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় দুই হাজার ৮শ’ বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪শ’ ২০ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে এবং ১শ’ ১৬ জন বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ২শ’ ৪৯ জন ইন্দোনেশিয়ায়, ১ হাজার ১শ’ ৭ জন মালয়েশিয়ায় এবং বাকি ৩শ’ ৭০ জন থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

এসব শরণার্থীর ভবিষ্যত বিষয়ে আসিফ মুনীর বলেন, বিষয়টি আসলে সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। প্রত্যেকটি দেশে আলাদা আলাদা অভিবাসন আইন আছে। ২৯ মে থাইল্যান্ডে অভিবাসন নিয়ে সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না থাকায় তাদেরকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশি প্রাধান্য দেবে।

তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা সেখানে আছেন তার গণনা শুরু হয়েছে।

তবে আসিফ মুনীর বলেন, মিয়ানমারের সরকার থাইল্যান্ডের ডাকা আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত আসবে তা ধারণা করা কষ্টকর।

‘হয় রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা দেশগুলো সে দেশে বৈধ নাগরিকত্ব দেবে। অথবা আলোচনা করে অন্য কোনো দেশে তাদেরকে স্থানান্তরিত করতে হবে,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাগরিকত্ব থাকায় বাংলাদেশীদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হবে জানিয়ে আসিফ মুনীর বলেন, বাংলাদেশীরা সেখানে কাজের উদ্দেশে গিয়েছে। যদি দেশগুলো চায় তাহলে এসব অভিবাসীকে ওইসব দেশে কাজের ব্যবস্থা করে বৈধ হিসেবে মর্যাদা দিতে পারে। না হলে বাংলাদেশ সরকারকে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা শরণার্থীদের থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এসব দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের রাখা হয়েছে। তাদের জীবন ধারণের জন্য প্রাথমিক উপকরণও সরবরাহ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা, আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং বিভিন্ন এইড এজেন্সি তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

এর আগে মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড তাদের উপকূলে শরণার্থীদের ভিড়তে না দিয়ে মাঝ সাগরে ফেরত পাঠালেও এখন নৌকাগুলো তীরে ভিড়তে দিচ্ছে।

Bellow Post-Green View