চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

একদিনেই সড়কে ঝরে গেল এত প্রাণ!

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে রাজশাহীর সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৭টি তাজা প্রাণ ঝরে গেলো। সড়কে একটি ত্রিমুখী সংর্ঘষে প্রাণ গেল এই যাত্রীদের। অন্যদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ফাঁসিতলায় পিকনিকের বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও ৯ জন। এছাড়াও সাতক্ষীরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষক নিহত হয়।

শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাপাশিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন।  নিহতদের মধ্যে ৬ জনের লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আছে ১১ জনের লাশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন: দুপুরে রংপুর থেকে একটি মাইক্রোবাস রাজশাহী আসছিল। পথে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে কাটাখালী থানার সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি হিউম্যান হলারকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মাইক্রোবাসটির গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে গাড়ির ভেতরেই অনেকে মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

আবদুর রউফ আরও জানান: মাইক্রোবাসটির ভেতরে চার পরিবারের ১৩ জন ছিলেন। সবাই মারা গেছেন। এছাড়া বাসের আরও তিনজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে ১১ জনের লাশ বের করা হয়।

স্বাধীনতার এত বছর পরও দেশের সড়ক পথ নিরাপদ হলো না। আন্ত:জেলা সড়কগুলোকে উন্নত ও প্রশস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ যেন সব কাজ সেরে ফেলেছে । লাইসেন্স প্রদানের নিয়মবলীতে সংস্কার না করে, পুরনো যানবাহনগুলোকে ফিটনেস দিয়ে এখনও সড়কপথে নৈরাজ্য তৈরি করে রাখা হয়েছে। আর এসবের কারণে অহেতুক প্রায় প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু ঘটে।

তবে সরকার যে এ নিয়ে মোটেও কাজ করছে না, তা নয়। সরকার নানা সময়ে সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, এমনকি এ সংক্রান্ত আইনও পাস করেছে। এরপরও কেন অহেতুক প্রাণহানি বন্ধ হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। এজন্য কর্তৃপক্ষ যদি সড়কে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কঠোর হয়, স্বচ্ছ জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে তাহলে এই দুর্ঘটনা বন্ধ হবে। বন্ধ হবে মানুষের মৃত্যুর মিছিল। স্বাধীনতা দিবসের এই ক্ষণে এটা অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন