চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একদিনে এত দুর্নীতি-অনিয়মের খবর!

এতদিন বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা দৈনিক পত্রিকাগুলোর খেলার পাতা ছাড়িয়ে প্রথম পাতাসহ প্রায় সব পাতায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে। বিশ্বকাপের পর্দা নামার পরও আমেজ কিছুটা আছে। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত পাঁচটি দৈনিক পত্রিকায় ফুটবল বন্দনাকে আড়াল করে শিরোনাম হয়েছে দানবীয় দুর্নীতি-অনিয়মের সাতটি খবর।

দুর্নীতির একটি প্রতিবেদন শীর্ষ খবর হিসেবে প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো। প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম,“বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড।” প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা ভল্টের ভেতরে ঘটা ‘ভুতুড়ে’ কাণ্ডের কথা। এই ভুতুড়ে কাণ্ডটি হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৯৬৩ কেজি স্বর্ণের বদলে যাওয়া। ভল্টে রাখা স্বর্ণ মিশ্র বা সংকর ধাতু হয়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

স্বর্ণগুলো মূলত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্ধার-জব্দ করা। ভরসার জায়গা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে এসব জমা করে নিশ্চিন্ত থাকার দু’ বছর পর পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে জানা যায় যে স্বর্ণ এনবিআর ভল্টে দিয়েছিলো সেগুলো বদলে গেছে!

প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনে ‘ভুতুড়ে কাণ্ডের’ জন্য শর্ষের মধ্যে থাকা ভূতেদের দিকেই সন্দেহের আঙুল তোলা হয়েছে।

জবাবদিহিতার অভাবের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক ইনকিলাব। প্রতিবেদনটির শিরোনাম “আষাঢ়ে গল্প”।
এই প্রতিবেদনে শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে আটক বিলাসবহুল গাড়ি আদৌ তাদের দাবী অনুযায়ী এতো দামী কিনা, কিংবা দামী এসব গাড়ি আটকের পর কী অবস্থা হয় সেসব বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দারা অনেক সময় আটক করা গাড়ির দাম অতিরঞ্জিত করে গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে। এমনকি গোয়েন্দারা ৮০-৯০ লাখ টাকার টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ভি-৮ ২০১৩ মডেলের দাম ৫ কোটি টাকা বলে প্রচার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সত্যিই যেসব কোটি টাকার গাড়ি উদ্ধার হয় সেসব গাড়ির কী হয় তা নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দৈনিক ইনকিলাবেরই ৮ম  পৃষ্ষ্টাঠায় দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনাম: “দিনাজপুরে বালু দিয়ে কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।”

বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার আজ প্রধান শিরোনাম ছিল: “এত সম্পদ গেল কোথায়”। এই প্রতিবেদনে ডেসটিনি, হলমার্ক, যুবক-এর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, ভোগ-দখলের বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার চরমে পৌঁছেছে জানিয়ে আজ ,“ফাইল আটকে মন্ত্রী-সচিবের নজিরবিহীন হয়রানি” শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় দ্বিতীয় শীর্ষ খবর প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দু’ বছর ধরে যমুনা গ্রুপের দুটি ফাইল প্রভাবশালী মহলের কারণে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারের বিনিয়োগনীতি ব্যর্থ করতে কাছের লোকজন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রথম আলোর মতো ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ডের কাছাকাছি শিরোনামে ‘ভুতুড়ে আমদানি’ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।

পত্রিকাটির শীর্ষ খবরের শিরোনাম,“ আনসেটলড এলসিজ, গোস্টলি ইমপোর্ট”। এই প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে বৈদেশিক লেনদেনে মারাত্মক অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হবে জানিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি খুলছে ভুয়া আমদানিকারকরা। এর মাধ্যমে বিদেশে এই আমদানিকারকদের অ্যাকাউন্টে দেদারসে টাকা যাচ্ছে দেশ থেকে। কিন্তু আমদানিকারকরা নিয়ম অনুযায়ী বিল অব এন্ট্রির কাগজপত্র দিচ্ছে না। এতে বোঝা যাচ্ছে না যে আদৌ কোন পণ্য আমদানি করা হয়েছে কিনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমদানিকারকদের খোলা এলসিগুলোর মধ্যে বর্তমানে ৭ শতাংশই ভুতুড়ে বা রহস্যজনক। এই ৭ শতাংশের মধ্যে ৩ শতাংশ খোলা হয়েছে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে।

প্রতিবেদন বলছে, এ ব্যাপারে জনতা ব্যাংককে ৫ দফা সতর্ক করা হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতাকে আমলে নেয়নি।

বিজ্ঞাপন