চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ঢাবিতে ডেঙ্গু আতঙ্ক

বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন সেখানে অন্তত ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার নিতে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

তবে আবাসিক হলগুলোতে এই সংখ্যা আরো বেশি। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা, প্রতি হলেই ২০ থেকে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন হলের ‘গণরুমে’ থাকা শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মেডিক্যাল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুত্তাকী বলেন, ‘প্রতিদিনই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন। আমাদের মেডিক্যালের ওয়ার্ডে আসলেই দেখবেন কি হারে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।’

শুক্রবার রাতে ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এ আবাসিক শিক্ষার্থীর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

কোনো কোনো শিক্ষার্থী আবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে ডেঙ্গু রোগের কোনো কার্যকর চিকিৎসাই নেই।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম রেজা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাস আজ ডেঙ্গু’র দখলে। অনতিবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। যতক্ষণ না পর্যন্ত ক্যাম্পাস আমাদের জন্য নিরাপদ না হয়। জীবন এত সস্তা না।’

বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমাদের হলের এক ছোট ভাই ডেঙ্গুতে মারা গেছে। এর জন্য কে দায়ী? আমি ডাকসুর নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করবো জিয়া হল, জসীমউদদীন এবং বঙ্গবন্ধু হলের মাঝে যে পুকুর নামের ডোবা রয়েছে। সেটি মশা তৈরির কারখানা। এটা সংস্কার করা সময়ের দাবি।’

বিজ্ঞাপন

ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এবং হলগুলোতে যেন এডিস মশা বিস্তার লাভ করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা গতকালও এডিস মশা নিধন ঔষধ দিয়েছি সব হল এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। তারপরেও যদি কোনো শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয় তাহলে হল প্রশাসন তার চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা দেবে।’

কোনো শিক্ষার্থী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে হল প্রশাসনকে অবহিত করারও অনুরোধ করেন প্রক্টর।

তিনি বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারেও আমরা এ বিষয়ে জরুরি সেবা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঢাবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে।’

এছাড়াও সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানান গোলাম রাব্বানী।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত ছুটির আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা:

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ডাকসু নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ডাকসুর পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক লিফলেট, ব্যানার, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্লাটিলেট পরিমাপের ‘সেল কাউন্টার’ যন্ত্র ব্যবহার করা শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার সুবিধা নিশ্চিতের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা হবে।’

‘বাঁধনের সহযোগিতায় রক্ত সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে সহজতর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে কাজ চলছে। একইসাথে সকল হল সংসদকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

Bellow Post-Green View